Advertisement
  • ভা | ই | রা | ল
  • অক্টোবর ২৪, ২০২২

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়ের পর মনে পড়ছিল প্রয়াত বাবার কথা, কেঁদে ফেলেন হার্দিক

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়ের পর মনে পড়ছিল প্রয়াত বাবার কথা, কেঁদে ফেলেন হার্দিক

দুই ভাইকে ক্রিকেটার তৈরি করবেন বলে, নিজের ব্যবসার কথা ভাবেননি হার্দিক পান্ডিয়ার বাবা হিমাংশু পান্ডিয়া। নিজের জন্মস্থান সুরাট ছেড়ে পাড়ি দেন বরোদায়। কারণ সুরাটে ক্রিকেট শেখার পরিকাঠামো একেবারেই ভাল ছিল না। বরোদায় এসে গৌড়াতে একটা ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। দুই ছেলেকে ভর্তি করে দেন কিরণ মোরে ক্রিকেট আ্যাকাদেমিতে। তারপর শুরু হয় দুই ছেলেকে ক্রিকেটার তৈরির লড়াই। সেই লড়াইয়ের দিনগুলির কথা আজও ভুলতে পারেননি হার্দিক। বারবার মনে পড়ছে প্রয়াত বাবার কথা। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়ের পর প্রয়াত বাবাকেই নিজের ইনিংস উৎসর্গ করেছেন হার্দিক। গতবছর জানুয়ারিতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন হিমাংশু পান্ডিয়া।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টি২০ বিশ্বকাপে ভারতের জয়ের পেছনে দারুণ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন হার্দিক পান্ডিয়া। বল হাতে পাকিস্তানের মিডল অর্ডারকে ভাঙার দায়িত্ব যেমন কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন, তেমনই ব্যাট হাতে দলের বিপদের সময় রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। ব্যাট হাতে করেছিলেন ৪০ রান। বিরাট কোহলির সঙ্গে জুটি বেঁধে ১১৩ রান তুলে দলের জয়ের পথ প্রশস্ত করে দিয়েছিলেন হার্দিক। দেশের নাটকীয় জয়ের পর আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন এই ভারতীয় অলরাউন্ডার। জয়ের পর প্রয়াত বাবার কথা মনে পড়ে গিয়েছিল হার্দিকের। টিভিতে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় আবেগে কেঁদে ফেলেছিলেন হার্দিক।

ম্যাচের পর সম্প্রচারকারী টিভি চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় হার্দিক বলেন, ‘‌পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে রাহুল স্যারকে বলেছিলাম, ১০ মাস আগে আমি কোথায় ছিলাম, আর এখন কোথায় আছি। এই জায়গায় পৌঁছনোর জন্য আমি কঠোর পরিশ্রম করেছি। এই ইনিংসটা আমার বাবার জন্য। তিনি বেঁচে থাকলে খুব খুশি হতেন। খেলার সুযোগ না পেলে এই জায়গায় দাঁড়াতাম কীভাবে?‌ বাবা আমাদের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আমাদের দুই ভাইয়ের ক্রিকেট খেলার জন্য অন্য শহরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আমাদের বয়স যখন ৬ বছর, তখন শহর পাল্টেছেন। সারাজীবন বাবার কাছে কৃতজ্ঞ থাকব। পাপা আমার জন্য যা করেছেন, তা আমি করতে পারব না।’‌

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়ে তাঁর ও বিরাট কোহলির সবচেয়ে বেশি অবদান থাকলেও সতীর্থদের কৃতিত্ব দিতে ভোলেননি হার্দিক। ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই না করলে এই জয় আসত না বলে মনে করেন হার্দিক। তিনি বলেন, ‘‌একেই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ, তার ওপর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। তাই ম্যাচটা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমি ও বিরাট কোহলি হয়তো ভাল খেলেছি, কিন্তু দলের এই জয় সকলের অবদান রয়েছে। অর্শদীপ, সামি, ভুবনেশ্বর অসাধরণ বোলিং করেছিল। সূর্যকুমার যাদব যে চারটি বাউন্ডারি মেরেছিল, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।’‌


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!