- দে । শ ভা | ই | রা | ল স | হ | জ | পা | ঠ
- মে ৩০, ২০২৫
গলছে বরফ, হিন্দুকুশ হিমালয়ে ঘনিয়ে আসছে বিপর্যয়ের ছায়া। এশিয়ার দু-শো কোটির বেশি মানুষ জলসংকটের মুখোমুখি
পর্বতের চূড়ো থেকে গড়িয়ে পড়ছে ভবিষ্যতের সংকট। দ্রুত হারে গলতে থাকা হিমালয়ের বরফজলে চাপা পড়তে চলেছে এশিয়ার দুশো কোটিরও বেশি মানুষের ভবিষ্যৎ। বিজ্ঞানীরা হুঁশিয়ার করছেন— বর্তমান হারে উষ্ণায়ন চলতে থাকলে শতাব্দীর শেষে হিন্দু কুশ হিমালয়ের ৭৫ শতাংশ হিমবাহ হারিয়ে যাবে। ‘সায়েন্স’ পত্রিকায় প্রকাশিত, এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা যদি আগের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যায়, তবে হিমালয়ের হিমবাহের তিন-চতুর্থাংশ গলে যাবে। প্রভাব পড়বে গঙ্গা, ইন্দাস, ব্রহ্মপুত্র-সহ একাধিক প্রধান নদীর জলপ্রবাহে। সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়বেন এশিয়ার দু-শো কোটি মানুষ, যাঁরা ওই নদীগুলির জলেই বেঁচে থাকার রসদ খুঁজে নেন।
আশার আলো একটাই— যদি প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী পৃথিবীর উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা যায়, তবেই হিমালয় ও ককেশাস অঞ্চলের ৪০-৪৫ শতাংশ বরফ সংরক্ষিত রাখা যাবে। কেবলমাত্র ওই পরিস্থিতিতেই পৃথিবীর মোট হিমবাহের ৫৪ শতাংশ টিকিয়ে রাখা সম্ভব। কিন্তু যে নীতিতে বিশ্ব চলছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে ২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উষ্ণতা বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। আর তা যদি ঘটে, সারা বিশ্বের তিন-চতুর্থাংশ হিমবাহ চিরতরে হারিয়ে যাবে। ভূ-গবেষক বিজ্ঞানী হ্যারি জেকোলারির জানিয়েছেন, ‘বর্তমানে প্রতি দশমিক ডিগ্রির পরিবর্তনই ব্যাপক পার্থক্য তৈরি করছে। আমাদের আজকের সিদ্ধান্তই ঠিক করবে এ শতাব্দীর শেষে পৃথিবীতে হিমবাহ থাকবে, না কি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।’ এমনকি যদি আগামী দিনে উষ্ণতা বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়, তবুও হিমবাহ গলে যাবে কয়েক দশক ধরে। শতাব্দীজুড়ে ধীরে ধীরে ক্ষয় চলবে। ১০টি দেশের ২১ জন বিজ্ঞানী, ৮টি পৃথক হিমবাহ মডেলের সাহায্যে ২ লক্ষেরও বেশি হিমবাহের এমনই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করেছেন।
ইউরোপীয় আল্পস, আমেরিকার রকি পর্বতমালা, আইসল্যান্ড-সহ যেসব অঞ্চলে মানুষের জীবন ও অর্থনীতি পর্বতমালার সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত, সেগুলির অবস্থাও ভয়াবহ হতে চলেছে। গবেষণায় উঠে আসছে, যদি তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায়, তবে এই অঞ্চলগুলির ২০২০ সালের বরফের মাত্র ১০-১৫ শতাংশ অবশিষ্ট থাকবে। স্ক্যান্ডিনেভিয়ার ক্ষেত্রে চিত্র আরো ভয়াবহ, ওখানে হিমবাহর অল্পকিছুও বাকি থাকবে না। গবেষণার আশঙ্কাজনক তথ্য প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে দুশানবেতে শুরু হয়েছে প্রথম রাষ্ট্রসংঘ গ্লেশিয়ার সম্মেলন। ৫০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি, যার মধ্যে ৩০টি দেশের প্রতিনিধি মন্ত্রিসভার স্তরের বা তার চেয়েও উচ্চপর্যায়ের কর্তারা উপস্থিত হয়েছেন। সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এশিয়ার উন্নয়ন ব্যাঙ্কের সহ-সভাপতি ইয়িংমিং ইয়াং বলেন, ‘হিমবাহের দ্রুত, ভয়াবহ গলন অভূতপূর্বভাবে আমাদের জীবনে প্রভাব ফেলছে। শুধু জল নয়, জীবিকা, কৃষি, বসবাস— সব কিছুর ওপরেই ঘনিয়েছে দুর্যোগের কালো মেঘ।’ তাঁর পরামর্শ, ‘প্রাকৃতিক শক্তির ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব জ্বালানিকে অগ্রাধিকার আর কঠোরভাবে দূষণ কমানোর পথে হাঁটাই, এই মূহূর্তে একমাত্র উপায়।’ পাশাপাশি, ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলির জলবায়ু পরিস্থিতির কথা ভেবে, তিনি জোর দিলেন তহবিল সংগ্রহের ওপর।
❤ Support Us






