- এই মুহূর্তে দে । শ
- জানুয়ারি ৩১, ২০২৫
স্যালাইনকান্ডে মুম্বাইয়ের সংস্থাকে নিষিদ্ধ করল স্বাস্থ্য ভবন
স্বাস্থ্য দফতর বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, ওই সংস্থা চুক্তিমতো ওষুধ সরবরাহ করেনি। সংস্থাটিকে তলব করা হয়েছিল। কিন্তু তার জবাব দেয়নি সংস্থার কর্তারা। আগামী দিনে ইন্টার মেডিক্যাল স্টোরের কোনও টেন্ডারে অংশগ্রহণ করতে পারবে না ওই কোম্পানি।
মেদিনীপুরের প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়েছিল রাজ্য। বিক্ষোভের মুখে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের বিশেষ দল ‘পশ্চিমবঙ্গ ফার্মাসিউটিক্যালস’ নামে একটি ওষুধ উৎপাদনকারী সংস্থার তৈরি ‘রিঙ্গার্স ল্যাকটেট’ স্যালাইন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। পরে ওই সংস্থার তৈরি আরও ১৩টি ওষুধ ব্যবহার করতে বারণ করা হয়েছিল হাসপাতালগুলিকে। সে ঘটনার রেশ এখনো কাটেনি, এবার মুম্বইয়ের ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা জেন ফার্মা প্রাইভেট লিমিটেডকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করল স্বাস্থ্য ভবন।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, ওই সংস্থা চুক্তিমতো ওষুধ সরবরাহ করেনি। সংস্থাটিকে তলব করা হয়েছিল। কিন্তু তার জবাব দেয়নি সংস্থার কর্মকর্তারা। আগামী ৩ বছরের জন্য মুম্বইয়ের সংস্থা জেন ফার্মা প্রাইভেট লিমিটেডের থেকে কোনও রকম ওষুধপত্রের সরবরাহ নেবে না রাজ্য। ওষুধ প্রস্তুতকারী এই কোম্পানি বাংলাকে ওষুধ সরবরাহের তালিকায় এনলিস্টেড ছিল। কিন্তু আগামী দিনে ইন্টার মেডিক্যাল স্টোরের কোনও টেন্ডারে অংশগ্রহণ করতে পারবে না এই কোম্পানি। তিন বছরের জন্য মুম্বইয়ের এই ওষুধ নির্মাণকারী সংস্থাকে ‘কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে।
বর্তমান অর্থবর্ষে যে পরিমাণ ওষুধ মুম্বইয়ের এই সংস্থার রাজ্যকে সরবরাহ করার কথা ছিল, তা করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি কোম্পানিকে শোকজ করলেও তাদের তরফে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। এই কোম্পানির তরফে কাউকে ডেকে পাঠানো হলে সেখানেও কেউ আসেনি। এমনই সব গুরুতর অভিযোগ উঠেছে মুম্বইয়ের জেন ফার্মা প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে। আর এইসব অভিযোগ খতিয়ে দেখে তারপর মুম্বইয়ের এই সংস্থাকে ব্ল্যাকলিস্টেড করেছে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য দফতর।
অন্যদিকে রাজ্যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠতেই, নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্য দফতর। বারুইপুরের একটি ওষুধ নির্মাণকারী সংস্থাকেও উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোল। জানা গিয়েছে, বারুইপুরের সংস্থা ফার্মা ইমপেক্স ল্যাবরেটরিজ প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছিল স্টেট ও সেন্ট্রাল ড্রাগ কন্ট্রোলের কাছে। এইসব অভিযোগের ভিত্তিতেই ২১ থেকে ২৩ জানুয়ারি, তিনদিন ধরে এই সংস্থার বারুইপুরের কারখানায় ইনসপেকশন চালায় সেট ও সেন্ট্রাল ড্রাগ কন্ট্রোল, যার নাম দেওয়া হয় রিস্ক ফ্যাক্টর অ্যাসেসমেন্ট। এই অভিযানের গিয়ে তদন্তকারী কর্তারা দেখেন, ওষুধ তৈরির বিভিন্ন কারখানার যে গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস থাকে তার নিরিখে ২টি স্তরে পাশ করতে পারে নি বারুইপুরের এই ওষুধ নির্মাণকারী সংস্থা। ২৯ জানুয়ারি উৎপাদন বন্ধ করবার সমন পাঠানো হয়। স্টেট এবং সেন্ট্রাল ড্রাগ কন্ট্রোলের দল এই মুহূর্তে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ওষুধের গুণগত পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও অষুধ কারখানার আড়ালে অবৈধ ‘ড্রাগ’ প্রস্তুত বা সংরক্ষণ করা হচ্ছে কি না তার তল্লাসী চালানো হচ্ছে যোথ তদন্তদলের তরফে। সম্প্রতি গুজরাট, রাজস্থানের অষুধ কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার হয়েছে।
❤ Support Us







