- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ১০, ২০২৫
জ্বলছে দিল্লি! উত্তরের রাজ্য জুড়ে জারি তাপপ্রবাহের সতর্কতা। বাংলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস
বৈচিত্র্যের দেশ ভারত। ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাসের মতো ভূগোলও বিচিত্র। আবহাওয়া এখানে বৈচিত্রপূর্ণ। রাজ্যের তারতম্যে তো বটেই, এক রাজ্যের, এক অংশের থেকে অন্য জায়গার প্রকৃতির মেজাজ অন্যরকম। একদিকে শীতল তো অন্যদিকে দদ্ধভূমি। প্রাক বর্ষার এই মূহূর্তে তাপপ্রবাহে দগ্ধ হচ্ছে দিল্লি সহ গোটা উত্তর ভারত। একদিকে উত্তপ্ত পিচঢালা রাস্তা, অন্যদিকে মাথার উপর তপ্ত রোদ— সেই সঙ্গে আর্দ্রতা এবং ধুলোবালি। সোমবার রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এ বছরের জুনে এখন পর্যন্ত যা সর্বোচ্চ। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস, সপ্তাহের মাঝামাঝি তা ৪৫ ছুঁয়ে ফেলতে পারে। মৌসম ভবন ইতিমধ্যেই জারি করেছে ‘হলুদ’ ও ‘লাল’ সতর্কতা।
মঙ্গলবার, সকাল সাড়ে আটটায় রাজধানীতে আর্দ্রতার মাত্রা ছিল ৪৮ শতাংশ। আর দিনের শুরুতেই তাপমাত্রা ছিল ২৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফলে সকাল থেকেই অসহনীয় গরমে হাঁসফাঁস দিল্লিবাসী। ঝাঁঝালো গরম হাওয়া স্বস্তি দেবে ভাবলে ভুল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়বে গরম ও অস্বস্তিও। এমন গরমে বাড়ি থেকে বের হওয়াই দুষ্কর হয়ে পড়েছে। স্কুল, অফিস সবখানেই চলছে কাজের ফাঁকে ঠাণ্ডা জল খাওয়া আর ঘাম মুছে নেওয়ার কসরত। ইতিমধ্যেই দিল্লিতে ‘হট অ্যান্ড হিউমিড’ আবহাওয়ার জন্য জারি হয়েছে ‘হলুদ সতর্কতা’। কমপক্ষে ৪-৫ দিন এ রকম পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে বলে জানিয়েছে মৌসম ভবন। তার উপরে রয়েছে মাত্রারিক্ত বায়ুদূষণ। সোমবার সকালে বায়ু গুণমান সূচক রেকর্ড হয়েছে ২১৯, যা ‘খারাপ’ স্তরের মধ্যে পড়ে। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নিরিখে, বায়ুসূচক যদি ২০১ থেকে ৩০০-র মধ্যে থাকে তবে সেটি ‘খারাপ’ হিসাবে চিহ্নিত হয়। চিকিৎসকদের মতে, এমন আবহাওয়ায় দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি আর চোখ জ্বালা করার মতো সমস্যা আরো বেড়ে যেতে পারে। শিশু ও প্রবীণদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি।
শুধু দিল্লি নয়, একই অবস্থা গোটা উত্তর ভারতেই। পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ থেকে শুরু করে জম্মু ও কাশ্মীর ও লাদাখ— সর্বত্রই জারি হয়েছে তাপপ্রবাহের সতর্কতা। কোথাও ‘কমলা’ তো কোথাও ‘লাল’ সতর্কতা। রাজস্থানের শ্রী গঙ্গানগরে সোমবার পারদ পৌঁছেছে ৪৭.৩ ডিগ্রিতে। হানুমানগড়, ঝাঁসি, আগ্রা— সর্বত্রই ছুঁয়েছে ৪৬-এর ঘর। হরিয়ানার সিসরায় তাপমাত্রা ৪৬.৪ ডিগ্রি, রোহতকে ৪৫.৬ ডিগ্রি। চণ্ডীগড়ের রেকর্ডও ছুঁয়েছে ৪৩.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের জুন মাসে গরমের প্রকোপ অনেক বেশি। মে মাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪২.৩°সেন্টিগ্রেট, কিন্তু জুনের ৯ তারিখেই তা ছাড়িয়েছে ৪৪। অনুভূত তাপমাত্রা আরও বেশি— প্রায় ৪৯ ডিগ্রির কাছাকাছি। বৃষ্টির আগে ও মাঝে থাকবে অস্বস্তিকর গরম ও গুমোট ভাব। কলকাতায় সোমবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৯.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে প্রায় ১.৯ ডিগ্রি বেশি। মঙ্গলবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫.৪ ডিগ্রি— স্বাভাবিকের কাছাকাছি হলেও আর্দ্রতার কারণে গরম লাগবে বেশি। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে বর্ষা আগেই ঢুকে পড়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, দুই দিনাজপুর, মালদহ ও কোচবিহারে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে চলতি সপ্তাহ জুড়েই। তবে এখনই ভারী বৃষ্টির কোনও সতর্কতা নেই।
তীব্র তাপদহনে পুড়ছে বাংলা-ও। মে মাসের শেষে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত হলেও, জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে রোদ আর অস্বস্তিকর গরমে নাজেহাল হতে হচ্ছে বঙ্গবাসীকে। তবে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গে ফের সক্রিয় হচ্ছে প্রাক্-বর্ষার বৃষ্টি। সপ্তাহের মাঝামাঝি ফের বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। সঙ্গে বইতে পারে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া। ইতিমধ্যেই একাধিক জেলায় জারি হয়েছে হলুদ সতর্কতা। সপ্তাহের শুরু, অর্থাৎ সোমবার ও মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জেলাতেই আবহাওয়া থাকবে মূলত শুষ্ক। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ ও বীরভূমে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবে বুধবার থেকে পরিস্থিতির বদল ঘটবে। আলিপুর হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস, ১১ ও ১২ জুন অর্থাৎ বুধবার ও বৃহস্পতিবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ঘন্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বিশেষত উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বীরভূম, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদে। ওই দিনগুলিতে ওই জেলাগুলিতে জারি করা হয়েছে হলুদ সতর্কতা।
এ দিকে বর্ষা আগেভাগে শুরু হলেও দক্ষিণ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের চিত্র সম্পূর্ণ আলাদা। কেরলে টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন বহু এলাকা। ধসে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩ হাজার বাড়ি। প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪০ জন। একাধিক জেলায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন। তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা ও অসম, মেঘালয় সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্যে ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতা জারি হয়েছে। উত্তরে যখন মানুষ তাপপ্রবাহে দিশেহারা, দক্ষিণ ও উত্তর-পূর্বে তখন জলযন্ত্রণা। এমন অবস্থায় মৌসম ভবনের পরামর্শ, বাইরে না বেরনোই ভালো। বাড়িতে থাকুন, পর্যাপ্ত জল খান, হালকা সুতির পোশাক পরুন। তবেই খানিক স্বস্তি মিলবে। আবহাওয়া দফতরের মতে, আগামী সপ্তাহেই বর্ষা পৌঁছতে পারে উত্তর ভারতের কিছু অংশে। এর ফলে তাপপ্রবাহ থেকে সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে। কিন্তু ততদিন, গরমই সঙ্গী রাজধানী ও তার আশপাশের রাজ্যগুলির।
❤ Support Us







