Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫

রাজ্যের মনোভাবে অসন্তোষ হাইকোর্টের, চিংড়িঘাটায় মেট্রোর বকেয়া কাজ শেষ করতে সময়সীমা নির্ধারণ হাইকোর্টের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
রাজ্যের মনোভাবে অসন্তোষ হাইকোর্টের, চিংড়িঘাটায় মেট্রোর বকেয়া কাজ শেষ করতে সময়সীমা নির্ধারণ হাইকোর্টের

চিংড়িঘাটায় মেট্রোরেলের দীর্ঘদিনের বকেয়া কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চিংড়িঘাটার মেট্রোর বকেয়া কাজ সম্পূর্ণ করতেই হবে। সেই সঙ্গে রাজ্য সরকার ও ট্রাফিক পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ৬ জানুয়ারির মধ্যে জানাতে হবে কোন কোন দিনে রাস্তা বন্ধ রাখা যাবে, যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা যায়।

চিংড়িঘাটায় মেট্রোরেলের বকেয়া কাজ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জট তৈরি হয়েছে। সেই জট কাটাতে গত ৪ সেপ্টেম্বর সব পক্ষের একটি বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ঐক্যমত্য হলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। এমনকি আদালতের নির্দেশে ১৭ ডিসেম্বর ফের বৈঠক বসার পরও কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা যায়নি। এর ফলে মঙ্গলবার ফের ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত।

ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “এখন বিভিন্ন উৎসবের সময়—এটা কোনও অজুহাত হতে পারে না। ভারতবর্ষ উৎসবের দেশ। মেট্রোরেলের কাজে বৃহত্তর জনগণের স্বার্থ জড়িয়ে রয়েছে। তা সত্ত্বেও রাজ্যের মনোভাবে আমরা সন্তুষ্ট নই। বারবার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় আমাদের কড়া নির্দেশ দিতে হচ্ছে।”

এর আগের শুনানিতেও রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল আদালত। তবুও পরিস্থিতির কোনও বাস্তব সমাধান না হওয়ায় আদালত এবার সময়সীমা বেঁধে নির্দেশ দিল।

শুনানিতে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত জানান, “ফেব্রুয়ারির আগে কোনওভাবেই পিলার তৈরির কাজের অনুমোদন দেওয়া সম্ভব নয়। গঙ্গাসাগর উৎসব তার প্রধান কারণ।”

তবে এ যুক্তি মানতে নারাজ আদালত। প্রধান বিচারপতি বলেন, “আমাদের দেশে একটি উৎসব শেষ হলেই আরেকটি শুরু হয়। উৎসবের অজুহাতে কাজ বন্ধ রাখা যায় না।”

রাজ্যের তরফে আরও জানানো হয়, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত রাজ্যে ফেস্টিভ সিজন চলে, তার পর গঙ্গাসাগর মেলা। এই সময়ে চিংড়িঘাটায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা হলে কলকাতার ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। ওই এলাকায় একাধিক হাসপাতাল থাকায় প্রতি দু’-তিন মিনিট অন্তর অ্যাম্বুল্যান্স চলাচল করে, ফলে এলাকা অত্যন্ত সংবেদনশীল ও দুর্ঘটনাপ্রবণ বলেও দাবি করা হয়।

অন্যদিকে আরভিএনএল-এর বক্তব্য, “ফেব্রুয়ারিতে কাজ শুরু হলে বিভিন্ন বোর্ডের পরীক্ষা চলবে, তাতে পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতে সমস্যা হতে পারে। আমরা মাত্র তিন রাত সময় চাইছি। এই কাজ শেষ হলেই নিউ গড়িয়া থেকে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা চালু করা সম্ভব হবে। যত দেরি হবে, তত খরচ বাড়বে।”

সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়,  রাজ্য সরকার ও ট্রাফিক পুলিশকে ৬ জানুয়ারি ২০২৬-এর আগে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে, যাতে ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই চিংড়িঘাটার মেট্রোর বকেয়া কাজ সম্পূর্ণ করা যায়।

আদালতের এই কড়া অবস্থানের ফলে অবশেষে চিংড়িঘাটায় মেট্রোর কাজ দ্রুত এগোবে বলেই মনে করা হচ্ছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!