Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • আগস্ট ৯, ২০২৩

জবাবি ভাষণে অমিত নিশানায় বিরোধীরা । ব্যর্থ হবে অনাস্থা প্রস্তাব, আগামী দিনে মোদিই ফিরবেন ক্ষমতায়, মন্তব্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জবাবি ভাষণে অমিত নিশানায় বিরোধীরা । ব্যর্থ হবে অনাস্থা প্রস্তাব, আগামী দিনে মোদিই ফিরবেন ক্ষমতায়, মন্তব্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

সংসদীয় বিতর্কে শাসক শিবিরের পক্ষে জোরালো সওয়াল করলেন অমিত শাহ। বিরোধী ইণ্ডিয়া জোটকে শাণিত বাক্যবাণে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ব্যর্থ হবে জোটবদ্ধ বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব। আগামী দিনে নরেন্দ্র মোদিই আবার ক্ষমতায় আসবেন। প্রসঙ্গত অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর চলা বিতর্কের দ্বিতীয় দিনের শুরুতে রাহুল গান্ধি সরকারের সমালোচনায় সরব হন । বেলা গড়াতেই তাঁরই যেন যোগ্য জবাব দিলেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

নিজের ভাষণের শুরু থেকে অত্যন্ত রূঢ়ভাবে আক্রমণ করেন বিরোধীদের দ্বারা গঠিত ইণ্ডিয়া জোটকে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে কংগ্রেসের শাসনের একের পর এক কলঙ্কজনক অধ্যায়ের কথা। দলের চিরাচরিত রীতি মেনেই কংগ্রেসকে ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী মোদি এদিন সংসদে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর পক্ষে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর যদি কোনও সরকারের ওপর সবথেকে বেশি আস্থা থাকে, তা হল মোদি সরকার। ৩০ বছর পর পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সঙ্গে জনাদেশ পেয়ে ক্ষমতায় আসীন হয়েছেন কোনো প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, কোনও ছুটি না নিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৭ ঘণ্টাই কাজ করে যান তিনি। তাই আবারও যে জনগণ দেশ শাসনের জন্য তাঁর কাঁধে দায়িত্ব অর্পণ করবে সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত।

মণিপুর প্রসঙ্গেও বিরোধীদের ধারাবাহিক অভিযোগের জবাব দেন শাহ। তিনি বলেন,   মণিপুরে যা হয়েছে, তাকে সমাজের কলঙ্ক। একই সঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, যাঁরা ওই ভিডিয়ো করেছিলেন বা যাঁরা ওই ভিডিয়ো হাতে পেয়েছিলেন, তাঁরা ওই ভিডিয়ো পুলিশের হাতে তুলে না দিয়ে সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলেন কেন?  তিনি আরো  বললেন,  সরকার যথেষ্ট তৎপরতার সঙ্গেই কাজ করেছে। যদি রেকর্ড দেখা যায়, তাহলে দেখা যাবে ওই ভিডিয়ো হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ তৎক্ষণাত পদক্ষেপ করেছিল।  হিংসা উপদ্রুত রাজ্যে কতজনের মৃত্যু হয়েছে, তারও হিসাব দিলেন শাহ। বললেন, মণিপুরে হিংসায় এখনও পর্যন্ত ১৫২ জন মারা গিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে  তিনি আরো  বলেন,   ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে অন্তত ৫০ বার উত্তর-পূর্ব ভারতে গিয়েছেন, অথচ মণিপুর নিয়ে এঁরা প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করছেন। যাঁরা এতটা সরব তাঁরা উত্তর-পূর্ব ভারতের জন্য কী করেছে? আমাকে একজন প্রধানমন্ত্রী দেখান তো যিনি ১০ বছর বা তার বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী থাকার পরও এত বার উত্তর-পূর্ব ভারতে গিয়েছেন? মণিপুরের হিংসা লজ্জার,কিন্তু মণিপুর নিয়ে যে রাজনীতি চলছে তা লজ্জায় মাথা হেঁট করে দেয়। বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে তাঁর মন্তব্য, সাধারণ মানুষকে ভুল পথে চালনা করতেই বিরোধীদের এই অনাস্থা প্রস্তাব। দেশবাসীর জন্য এটা কোনোমতেই কার্যকরী নয়।

একই সঙ্গে মোদি সরকারের নয় বছরের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন শাহ। তথ্য ও পরিসংখ্যান সহকারে বলেন, নতুন সরকার আসার পর কৃষকদের স্বনির্ভর করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওঁদের ঋণ মাফ করিনি, ওঁদের যাতে আর ঋণ নিতেই না হয়, সেই ব্যবস্থা করেছে এই সরকার। ইউপিএ ক্ষমতায় থাকাকালে  যে পরিমাণ ধান-গম কিনত তার দ্বিগুণেরও বেশি ক্রয় করেছে  বর্তমান প্রশাসন। আর আগের সরকার যে দাম দিয়ে ধান-গম কিনেছে, তার থেকে অনেক বেশি দাম দিয়ে কৃষকদের থেকে ধান এবং গম কিনেছে সরকার। অর্থাৎ আমরা কৃষকদের থেকে বেশি শস্য কিনেছি, বেশি দাম দিয়েও কিনেছি।

পরিসংখ্যানের  সাহায্যে তিনি  নতুন  সরকারের সঙ্গে আগের সরকারের তফাত কতটা তা তুলে ধরেন। তাঁর দাবি,  কৃষকদের ঋণ মুক্ত করা থেকে শুরু করে গরীব মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা দেওয়া এমনকি, তাঁদের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখার কাজও করে এই সরকার। কমিশন ছাড়া আগের সরকার কিছু করেনি। এই সরকার সরাসরি জনতার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়েছে। ওরা বলে, এই প্রকল্প কারা এনেছিল, ওই উদ্যোগ কারা নিয়েছিল। আমার বক্তব্য, ঠিকই বলেছেন। আপনারা শুধু বলেছেন। আমরা কাজে করে দেখিয়েছি। ওদের কথায় এবং কাজে ফারাক ছিল। আমাদের নেই। আত্মপ্রচারের ঢং-য়ে  মোদি সরকারের গুণগান করে যান তিনি।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!