Advertisement
  • প্রচ্ছদ রচনা
  • জুলাই ৫, ২০২২

দেবদেবীকে কে কীভাবে দেখবেন সেটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়, বললেন মহুয়া

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দেবদেবীকে কে কীভাবে দেখবেন সেটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়, বললেন মহুয়া

মঙ্গলবার ইন্ডিয়া টুডে’র ইস্ট কনক্লেভে ‘কালী’ তথ্যচিত্রের বিতর্কিত পোস্টারকে ঘিরে তৃণমূলের সাংসদ মহুয়া মিত্রকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বললেন, নিজের দেবদেবীকে কে কীভাবে দেখবেন, সেটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। আপনি যদি ভুটান বা সিকিমে যান, তাহলে দেখবেন সকালে পুজোর সময় তাঁরা দেবদেবীকে হুইস্কি পরিবেশন করছেন । এবার উত্তরপ্রদেশে গিয়ে বলেন ভগবানকে প্রসাদ হিসেবে হুইস্কি দেওয়া হচ্ছে তাহলে তাঁরা সেটাকে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত বলবেন।

সম্প্রতি লীনা মানিমেকালাইয়ের ‘কালী’ তথ্যচ্চিত্রের পোস্টার নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। পোস্টারে মা কালীর বেশে এক মহিলার ঠোঁটে জ্বলন্ত সিগারেট ।কিছু সংখ্যক বিতর্কপ্রবণ লোক লীনার বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ এনেছেন। পরিচালককে গ্রেফতারির দাবিও উঠেছে। দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশে দায়ের এফআইআর হয়েছে। লীনা বলেছেন, ‘ভালোবাসাকে বেছে নিন, ঘৃণাকে নয়।’ কানাডার সংস্কৃতিক বৈচিত্র্য নিয়ে ছবি বানানোর জন্য টরেন্টো মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে আমি ছবিটি তৈরি করি। এতে অভিনয়ও করেছি। কাহিনি একটি সন্ধ্যার, টরেন্টোর রাস্তায় মা কালী আবির্ভূত হয়েছেন। আমার কালী বর্ণবিদ্বেষের বিরোধী । ভালোবাসাই যে শ্রেষ্ঠ ধর্ম, সেটাই ছবির মর্মকথা ।

যোগী রাজ্যে দেবদেবীকে অপমান করার অভিযোগে একজন মাংস বিক্রেতাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে । তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, দেবদেবীদের ছবি সম্বলিত কাগজে মুড়ে মাংস বিক্রি করছিলেন তিনি । উত্তরপ্রদেশের সম্বল এলাকার ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে হইচই শুরু হয় । পুলিশ দোকানটিতে হানা দিতেই নাকি মাংস বিক্রেতা ছুরি নিয়ে তাদেঁর উপর চড়াও হন। অভিযুক্ত মাংস বিক্রেতার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩ ধারায় (ক) বিদ্বেষ তৈরি, ২৯৫ ধারায় ভিন্ন (ক) ধর্মালম্বীদের অপমান এবং খুনের চেষ্টার ৩০৭ ধারায় মামলা করা হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ধর্মের দোহাই দিয়ে যোগী সরকার সংখ্যালঘুদের কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে ।

নুপূর শর্মার বিতর্কিক মন্তব্য নিয়ে হইচই শুরু হওয়ার পর থেকে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানার অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। যাঁরা অলটপকা মন্তব্য করছেন, তাঁরা দ্বায়িত্বজ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক । ব্যক্তি স্বাধীনতা আর বাক স্বাধীনতা সীমা থাকা দরকার। সীমা লঙ্ঘন মানেই স্বেচ্ছাচারিতা । ভারতীয় ধর্মবোধ এবং সহিষ্ণুতার প্রতি শ্রদ্ধা পোষণ গণতন্ত্রের অন্যতম শর্ত । ব্যক্তগত মতামত ব্যক্ত করে কেউই গণতন্ত্রের অর্পিত শর্তের অপব্যবহার করতে পারেন না। রবীন্দ্রনাথ থেকে সত্যজিৎ, জীবনানন্দ থেকে বিনয় মজুমদারের মতো কোনও মহান স্রষ্ঠা ধর্মীয় ভাবাবেগ নিয়ে বাড়াবাড়ি করেন নি । আবার ধর্মের কঠিন পাষাণকে বরদাস্ত করেন নি । যা সত্য সেটাই তাঁদের শিল্পের, তাঁদের সাধনার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ । রাজনীতি যখন ধর্মের অপব্যবহার শুরু করে কিংবা সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরুর মাঝামাঝি দেওয়াল তুলতে গিয়ে ধর্মের জিগির তুলতে থাকে তখনই সমাজে সঙ্কট তৈরি হয় । রাষ্ট্র আর অনুশাসিত ধর্ম একে অন্যের সহযোগী হয়ে উঠলেই দেশের বিপদ, রাষ্ট্রেরও বিপদ ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!