- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৫
উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড়ি রাজ্যে গা-জোয়ারি উন্নয়ন আর অবৈধ বৃক্ষনিধনেই বিপর্যয়? সুপ্রিম কোর্টের কড়া নোটিস
অতিবৃষ্টি, ভূমিধস আর বন্যার দাপটে বিপর্যস্ত উত্তর ভারতের পাহাড় অধ্যুষিত রাজ্যগুলি। এরই মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট আঙুল তুলল এক ভয়ঙ্কর বাস্তবের দিকে— অবৈধ বৃক্ষনিধন ও গা-জোয়ারি উন্নয়ন। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি বি. আর. গাভাইয়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানাল, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেই প্রমাণ মেলে যে, বন্যার জলে বিপুল পরিমাণ কাঠ ভেসে চলেছে। যা থেকেই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে, নির্বিচারে গাছ কাটা হয়েছে। আর তার ফলেই ভয়াবহ আকার নিচ্ছে পাহাড়ি রাজ্যগুলির প্রাকৃতিক দুর্যোগ। পাশাপাশি অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উন্নয়নের চেষ্টা ও অবৈধ নির্মাণের দিকেও ইঙ্গিত দিয়েছেন বিচারপতি।
প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ‘আমরা উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ, পঞ্জাবে নজিরবিহীন ভূমিধস ও বন্যা প্রত্যক্ষ করেছি। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, বন্যার স্রোতে বিপুল পরিমাণ কাঠ ভেসে গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, অবৈধ বৃক্ষনিধনই এর মূল কারণ।’ শীর্ষ আদালত এদিন কেন্দ্র, জাতীয় বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলিকে নোটিস জারি করে বলেছে, এ নিয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা ৩ সপ্তাহের মধ্যে জানাতে হবে। এরপরই বেঞ্চের কড়া মন্তব্য—উন্নয়ন চাই, কিন্তু উন্নয়নকে প্রকৃতির বিনাশের বিনিময়ে হতে দেওয়া যায় না। শীর্ষ আদালত কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতাকে নির্দেশ দিয়েছে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে। বেঞ্চের নির্দেশ, ‘সলিসিটর জেনারেল অবিলম্বে নোট নিন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর।’ জবাবে মেহেতাও আদালতের পর্যবেক্ষণ কার্যত মেনে নিয়ে জানান, ‘আমরা প্রকৃতির সঙ্গে এতটাই দুর্ব্যবহার করেছি যে, প্রকৃতি আজ প্রতিশোধ নিচ্ছে। এর কারণগুলো খতিয়ে দেখা জরুরি।’
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় জল কমিশনের রিপোর্ট ভয়ঙ্কর ছবি উঠে এসেছে। গোটা দেশে একুশটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে নদীর জলস্তর ভয়াবহ বন্যার পর্যায়ে। আরো ৩৩টি কেন্দ্রে জলস্তর স্বাভাবিকের উপরে। দিল্লির যমুনা নদী রেলসেতু সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি। উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির মধ্যে সবচেয়ে বিপর্যস্ত হিমাচল, উত্তরাখণ্ড ও জম্মু-কাশ্মীর। ভয়াবহ অবস্থা পাঞ্জাব, বিহার ও উত্তরপ্রদেশও। বিহারের ৯টি, উত্তরপ্রদেশের ৮টি নদী পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে ভয়াবহ বন্যা চলছে। জম্মু-কাশ্মীর, পাঞ্জাব, পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের একাধিক জায়গায়ও আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি। গঙ্গা, কোসি, গণ্ডক, বুড়ি গণ্ডক—সবকটি নদী ভরপুর, ভাগলপুর, পাটনা, খাগাড়িয়া ও সিওয়ানে অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশে যে কোনো সময়ে আবারো অতিবৃষ্টি নামতে পারে। বিয়াস, সুতলজ, চেনাব, রাভি, অলকানন্দা ও ভাগীরথীর জলস্তর হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা। জম্মু-কাশ্মীরের কিশ্তওয়ার, ডোডা, কাঠুয়া, আনন্তনাগ ও পুলওয়ামায় হুঁশিয়ারি জারি হয়েছে।
দক্ষিণেও একই হাল। কাবেরী অববাহিকার মেট্টুর, কাবিনী, হেমাবতী ও কৃষ্ণরাজসাগর বাঁধ প্রায় উপচে পড়ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নিম্ন অববাহিকায় ভয়াবহ বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। প্রধান জলাধারগুলিতে—উকাই, সরদার সরোবর, তেহরি, হাতনিকুণ্ড, কোয়না, হিরাকুদ—জলপ্রবাহ ইতিমধ্যেই বিপজ্জনক মাত্রা ছাড়িয়েছে। ফলে একদিকে আদালতের কড়া হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে প্রকৃতির চরম প্রলয়, উত্তর থেকে দক্ষিণে দেশজুড়ে যেন এক অশুভ সঙ্কেত স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
❤ Support Us







