- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৫
ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত একাধিক রাজ্য, হিমাচল-পাঞ্জাব-কাশ্মীরে জারি ‘রেড অ্যালার্ট’
একটানা বর্ষণে বিপর্যস্ত একাধিক রাজ্য। বুধবার কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, ওড়িশা ও পাঞ্জাবের জন্য জারি করেছে ‘রেড অ্যালার্ট’। স্রোতস্বিনী নদী, পাহাড়ি ধস, বাঁধ ভাঙন ও ঘরবাড়ি ধসে রাজ্যগুলি থেকে মৃত্যুর খবর আসছে একের পর এক। বহু গ্রাম শহর আজ কার্যত জলের তলায়।
পাঞ্জাবে পরিস্থিতি ভয়াবহ। ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩০ জন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা সাড়ে ৩ লক্ষ ছাড়িয়েছে। রাজ্যের সব ২৩টি জেলাকে বন্যাপীড়িত ঘোষণা করেছে আপ সরকার। শিক্ষামন্ত্রী হরজোত সিং বাইনস জানিয়েছেন, ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সমস্ত স্কুল, কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরে কেবল আগস্ট মাসেই স্বাভাবিকের তুলনায় ৭৪ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে পাঞ্জাবে, যা গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ফলে, বৃষ্টিমাখা জলে উপচে পড়ছে নদী, বাঁধগুলি নাচছে টগবগে ঘোলাটে জলে। রাজ্যপাল গুলাবচাঁদ কাটারিয়া ও মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান আলাদাভাবে দুর্গত এলাকা ঘুরে দেখছেন। অন্যদিকে, ছত্তিশগড়ের বলরামপুর জেলায় মঙ্গলবার গভীর রাতে বাঁধ ভেঙে আচমকা বন্যাপরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। লুতি জলাধারের দেওয়াল ভেঙে পড়লে জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যান বহু মানুষ ও ঘরবাড়ি। ৪ জনের দেহ উদ্ধার করা গেলেও এখনো নিখোঁজ অন্তত ৩ জন।
জম্মু-কাশ্মীরে লাগাতার প্রবল বৃষ্টিতে একাধিক এলাকা বিপর্যস্ত। জম্মুতে ঘরে ছাদ ভেঙে পড়ায় মৃত্যু হয়েছে মা-মেয়ের। জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়ক বহু জায়গায় ধসের কারণে বন্ধ। প্রশাসন জানাচ্ছে, তীব্র বৃষ্টিতে নদী-খাল, ছড়া-নালা ফুঁসে উঠেছে। হিমাচল প্রদেশেও পরিস্থিতি আরো শোচনীয়। রাজ্যের ১,১৫৫টি রাস্তা ও সাতটি জাতীয় সড়ক বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পাহাড় ভেঙে পড়ছে, পাথরের গড়ানোয় থমকে গিয়েছে যাতায়াত। দিল্লিতে যমুনার জলস্তর ক্রমশ বাড়ছে। হরিয়ানার হাতনি কুণ্ড ব্যারেজ থেকে সোমবার সর্বোচ্চ ৩.২৯ লক্ষ কিউসেক জল ছাড়া হয়, যা মঙ্গলবার কমে এলেও রাজধানীর জন্য তা যথেষ্ট আতঙ্কের। পাশাপশি, দিল্লির ঝারোদা কলাঁয় বাঁধ ভেঙে একাধিক গ্রামে ঢুকে পড়েছে মাথাসমান জল। মাঝরাতে পুলিশ ও দমকল কর্মীরা বহু ক্ষতিগ্রস্থ মানুষকে উদ্ধার করে । এদিকে, টানা তিন দিন ধরে ওড়িশাতেও অঝোর বৃষ্টি চলছে। নিম্নচাপের জেরে রাজ্যের বহু জেলা জলে ডুবে গিয়েছে। ভুবনেশ্বর ও বোলাঞ্জির পরিস্থিতি বিশেষভাবে সংকটজনক। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, নিম্নচাপ আরও ঘনীভূত হয়ে পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে সরবে, ফলে আগামী কয়েকদিনে বৃষ্টিপাত থাকবে অব্যাহত।
দেশজুড়ে ভয়াবহ বন্যা পরতিস্থিতিতে ক্ষোভের আঁচ পরিবেশবিদদের মধ্যে। তাঁরা বলছেন, এই ব্যপক বিপর্যয়ের মূল দায় সরকারের বেপরোয়া উন্নয়ন নীতি ও পাহাড়ি রাজ্যে নির্বিচার নির্মাণকাজ। বহু বছর ধরে বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই রাস্তা, হোটেল, বাঁধ নির্মাণ চলেছে। তাঁরা সতর্ক করে বলেছনে, এই অস্থায়ী উন্নয়নের ছদ্মরূপকে যদি এখনই ছেড়ে পরিবেশবান্ধব, জলবায়ু সহনশীল পথে না ফেরা যায়, তবে এ রকম বিপর্যয় ঘটতেই থাকবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্র-রাজ্য সক্রিয় হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুর্গত এলাকায় যাবেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। বুধবারই তিনি ফোনে রাজযগুলির রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল আগামীকাল মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানকে সঙ্গে নিয়ে যাবেন পাঞ্জাবের বন্যাপীড়িত গ্রামে। জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা প্রশাসনিক বৈঠক ডেকে দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে, আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, সেপ্টেম্বর মাসেও বর্ষা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই বেশি সক্রিয় থাকবে। গড় বৃষ্টিপাতের তুলনায় ১০৯ শতাংশ বর্ষণের হওয়ার আশঙ্কা। হিমাচল ও উত্তরাখণ্ডে ভূমিধস, আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তাই প্রবল। ফলে, পাহাড় থেকে সমতল, পুরো উত্তর ভারতই আপাতত বন্যা আতঙ্কে কাঁপছে।
❤ Support Us







