- দে । শ
- অক্টোবর ১৭, ২০২২
উপনির্বাচনে বড় জয় ইমরানের, সাধারণ নির্বাচনের ডাক
বাইশ গজে খেলার সময় তাঁর লড়াকু মানসিকতার কথা সকলেরই জানা। রাজনীতিতে নেমে বিপক্ষ দলকেও এক ইঞ্চিও জমি ছাড়ছেন না পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এই বছরের এপ্রিল মাসে তিনি ক্ষমতাচ্যূত হয়েছিলেন। ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন। পাকিস্তানের উপনির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে তাঁর দল তেহরিখ–ই–ইনসাফ। রবিবার পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনে ৮টি আসনের মধ্যে ৬টিতেই জয়ী হয়েছেন ইমরান খান।
রবিবার অনুষ্ঠিত জাতীয় পরিষদের আটটি আসনের উপনির্বাচনে ৬টিতেই ইমরান খান জয়ী হয়েছেন। আর পাঞ্জাব প্রাদেশিক পরিষদের তিনটি আসনের মধ্যে দুটিতেই তার দলের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছে। ইমরান খান জাতীয় পরিষদের আটটির মধ্যে সাতটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে পাকিস্তান পিপলস পার্টির প্রার্থীর (পিপিপি) কাছে হেরে গেছেন। অপরটিতে তার দলের প্রার্থী পিপিপি প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন। ইমরান খান ক্ষমতাসীন জোটের প্রার্থীদের হারিয়ে জাতীয় পরিষদের পেশোয়ার, মর্দান, চারসাদা, ফয়সালাবাদ, মুলতান ও নানকানা সাহিব আসনে জয়ী হয়েছেন।
পাঞ্জাব পরিষদের উপনির্বাচনে তিনটির মধ্যে দুটি আসনে জয়ী হয়েছে প্রধান বিরোধী দল পিটিআই। একটি আসনে জিতেছে পাকিস্তান মুসলিম লিগ নওয়াজ। পাকিস্তানের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও প্রার্থী একসাথে জাতীয় পরিষদের সাতটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেন। পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, কোনও প্রার্থী একাধিক আসনে লড়াই। তবে নির্বাচনের পর তাঁকে একটা আসন রেখে বাকি আসন থেকে পদত্যাগ করতে হবে।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি সহ একাধিক অভিযোগ নিয়ে আসা হয়েছিল। পাকিস্তানের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো একসঙ্গে জোট তৈরি করে। তারা পাকিস্তানের ক্ষমতায় আসে। প্রধানমন্ত্রী প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ভাই শেহবাজ শরিফ। কিন্তু উপনির্বাচনের রায় ইঙ্গিত দিচ্ছে সাধারণ মানুষ ইমরান খানের পক্ষে রয়েছে। যার জেরে ইমরান খানের সাধারণ নির্বাচনের দাবি আরও জোরাল হচ্ছে। ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক–ই–ইনসাফের সিনিয়র নেতা ফাওয়াদ চৌধুরি টুইটে লিখেছেন, ‘আমরা দেশের জনগণের ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে দ্রুত সাধারণ নির্বাচনের ডাক দিচ্ছি। আমরা বর্তমান পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে নির্বাচনি পরিকাঠামো নিয়ে আলোচনাতেও প্রস্তুত রয়েছি।’ ইমরান খানের এই জয় শেহবাজ শরিফের জোট সরকারকে যে একটা বড় ধাক্কা দেবে সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।
ইমরান খানের প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় থেকেই দেশের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক সঙ্কট দেখা দিয়েছিল। কিন্তু শেহবাজ শরিফের প্রধানমন্ত্রীর সময় থেকে পাকিস্তানে অর্থনৈতিক সঙ্কট আরও জোরদার হয়। পাকিস্তানে মুদ্রাস্ফীতির হার লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। গত তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পাকিস্তানের একাধিক প্রদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তা মোকাবিলা করতে শরিফ সরকার কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর শরিফ সরকার জোড় দিয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পাকিস্তানকে সব থেকে বিপজ্জনক দেশ বলে চিহ্নিত করেছে।
❤ Support Us






