- এই মুহূর্তে দে । শ
- জানুয়ারি ৩, ২০২৫
লাদাখের জমিতে চিনা ‘কাউন্টি’! বেইজিংকে কড়া বার্তা নয়াদিল্লির
আবার ভারতের জমি দখল চিনের ? লাদাখ নিয়ে ফের সংঘাতে ভারত-চিন
ভারত-চিন সম্পর্কে আবার উত্তেজনা ? সম্প্রতি এলএসির কাছে (LAC) ‘হেয়ান কাউন্টি’ এবং ‘হেকাং কাউন্টি’ নামে দু’টি নতুন প্রদেশ তৈরি করছে চিন। ভারতীয় মানচিত্র অনুসারে ওই এলাকা লাদাখের অংশ। সেখানে চিন বেআইনিভাবে দখলদারি করেছে। কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে চিনের কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত।
গত অক্টোবরে রাশিয়ার কাজনে শি জিনপিং এর সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি । সীমান্ত নিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সংঘাতের রফাসূত্র উঠে আসে আলোচনার মাধ্যমে । পূর্ব লাদাখ সীমান্তে দুই দেশেই তাদের স্থায়ী সেনা শিবির সরিয়ে নেয় । এরপর কেন্দ্রের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল ডিসেম্বরের গোড়ায় বেজিংয়ে যান এক বৈঠকে যোগ দিতে । কমতে থাকে সীমান্ত উত্তাপ । এবছর দুই রাষ্ট্রপ্রধানই একে অন্যের দেশে যাওয়ার কথা সরকারি সফরে । এমতাবস্থায় ভারতীয় ভূখন্ডে চিনা কাউন্টি নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি করল দুদেশের সম্পর্কে ।
ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এবিষয়ে বলেন, চিনের তথাকথিত প্রদেশগুলির অংশগুলি লাদাখের অধীনে পড়ে এবং নয়াদিল্লি ভারতীয় ভূখণ্ডে চিনের অবৈধ দখলকে কখনওই মেনে নেয়নি। “আমরা চিনের হোটান প্রিফেকচারে দুটি নতুন ‘কাউন্টি’ প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত ঘোষণা দেখেছি। ‘কাউন্টি’গুলির কিছু অংশ ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখে পড়েছে। ভারতীয় ভূখণ্ডে চিনের অবৈধ দখলকে কখনওই মেনে নেওয়া হবে না। চিন নতুন প্রদেশ তৈরি করলেও ভারতের অবস্থানের কোনও বদল হবে না। লাদাখের ওই অংশ আমাদের ছিল, আমাদেরই থাকবে। আমরা কূটনৈতিকভাবে চিনের কাছে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাবো।”
নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জয়সওয়াল বলেন, “তিব্বতে চিন হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্প তৈরি করবার কাজ শুরু করেছে ইয়ারলাং সাঙ্গপো নদীর উপর, সে সম্পর্কে কেন্দ্রসরকার অবগত রয়েছে। নদীর জলের উপর এরকম প্রকল্প তৈরি করতে হলে, নদীর জল যেদিকে নামে সেই দেশের সাথে আলোচনা করতে হয়। আমরা তাদের ভূখণ্ডের নদীগুলির উপর মেগা প্রকল্পের বিষয়ে বেজিং এর কাছে আমাদের মতামত এবং উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। ব্রহ্মপুত্রের পাশের রাজ্যগুলো কোনোভাবেই যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সে বিষয়টি সুনিশ্চিত করতে হবে। আমরা কোনোভাবেই দেশের কোন ক্ষতি হতে দেব না।”
চিনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হেয়ানের কাউন্টি আসলে হংলিউ টাউনশিপ, এবং হেকাংয়ের কাউন্টি হল জেইদুলা টাউনশিপ। কিন্তু নিজেদের ভুখণ্ডে তা কিছুতেই গড়ে উঠতে দেবে না, ভারতের বিদেশমন্ত্রক কড়াভাবে সেকথা জানিয়েছে।
এই প্রথম নয়, বেজিং এর আগেও নিজেদের মানচিত্রে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলকে ঢুকিয়ে নিজেদের বলে দাবি করেছে। ২০১৭ সালে চিন অরুণাচল প্রদেশের ৬ টি জায়গা নিজের বলে দাবি তোলে। ২০২১ সালে ১৫ টি জায়গা ও ২০২৩ সালে ১১ টি অতিরিক্ত জায়গা সমেত তালিকা প্রকাশ করেছিল চিন। এখন দেখবার প্রতিবেশি রাষ্ট্রের আগ্রাসন আটকাতে লাদাখ বাঁচাতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে মোদি সরকার।
❤ Support Us







