- বৈষয়িক
- এপ্রিল ১৩, ২০২৬
ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালী অবরোধের হুমকিতে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা, দালাল স্ট্রিটে বিরাট পতন
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হয়েছে। ইসলামাবাদের আমেরিকা-ইরান বৈঠকে শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনো ইঙ্গিত মেলেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করার হুমকি বিশ্ববাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের শেয়ার বাজারেও।
সোমবার সপ্তাহের শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছে দালাল স্ট্রিট। সকালে সেনসেক্স ও নিফটি৫০— দুই প্রধান সূচকই ২ শতাংশের বেশি পড়ে যায়। নিফটি৫০ ৫০০ পয়েন্টেরও বেশি কমে নেমে আসে ২৩,৫৫৫-এ। একই সময়ে সেনসেক্স প্রায় ১৭০০ পয়েন্ট পড়ে দাঁড়ায় ৭৫,৮৬৮-এ। যদিও বাজার খোলার এক ঘণ্টা পর কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায় সূচকগুলি, তবুও সকাল ১০টা ২০ মিনিট নাগাদ প্রায় দেড় শতাংশ নিম্নমুখী ছিল দুই বেঞ্চমার্ক ইনডেক্সই।
শুধু বড়ো সূচক নয়, মিড-ক্যাপ ও স্মল-ক্যাপ সূচকগুলিও চাপের মুখে পড়েছে। সমস্ত সেক্টরাল ইনডেক্সে পতন লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির শেয়ারে সবচেয়ে বেশি ধাক্কা লেগেছে। পাশাপাশি অটো, ফিনানশিয়াল সার্ভিস, অয়েল অ্যান্ড গ্যাস, আইটি, মেটাল ও রিয়েলটি—প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরেই উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে। বাজার ধসের মূল কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পরই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এর পরেই ট্রাম্প ইরানের বন্দর ঘিরে ফেলা এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন, যা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
নতুন করে যুদ্ধ-আশঙ্কার সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের বাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম হঠাৎই ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০২ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই তেলের দাম প্রায় ৯০ ডলারের কাছাকাছি নেমে এসেছিল। তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে ভারতীয় মুদ্রা টাকার ওপরও চাপ বেড়েছে। ডলার ইনডেক্স শক্তিশালী হওয়ায় ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার নেমে এসেছে ৯৩.২৮-এ। টাকার এই দুর্বলতার কারণে ব্যাঙ্কিং ও আর্থিক খাতে চাপ আরও বেড়েছে, যার প্রভাব শেয়ার বাজারে স্পষ্ট।
এছাড়াও, গত সপ্তাহে বাজারে টানা ঊর্ধ্বগতির পরে অনেক লগ্নিকারী লাভ তুলে নিতে শুরু করেছেন। পাঁচটি সেশনের মধ্যে চারদিন বাজার বাড়ায় এবং টানা ছয় সপ্তাহের পতনের পর ঘুরে দাঁড়ায় সূচকগুলি। সেই লাভ তুলে নেওয়ার প্রবণতাও সোমবারের পতনের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
❤ Support Us








