- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- অক্টোবর ৩০, ২০২৫
মায়ানমারে প্রতারণার শিকার ৫০০ ভারতীয় শ্রমিক। দেশে ফেরানোর উদ্যোগ দিল্লির
চিনা মাফিয়া পরিচালিত সাইবার ক্রাইম হাবে কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় ৭০০ জন শ্রমিককে মায়ানমারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কাজ পাওয়া তো দূরের কথা, শেষপর্যন্ত প্রতারণার শিকার হয় এই শ্রমিকরা। এরপর মায়ানমার থেকে প্রতারিত হয়ে প্রায় ৫০০ জন শ্রমিক থাইল্যান্ডে পালিয়ে যায়। সেখানে থাইল্যান্ড পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় ওই শ্রমিকরা। গ্রেফতার হওয়া দেশের শ্রমিকদের ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক।
গত সপ্তাহে জান্তা সরকার মায়ানমারের চীনা মাফিয়া পরিচালিত কেকে পার্ক কম্পাউন্ডে অভিযান চালানোর সময় ভারতীয়সহ প্রায় ৭০০ জন শ্রমিক সেখান থেকে পালিয়ে যায়। সীমান্ত অতিক্রম করার পর থাই কর্তৃপক্ষ ভারতীয়সহ শত শত শ্রমিককে আটক করে। প্রতারণার শিকার হয়ে মায়ানমার থেকে পালিয়ে যাওয়া প্রায় ৫০০ নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারত থাইল্যান্ডের সঙ্গে কাজ করছে। থাই প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল বলেছেন, মায়ানমার থেকে দেশে প্রবেশকারী নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে ভারত একটা বিমান পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে।
থাইল্যান্ডে আটক শ্রমিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ‘আমরা থাই কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আটক ভারতীয় নাগরিকদের সম্পর্কে অবগত। তারা গত কয়েকদিন ধরে মায়ানমার থেকে থাইল্যান্ডে প্রবেশ করেছিল। তাদের জাতীয়তা যাচাই করার জন্য থাইল্যান্ডে আমাদের মিশন সে দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। থাইল্যান্ডে প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পরে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।’
এর আগে থাই প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল বলেন, ভারতীয় রাষ্ট্রদূত প্রায় ৫০০ ভারতীয় নাগরিকের ভারতে ফেরার আগে তাদের আইনি যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত করার বিষয়ে আলোচনা করতে অভিবাসন প্রধানের সাথে দেখা করবেন। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স তাঁকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ‘ভারত থাইল্যান্ডের কাছ থেকে সহযোগিতা চেয়েছে। তারা চায় না যে এই শ্রমিকরা আমাদের বোঝা হয়ে উঠুক। ভারত এই প্রতারিত শ্রমিকদের নিতে একটি বিমান পাঠাবে। বিমানটি সরাসরি মে সোতে অবতরণ করবে।’
গত সপ্তাহ থেকে মায়ানমারের সামরিক বাহিনী কেকে পার্ক সাইবার ক্রাইম কম্পাউন্ডের বিরুদ্ধে একাধিক সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। যার ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষ, বেশিরভাগই সেখানে কর্মরত বিদেশি নাগরিক, থাই সীমান্তবর্তী শহর মে সোতে প্রবেশ করে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২৮টি দেশের ১,৫০০ জনেরও বেশি মানুষ পালিয়ে গেছে এবং এখন থাইল্যান্ডে তারা রয়েছে।
মায়ানমারের কেকে পার্ক আন্তর্জাতিক সাইবার কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার জন্য পরিচিত। কেকে পার্ক এবং আশেপাশের অন্যান্য কম্পাউন্ডগুলি চীনা অপরাধী চক্র দ্বারা পরিচালিত হয়। মায়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলি পাহারা দেয়। কোভিড–১৯ মহামারীর পর থেকে থাইল্যান্ড, মায়ানমার, লাওস এবং কম্বোডিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলি অনলাইন জালিয়াতির কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের মতে, এই কম্পাউন্ডগুলিতে কাজ করতে বাধ্য করা লক্ষ লক্ষ মানুষের পাচার থেকে কোটি কোটি ডলার আয় করা হয়েছে। এই বছরের শুরুতে আঞ্চলিক অভিযানের পর থাই–মায়ানমার সীমান্তে সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে হাজার হাজার নাগরিককে মুক্ত করার পর ভারত তার নাগরিকদের ফিরিয়ে নিয়েছিল।
❤ Support Us







