- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৫
প্রতিবেশিদের হামলা ঠেকাতে নৌসেনার হাতে ‘টাটা-নির্মিত’ থ্রিডি স্প্যানিশ রাডার
নৌসেনার অস্ত্রভাণ্ডারে সংযোজন হল নতুন প্রযুক্তির এক নজরদারি হাতিয়ার। প্রথমবার, টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস লিমিটেড ভারতীয় যুদ্ধজাহাজে সফলভাবে বসাল স্পেনের তৈরি অত্যাধুনিক ৩-ডি এয়ার সার্ভেইলেন্স রাডার— লাঞ্জা-এন। আর তার সঙ্গেই নতুন করে জোর পেল দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনে আত্মনির্ভর ভারতের স্বপ্ন। প্রায় ১৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি চুক্তির অধীনে ২০২০ সালে শুরু হয়েছিল এ প্রকল্প। স্প্যানিশ প্রতিরক্ষা সংস্থা ‘ইন্দ্র’ সরবরাহ করেছে ৩টি সম্পূর্ণ রাডার এবং ২০টি অতিরিক্ত কোর সিস্টেম, যা আগামী এক দশকে ভারতের মাটিতে সংযোজন ও ইনস্টল করবে টাটা। এই প্রথম, স্পেনের বাইরের কোনো দেশে বসতে চলেছে ‘ইন্দ্র’র তৈরি এই রাডার।
নৌসেনার তরফে জানানো হয়েছে, যুদ্ধজাহাজে লাঞ্জা-এন রাডারের সংস্থাপন ও পরীক্ষা সফল ভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ লক্ষ ফুট পর্যন্ত উচ্চতায় ও প্রায় ৪৭৪ কিলোমিটার দূরত্বে থাকা শত্রুপক্ষের বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র চিহ্নিত করতে সক্ষম রাডারগুলি। ঘূর্ণায়মান অ্যান্টেনা প্রতি ১০ সেকেন্ড অন্তর একবার পূর্ণ পরিক্রমা সম্পন্ন করে, ফলে মিলতে থাকে নিরবিচ্ছিন্ন সচেতনতামূলক ছবি। ‘অরক্ষিত অনুপ্রবেশ নয়, এখন রাডারে ধরা পড়বে সব’, বলছে নৌসেনা। জানা যাচ্ছে, পরীক্ষামূলক পর্বে ব্যবহার করা হয়েছিল ড্রোন, ফাইটার জেট, এমনকি অ্যান্টি-রেডিয়েশন মিসাইলও। কোনোটিই লুকিয়ে থাকতে পারেনি রাডারের চোখ থেকে।
‘ইন্দ্র’র নৌ-বিভাগের প্রধান আনা বুয়েন্দিয়া জানাচ্ছেন, ‘ভারতের মাটিতে একটি পূর্ণাঙ্গ রাডার কারখানা গড়ে তোলা আমাদের কাছে ঐতিহাসিক ঘটনা। টাটার সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতের আরো যৌথ প্রকল্পের ভিত্তি তৈরি করবে।’ টাটার অন্যতম কর্তা সুকরণ সিংহ বলেছেন, ‘এ প্রকল্প শুধু প্রযুক্তি স্থানান্তরের নয়, বরং ভারতে এক শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পথ খুলে দিয়েছে। কর্নাটকে তৈরি হয়েছে রাডার সংযোজন ও পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট সুবিধা। এর ফলে সেনার কাছে সময়মতো ডেলিভারিও নিশ্চিত হবে।’ তবে এখানেই শেষ নয়। ‘ইন্দ্র’ এবং ভারতের সেন্টাম ইলেকট্রনিক্স যৌথভাবে ইসরো-র কাছে একটি প্রস্তাব জমা দিয়েছে মহাকাশে বস্তু পর্যবেক্ষণের জন্য নতুন রাডার তৈরির ব্যাপারে। ওই রাডার ২,০০০ কিমি দূর থেকে স্যাটেলাইট ও মহাকাশযান ট্র্যাক করতে পারবে। লক্ষ্য, দেশের মহাকাশ সম্পদের সুরক্ষা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় সমুদ্রসীমা বরাবর নজরদারি আরো তীক্ষ্ণ করতে নতুন রাডার বড়ো ভূমিকা নেবে। পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণে যেখানে চিনা বা পাকিস্তানি নৌ-সক্রিয়তা বাড়ছে, সেখানে এমন প্রযুক্তিই হয়ে উঠবে গেম-চেঞ্জার। ‘আকাশ থেকে সমুদ্র, সব দেখা যাবে এক সঙ্গে’— বলছেন সেনা আধিকারিকরা। ভারতীয় প্রতিরক্ষা সূত্রে খবর, যুদ্ধজাহাজে যে রাডার এখন বসেছে, ভবিষ্যতে তা বিমানবাহী রণতরী, ডেস্ট্রয়ার ও ফ্রিগেট-এও বসানো হবে। এক একটি রাডার মানে শুধু নজরদারি নয়, রণকৌশল নির্ধারণেও সুবিধা।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জানুয়ারিতে চিনা সেনা দাবি করেছিল, তারা দূরপাল্লার একটি উন্নত রাডার অন্তর্ভুক্ত করেছে তাদের নৌবাহিনীতে। তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের নতুন লাঞ্জা-এন সেই চিনা প্রযুক্তির চেয়েও অধিক পরিসরে ও নির্ভুলতায় এগিয়ে। এ রাডার অত্যাধুনিক ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আকাশপথের বহু উঁচু থেকে শুরু করে ভূপৃষ্ঠের একদম কাছাকাছি থাকা লক্ষ্যবস্তুকেও—যেমন, যুদ্ধবিমান, ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র সবই সনাক্ত করতে সক্ষম। নজরদারি চালাতে পারে শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজ বা অন্য সমুদ্রযানেও। এর নজরদারির পরিসীমা প্রায় ২৫৪ নটিক্যাল মাইল, অর্থাৎ প্রায় ৪৭০ কিলোমিটার। প্রতি ১০ সেকেন্ডে একবার সম্পূর্ণ ঘূর্ণন করে, ফলে নিরবিচ্ছিন্ন সচেতনতা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সুবিধা মিলবে নৌসেনার হাতে।
❤ Support Us







