- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ২৫, ২০২৫
পয়লা জুলাই থেকে বাড়ছে ট্রেনের ভাড়া। ১২ বছরে সবচেয়ে কম নূন্যতম বৃদ্ধি, দাবি রেল কর্তৃপক্ষের
আগামী মাস থেকেই নিত্যযাত্রী মধ্যবিত্তের পকেটে পড়তে চলেছে বাড়তি চাপ। ১ জুলাই থেকে ট্রেন ভাড়া বাড়ছে। ভারতীয় রেলওয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনের নন-এসি ক্লাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১ পয়সা আর এয়ার কন্ডিশন ক্লাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ পয়সা বাড়ানো হবে। তবে শহরতলীর ট্রেন এবং মাসিক সিজন টিকিটের ভাড়া অপরিবর্তিত থাকবে। দ্বিতীয় শ্রেণির যাত্রীদের জন্য ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানো হবে না, যদিও তার বেশি দূরত্বে ভাড়া আধা পয়সা প্রতি কিলোমিটারে বাড়ানো হতে পারে। এছাড়াও তৎকাল টিকিট কাটবার ক্ষেত্রে নয়া নিয়ম লাগু করা হবে।
গত ৫ বছর ধরে যাত্রী ভাড়া বাড়ায়নি ভারতীয় রেল। এবার সামান্য বৃদ্ধির কথা ভাবা হচ্ছে। রেল দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘২০১৩ ও ২০২০ সালের তুলনায় এবার ভাড়া বৃদ্ধি অনেকটাই কম। প্রতিদিন শহরতলী ট্রেনে যাতায়াত করেন তাদের জন্য এটি এক ধরনের স্বস্তির খবর।’ ২০২৪-২৫ সালের এপ্রিল থেকে মার্চ পর্যন্ত মোট ৭১৫ কোটি যাত্রী ভারতীয় রেলওয়ে ব্যবহার করেছেন, যার মধ্যে ৮১ কোটি যাত্রী এসি ও স্লিপার ক্লাসে এবং ৬৩৪ কোটি যাত্রী সাধারণ ক্লাসে ভ্রমণ করেছেন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতীয় রেলওয়ে যাত্রী আয় ছিল প্রায় ৭৫,৭৫০ কোটি টাকা। যা বাজেটের অনুমান থেকে কিছু কম। রেলমন্ত্রকের হিসাব অনুযায়ী, এই বৃদ্ধির ফলে চলতি অর্থবছরে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত আয় হবে। ফলে বর্তমান ভাড়া বৃদ্ধি আপাত দৃষ্টিতে সামান্য মনে হলেও রেলের আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নতুন ভাড়া প্রক্রিয়ায় চলতি অর্থবছরে আনুমানিক ৭০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত আয় আসার আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, তৎকাল টিকিট বুকিংয়ে ১ জুলাই থেকে নতুন নিয়ম চালু হচ্ছে। আধার ভিত্তিক ওটিপি প্রমাণীকরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে টিকিট বুকিং প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও জটিলতা মুক্ত হয়।
এক প্রাক্তন রেল কর্মকর্তা বলেছেন, ‘দিল্লি থেকে মুম্বাই ২-এসি টিকিটের ক্ষেত্রে এই ভাড়া বৃদ্ধির পর প্রায় ২৫-৩০ টাকা বাড়বে। এই বাড়তি আয়ে পরিষেবা মান উন্নয়নের দিকে নজর দেওয়া উচিত। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন টয়লেট, মানসম্মত খাবার এবং যাত্রীদের আরামদায়ক, নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করা জরুরি।’ তবে ভাড়া বৃদ্ধি সত্ত্বেও ভারতীয় রেলওয়ের আর্থিক টেকসইতা চ্যালেঞ্জ রয়েই রয়ে যাবে বলে আশঙ্কা রয়েছে। চলতি অর্থবছর বাজেটের অনুমান অনুযায়ী মোট উপার্জন কম হয়েছে। মালবাহী পরিবহন থেকে আয়ের বৃদ্ধি তেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত ৯২,০০০ কোটি যাত্রী আয় অর্জন করা ভারতীয় রেলের জন্যভীষণই কঠিন হবে । ২০২৪-এর ডিসেম্বরে, রেলওয়ে স্ট্যান্ডিং কমিটি ভারতীয় রেলওয়ে মন্ত্রণালয়কে এসি ক্লাসের আয় পুনঃমূল্যায়ন করার সুপারিশ করে। সে অনুযায়ী তাদের খরচের সাথে সঙ্গতি রেখে ক্ষতির পরিমাণ কমানোর পরামর্শ দিয়েছে। একটি সংসদীয় কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী, শহরতলী পরিষেবা থেকে প্রায় ৩০% খরচ পুনরুদ্ধার করে রেল, নন-এসি যাত্রা থেকে ৩৯%, আর এসি যাত্রা মাত্র ৩.৫% মুনাফা দেয়। কমিটি বলেছিল, ভারতীয় রেলওয়ের নেট আয় বাড়ানোর জন্য যাত্রী পরিবহন থেকে আয় বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপরদিকে, তারা মনে করেছে দেশের বিপুল জনসংখ্যার কথা ভেবে ‘সাধারণ শ্রেণির’ যাত্রা জনগণের জন্য সুলভ রাখতে হবে।
❤ Support Us







