- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ১, ২০২৫
কমিশন তালিকা প্রকাশ করার পর পরীক্ষায় বসতে চেয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ ‘অযোগ্য’রা
দেশের শীর্ষ আদদলতের নির্দেশ মেনে স্কুল সার্ভিস কমিশন ‘দাগি অযোগ্য’ চাকরিপ্রাপকদের নাম প্রকাশ করেছে। এ বার তালিকায় থাকা অযোগ্যরা কমিশনের তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন। তাঁদের বক্তব্য, “কে ঠিক করে দিল আমরা দাগি?” কমিশনের তালিকায় থাকা অযোগ্যরা আদালতে পরীক্ষায় বসার আবেদন জানিয়েছেন। সোমবার এ বিষয়ে হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন কমিশন চিহ্নিত দাগিরা। মঙ্গলবার এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে কমিশন প্রকাশিত অযোগ্যদের নামের তালিকায় এখনও পর্যন্ত ১৮০৬ জনের নাম এসেছে। এটা তালিকা ১ হিসাবে প্রকাশ করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে সিপিআই(এম) রাজ্যসভার সাংসদ ও আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেছেন, “এসব তালিকা প্রকাশ সরকারের চালাকি। ১ নম্বর তালিকা প্রকাশ হয়েছে,তার মানে ২,৩ নম্বর আরও অনেক তালিকা প্রকাশ হবে। অযোগ্যদের সুদ সহ টাকা ফেরত দিতে হবে। হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের সম্পত্তি বিক্রি করে ওনারা টাকা শোধ করুন। যারা টাকা নিয়েছেন কাজ দেবেন বলে,
তাদের ধরুন। তৃণমূল দল অথচ দুর্নীতি হবে না, এটা হয়?
সুপ্রিম কোর্ট গত ২৯ অগস্ট জানিয়েছিল, নির্ধারিত দিনেই পরীক্ষা নিতে হবে স্কুল সার্ভিস কমিশন বা এসএসসি-কে। এক জন ‘দাগি অযোগ্য’ও যেন সেই পরীক্ষায় না-বসেন, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। সাত দিনের মধ্যে ‘দাগি অযোগ্য’দের তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। সেই নির্দেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই গত শনিবার কমিশন তালিকা প্রকাশ করে। তাতে ‘দাগি’ হিসাবে ছিল ১৮০৪ জনের নাম। পরে রবিবার আরও দু’জনের নাম সেই তালিকায় সংযুক্ত করে দেওয়া হয়। ফলে এসএসসি-র তালিকায় বর্তমানে ‘দাগি’ -র সংখ্যা ১৮০৬ জন। এঁদেরই একাংশ সোমবার আদালতে গিয়েছেন।
যাঁদের কমিশন অযোগ্য বলে তালিকা প্রকাশ করেছে, সেই অযোগ্যদের একটা অংশ, যাঁরা মামলাকারী, তাঁদের বক্তব্য, তাঁরা যে ‘দাগি’, তা ঠিক করে দিল কে? তাঁদের ‘দাগি’ বলার ভিত্তিটাই বা কী? কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ‘যোগ্য’ এবং ‘অযোগ্য’দের নামের তালিকা প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছিল। কলকাতা হাই কের্টের এই ঘোষণায় সুপ্রিম কোর্ট কোনও হস্তক্ষেপ করেনি। তবু কেন ‘যোগ্য’দের তালিকা প্রকাশ করা হল না? কেন শুধু ‘দাগি অযোগ্য’দের তালিকাই প্রকাশিত হল? যোগ্যদের তালিকা কেন প্রকাশিত হল না? এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মামলাকারীদের আইনজীবী। কিছু দিন আগে এসএসসি-র পরীক্ষায় বসার জন্য এই ১৮০৬ জনও ফর্ম জমা দিয়েছিলেন। কেন তখন তাঁদের আটকানো হয়নি অযোগ্য হিসাবে? সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে নেমে বিভিন্ন জায়গা থেকে বেশ কিছু নথি, উত্তরপত্র সংগ্রহ করেছিল সিবিআই। তার ভিত্তিতে কয়েক জনকে ‘দাগি’ হিসাবে চিহ্নিত করা গিয়েছিল। ২৬ হাজার চাকরি বাতিল করে দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তাতে বলা হয়, এই ‘দাগি’ বা ‘চিহ্নিত অযোগ্য’রা কোনও ভাবেই পরীক্ষায় বসতে পারবেন না। তাঁদের এত দিনের চাকরির বেতনও ফেরত দিতে হবে। এর পর নতুন করে পরীক্ষা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করে কমিশন। আগামী ৭ এবং ১৪ সেপ্টেম্বর এসএসসি-র নিয়োগের পরীক্ষা রয়েছে। তাতে বসতে চেয়ে হাই কোর্টে মামলা করলেন ‘দাগি’রা।
এদিকে এসএসসি প্রথমে তালিকা প্রকাশ করতে চাইলেও শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর তাতে সম্মতি ছিল না। পরে তিনি অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশে সম্মতি দেন। ব্রাত্য বসুর এই দু’রকমের অবস্থান নিয়ে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেছপন, ব্রাত্য বসু প্রথমে দেখছিলেন অযোগ্যদের তালিকায় তাঁর সন্তান বা আত্মীয় কেউ আছেন কিনা, যদিও ওনার সন্তান আছেন কি নেই,তাঁরা চাকরির বয়সে পৌঁছেছেন কি না সেটা আমি জানি না। তবে তিনি যখন দেখলেন, তালিকায় তাঁর কাছের লোকেরা নেই, তখন এসএসসিকে তালিকা প্রকাশ করতে সম্মতি দিলেন।
❤ Support Us








