Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • মার্চ ১২, ২০২৬

সংঘর্ষ থামাতে ইরানের তিন শর্ত — ক্ষতিপূরণ, অধিকার স্বীকৃতি ও ভবিষ্যৎ হামলা বন্ধের দাবি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
সংঘর্ষ থামাতে ইরানের তিন শর্ত — ক্ষতিপূরণ, অধিকার স্বীকৃতি ও ভবিষ্যৎ হামলা বন্ধের দাবি

আমেরিকা–ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘর্ষ থামাতে তিন দফা শর্ত ঘোষণা করল ইরান। তেহরানের দাবি, যুদ্ধের সূচনা করেছে আমেরিকা এবং ইজরায়েল। তাই পরিস্থিতি শান্ত করতে হলে তাদেরই নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মানতে হবে। ইরানের মতে, সংঘর্ষ বন্ধের জন্য প্রথমত তাদের ‘ন্যায্য অধিকার’ নিশ্চিত করতে হবে, দ্বিতীয়ত এই সংঘর্ষে ইরানের যে ক্ষতি হয়েছে তার জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং তৃতীয়ত আমেরিকা ও ইজরায়েলকে স্পষ্টভাবে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে ভবিষ্যতে তারা আর ইরানের উপর হামলা চালাবে না।
‘ব্লুমবার্গ’-এর একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সংঘর্ষ থেমে যাওয়ার পরেও ইজরায়েল আবার ইরানের উপর হামলা চালাতে পারে— এমন আশঙ্কা করছে তেহরান। তাই ভবিষ্যতে যাতে আমেরিকা বা ইজরায়েলি বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক পদক্ষেপ না নেয়, সে বিষয়ে নিশ্চিত আশ্বাস চাইছে ইরান। সংঘর্ষ বিরতির শর্ত হিসেবে তারা বিশেষ করে আমেরিকার কাছ থেকে এই প্রতিশ্রুতি দাবি করছে। তবে ওয়াশিংটন এমন প্রতিশ্রুতি দিতে রাজি কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, ইজরায়েলের উপর এই বিষয়ে আমেরিকা কতটা চাপ সৃষ্টি করতে পারবে।
বুধবার রাতে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে এই তিন শর্তের কথা জানান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, সংঘর্ষ থামানোর একমাত্র উপায় হল ইরানের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, যুদ্ধজনিত ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং ভবিষ্যতে আর কোনও আক্রমণ না করার নিশ্চয়তা প্রদান করা। তাঁর এই বার্তার পর ‘ব্লুমবার্গ’ আমেরিকা ও ইজরায়েল সরকারের মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তৎক্ষণাৎ কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সংঘর্ষের শুরুতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, এই পরিস্থিতি অন্তত এক মাস পর্যন্ত চলতে পারে। তবে সাম্প্রতিক কয়েক দিনে তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলছে যে আমেরিকা এই সংঘর্ষ দীর্ঘায়িত করতে আগ্রহী নয়। বুধবার ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানে যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হবে।’
পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, “সংঘর্ষ খুব ভাল চলছে। আমরা সময়ের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে আছি এবং প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি করতে পেরেছি।”
যদিও গত দেড় সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘর্ষে আমেরিকারও ক্ষতি হয়েছে। খবর অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত মার্কিন বাহিনীর অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। ‘নিউ ইয়র্ক টাইম্‌স’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে থাকা আমেরিকার অন্তত ১৭টি সামরিক ও অসামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের যুদ্ধ শেষ করার ইঙ্গিত এবং ইরানের প্রেসিডেন্টের ঘোষিত তিন দফা শর্ত আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!