- দে । শ
- ডিসেম্বর ১৩, ২০২২
সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, ইরানে ফাঁসি ঘোষণা ফুটবলার আমির নাসর–আজাদানির
প্রতিবাদের শাস্তি এতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে! সত্যিই, ইরানকে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। গোটা বিশ্বের কাছে দিনের পর দিন নিন্দিত হচ্ছে। চারিদিকে সমালোচনার ঝড়। তবু কোনও হেলদোল নেই ইরান সরকারের। সরকারের রক্ষচক্ষুর মধ্যেই বিশ্বকাপে খেলতে হয়েছে ইরানের ফুটবলারদের। কাতারে কড়া নজরে রাখা হত এহসান হাজিসাফিদের। এবার ইরানে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হল ২৬ বছর বয়সী ফুটবলার আমির নাসর–আজাদানির। তিনি ফাঁসিতে দণ্ডিত হয়েছেন।
ইরানের শাসক বিক্ষোভের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে এবং যারা দেশে নারী অধিকার ও স্বাধীনতার জন্য প্রচার চালিয়েছে তাদের শাস্তি দিতে মরিয়া। ‘মিজান’ বার্তা সংস্থার মতে, এই ফুটবলারকে কুস্তিগীর মজিদ রেজা রাহনাভার্ডের মতো একই পরিণতি ভোগ করতে হবে। মাশা আমিনির স্মরণে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এবং মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল কুস্তিগীর মজিদ রেজা রাহনাভার্ডকে। ইরানের সরকারের মত অনুসারে, তিনি ‘সন্ত্রাস সৃষ্টির’ জন্য দায়ী ছিলেন। ‘আল্লাহর বিরুদ্ধে তাঁর যুদ্ধের’ জন্য গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁকে প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল। ফাঁসির মঞ্চে ঝুলে থাকা তার প্রাণহীন দেহের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
FIFPRO is shocked and sickened by reports that professional footballer Amir Nasr-Azadani faces execution in Iran after campaigning for women’s rights and basic freedom in his country.
We stand in solidarity with Amir and call for the immediate removal of his punishment. pic.twitter.com/vPuylCS2ph
— FIFPRO (@FIFPRO) December 12, 2022
সোমবার ফুটবল খেলোয়াড়দের ইউনিয়ন ফিফপ্রোর অফিসিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা একটি বার্তায় বলা হয়েছে, ‘পেশাদার ফুটবলার আমির নাসর–আজাদানি তার দেশে নারীর অধিকার এবং মৌলিক স্বাধীনতার জন্য প্রচারণ চালানোর পরে ইরানে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হয়েছেন। ফিফপ্রো এমন খবরে হতবাক। অবিলম্বে তার শাস্তি প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি।’ ফিফপ্রো ইরান সরকারের কাছে আমির নাসর–আজাদানির সাজা মকুব করার আবেদনও জানাবে। এমনকি এই ব্যাপারে ফিফার দ্বারস্থ হওয়ার হওয়ারও চিন্তাভাবনা করছে।
মিজান ভোরবেলা ফাঁসির ছবি প্রকাশ করে, যেখানে কুস্তিগীর মজিদ রেজা রাহনাভার্ডকে একটি নির্মাণ ক্রেনে ঝুলতে দেখা যায়, তাঁর হাত–পা বাঁধা এবং একটি কালো ব্যাগ দিয়ে তার মাথা ঢেকে রাখা হয়েছিল। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর সোমবার রাহনাভার্ডের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য ইরানের নিন্দা করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেন, ‘আমরা কঠোর ভাষায় এই আচরণের নিন্দা করছি। এই কঠোর সাজা এবং এখন প্রথম প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড। ইরানের জনগণকে ভয় দেখানোর জন্য এটা করা হচ্ছে। ভিন্নমতকে দমন করার উদ্দেশ্যে এইরকম প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’
❤ Support Us






