Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • অক্টোবর ৯, ২০২৩

রাতারাতি পালটা হামলায় ইসরায়েল, “হামাসের ৫০০ লক্ষ্যবস্তু”কে আঘাত করেছে

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
রাতারাতি পালটা হামলায় ইসরায়েল,  “হামাসের ৫০০ লক্ষ্যবস্তু”কে আঘাত করেছে

ইসরায়েল এবং গাজায় ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলি একে অপরের বিভিন্ন অঞ্চলগুলিতে রকেট নিক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে কারণ তৃতীয় দিনের মতো সহিংস যুদ্ধে শিশু সহ ১,৪০০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছে।

এদিকে এই হামলার ঘটনায় মৌখিকভাবে আগেই ইসরায়েলের পাশে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছিল “বন্ধু রাষ্ট্র” আমেরিকা। এ বার সরাসরি ইসরায়েলকে সমর্থন জোগাতে রণতরী এবং যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর কথা ঘোষণা করল জো বাইডেনের দেশ। রবিবার আমেরিকার তরফে জানানো হয়েছে, প্যালেস্তিনীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের হামলায় প্রাণ গিয়েছে সে দেশের বহু নাগরিকের। তবে ঠিক কত জন আমেরিকান হতাহত হয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তার পরই পেন্টাগনের তরফে জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট বাইডেন রবিবারই ইসরায়েলে রণতরী এবং যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আমেরিকার অংশগ্রহণের ফলে ইসরায়েল বনাম হামাসের লড়াই আরও বড় রূপ পেতে চলেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই দু’পক্ষ মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা ১,৪০০ ছুঁয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

কয়েক দশকের মধ্যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের এটাই সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। হামাস একটি বিশাল রকেট হামলা চালায় এবং ইসরায়েল বিমান হামলার মাধ্যমে তার উত্তরও দিয়েছে। ইসরায়েলে ৭০০ ও গাজায় ৪০০-এর বেশি মানুষ মারা গেছে। এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী  মৃতের সংখ্যা ১,৪০০ ছাড়িয়েছে। এছাড়া, গাজায় এক লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং হামাস দাবি করেছে যে তারা শতাধিক ইসরায়েলিকে পণবন্দি করে রেখেছে।

ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী গাজা থেকে রকেট হামলার প্রতিক্রিয়া হিসাবে রাতারাতি ৫০০ টিরও বেশি হামাস লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে বলে দাবি করেছে যে তারা এই আক্রমণটিকে তাদের “৯/১১” বা “পার্ল হারবার” মুহূর্ত হিসাবে বর্ণনা করেছে। হামাসের হামলাকে “ইসরায়েলের ইতিহাসে নিরীহ নাগরিকদের সবচেয়ে জঘন্যতম গণহত্যা” বলেও অভিহিত করেছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী তার সর্বশেষ বিবৃতিতে জানিয়েছে, “হামাস আইএসআইএসের চেয়েও বেশি বর্বর এবং নৃশংস৷ হামাস শত শত ইসরায়েলি পুরুষ, মহিলা এবং শিশুকে হত্যা করেছে এবং গাজায় কয়েক ডজন মানুষকে পণবন্দি করেছে ৷ এই ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য একটি জোরদার, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া আমরা করছি৷”

ইসরায়েল হামাস গোষ্ঠীর কার্যক্রমে অর্থ জোগানোর জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করেছে তবে তেহরান সর্বশেষ আক্রমণে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ইসরাইল-হামাস যুদ্ধ প্রসঙ্গে একটি বিবৃতিতে সহমত হতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রতক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুসারে আজ সকালে ইসরায়েলের অ্যাশকেলনের একটি হোটেলের কাছে একটি রকেট বিস্ফোরণ হয়।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন যে এই হামলা ইসরায়েলের জন্য একটি “কালো দিন”। “আইডিএফ বা ইসরায়েলের সেনাবাহিনী হামাসের এই জঙ্গি শক্তিকে ধ্বংস করতে সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করে চলেছে। আমরা তাদের ওপর শেষ পর্যন্ত আঘাত হানব এবং ইসরায়েল ও আমাদের দেশের জনগণের উপর তারা যে কালো দিন নামিয়ে এনেছে তার প্রতিশোধ নেব।” তিনি আরও বলেছেন, “আমি গাজার জনগণকে বলছি: এখনই সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে কারণ আমরা আমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে সর্বত্র আক্রমণ  করতে যাচ্ছি।” ২০০৭ সালে হামাস গাজায় ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলি বেশ কয়েকটি যুদ্ধে লিপ্ত হয়।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!