Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • ডিসেম্বর ১০, ২০২৫

সাংবাদিক হত্যায় শীর্ষে ইজরায়েল, চাঞ্চল্যকর তথ্য পেশ আরএসএফের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
সাংবাদিক হত্যায় শীর্ষে ইজরায়েল, চাঞ্চল্যকর তথ্য পেশ আরএসএফের

মঙ্গলবার, রিপোর্টার্স উইথআউট বর্ডারস-এর প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে, বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের উপর ক্রমবর্ধমান হামলা ও তাঁদের হত্যা করার মতো ঘটনার ভয়াবহ ছবি ফুটে উঠেছে। আরএসএফ-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ধারিবাহিকতা রেখে এই বছরও সবচেয়ে বেশি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন ইজরায়েলের হাতে। গাজার সংঘাতের সময় ২৯ জন ফিলিস্তিনি সাংবাদিক নিহত হওয়ার ঘটনা, বিশ্বের মোট নিহত সাংবাদিকের প্রায় অর্ধেকের সমান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী মোট ৬৭ জন সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন, যা ২০২৪ সালের ৬৬ জনের তুলনায় বেশি।

আরএসএফ-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ইজরায়েলি বাহিনী গত এক বছরে সাংবাদিক হত্যায় সবচেয়ে বড়ো ভূমিকা রেখেছে। ৪৩ শতাংশ সাংবাদিক নিহতের জন্য তারা দায়ী।’ আন্তর্জাতিক মিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, গাজার এই চলমান সংঘাতের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে বলা যায়, সাংবাদিকদের জন্য এখন গাজার পরিস্থিতি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। গাজার দক্ষিণে নাসের আল হাসপাতালে ২৫ আগস্ট ‘ডাবল-ট্যাপ’ হামলার ঘটনায় পাঁচজন সাংবাদিক নিহত হন। নিহতদের মধ্যে রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের দুই সাংবাদিকও রয়েছেন। ইজরায়েলি সেনাবাহিনী হামলাটিকে ‘লক্ষ্যভ্রষ্ট, দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন এবং আইডিএফকে তদন্ত শুরু করবার নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছিল, এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও তাঁর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। যদিও, পরবর্তীকালে ইজরায়েল জানিয়েছে, যুদ্ধ চলাকালীন নিহত কিছু সাংবাদিক আসলে যোদ্ধা ছিলেন। কিছু ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী হামাসের নথি দেখিয়েছে তাঁরা, যেখানে সাংবাদিকদের লড়াকু হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তবে যুদ্ধের শুরু থেকে গাজার মধ্যে বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে। ফলে, ফিলিস্তিনি সাংবাদিকরা একমাত্র তথ্য সরবরাহকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হাসপাতাল ও সাংবাদিকদের সুরক্ষা থাকা উচিত। তবে সামরিক কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্তি থাকলে এই সুরক্ষা হারানো যায়।

আরএসএফ-এর মহাপরিচালক থিবো ব্রুটিন বলেন, ‘সাংবাদিকদের প্রতি ঘৃণার ফলই এই মৃত্যু। এ বছর ৬৭ জন সাংবাদিক মারা গেছেন, এগুলো নিছক কোনো দুর্ঘটনা নয়, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নয়। তাঁরা নিহত হয়েছেন, কারণ তাঁরা নিজেদের কাজ দায়িত্ব সহকারে করছিলেন।’ তিনি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ব্যর্থতাকেও দায়ী করেছেন, যারা সশস্ত্র সংঘাতে সাংবাদিকদের রক্ষা করতে পারত। এটিকে তিনি বিশ্বব্যাপী সরকারের সাহসের অবক্ষয়ের ফল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ব্রুটিন আরও বলেছেন, ‘সাংবাদিকরা শুধু শুধু মারা যায় না, তাদের হত্যা করা হয়।’ গত বছরে ৯ জন সাংবাদিক নিহত হওয়ায় মেক্সিকোকে সাংবাদিকদের জন্য বিশ্বের দ্বিতীয় সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে ২০২৫ সালে ৩ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছে, আর সুদানে ৪ জন সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন। এই দেশগুলো সাংবাদিকদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক অঞ্চল হিসেবে আরএসএফ তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনটিতে সাংবাদিকদের কারাগারে থাকার পরিস্থিতিও উল্লেখ করা হয়েছে। চিন ১২১ জন সাংবাদিক আটক রাখার ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে, এরপর রাশিয়া (৪৮) এবং মায়ানমার (৪৭)। ১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ৪৭টি দেশে মোট ৫০৩ জন সাংবাদিক আটক ছিলেন। পাশাপাশি ৩৭টি দেশে ১৩৫ জন সাংবাদিক নিখোঁজ এবং বর্তমানে ২০ জনকে জিম্মি অবস্থায় রয়েছেন।

উল্লেখ্য, ইজরায়েল-হামাস সংঘাতের ২৬ মাসে ইজরায়েলি হামলায় প্রায় ৩০০ সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন। অর্থাৎ গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ১২ জন সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন। এখনো ইজরায়েল বিদেশি সাংবাদিকদের গাজায় প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে। প্রবেশাধিকার শুধুমাত্র ইজরায়েলি সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন সফরের মাধ্যমে সম্ভব। আন্তর্জাতিক মিডিয়া এবং সংবাদ স্বাধীনতা সংস্থাগুলো ফিলিস্তিনে প্রবেশাধিকার পেতে ইজরায়েলের কাছে আহ্বান জানিয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!