Advertisement
  • দে । শ মা | ঠে-ম | য় | দা | নে
  • অক্টোবর ৬, ২০২২

ফিফা অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপে দেশের হয়ে মাঠ কাঁপাবে ঝাড়খন্ডের ৬ আদিবাসী কন্যা

অস্টম, সুধা, অঙ্কিতা ছাড়াও ভারতীয় বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেয়েছেন অঞ্জলি মুন্ডা, পূর্ণিমা কুমারী, নিতু লিন্ডা এবং অনিতা কুমারী।

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ফিফা অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপে দেশের হয়ে মাঠ কাঁপাবে ঝাড়খন্ডের ৬ আদিবাসী কন্যা

ঝাড়খণ্ডের একটা গ্রামে বেড়ে উঠেছেন অস্টম ওরাওঁ। গ্রামটা এতটাই প্রত্যন্ত যে, ছোটবেলায় তিনি বিশ্বের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। গ্রামে না ছিল ফোন সংযোগ, না ছিল বিদ্যুৎ। বাবা–মা বছরের বেশিরভাগ সময় ক্ষেতে কাজ করেন। যে মাসগুলিতে ক্ষেতে কাজ থাকত না, অন্য কোথাও দৈনিক মজুরি হিসাবে কাজ খুঁজে নিতেন। সেই ক্ষেত মজুরের কন্যা এবার অনূর্ধ্ব ১৭ মেয়েদের বিশ্বকাপে মাঠ কাঁপাবে। তাঁর হাতেই সম্ভবত থাকবে নেতৃত্বের ব্যাটন।

অস্টমের সঙ্গে ঝাড়খণ্ডের আরও ৫ কন্যা অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপে ভারতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন। অস্টমের মতো সুধা,  অঙ্কিতা তিরকির বাবা–মাও ক্ষেতমজুরের কাজ করেন। ২০২০ সালে কোভিড লকডাউনের সময় কোনো কাজ ছিল না সুধা, অঙ্কিতার বাবা–মায়ের। মেয়েদের মুখে দু’‌বেলা খাবার তুলে দিতে পারতেন না। তা সত্ত্বেও মেয়েদের খেলা বন্ধ করেননি। এই দুই পরিবার মেয়ের হাত ধরেই নতুন করে স্বপ্ন দেখছে।

অস্টম, সুধা, অঙ্কিতা ছাড়াও ভারতীয় বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেয়েছেন অঞ্জলি মুন্ডা, পূর্ণিমা কুমারী, নিতু লিন্ডা এবং অনিতা কুমারী। ১১ অক্টোবর ভুবনেশ্বরের কলিঙ্গ স্টেডিয়ামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে ভারত। ঝাড়খন্ডের ৬ ফুটবলারের মধ্যে প্রথম একাদশে থাকা নিশ্চিত অস্টম ও সুধার।

লেফট ব্যাক অস্টমকে ফুটবলার হতে গিয়ে অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে পড়তে হয়েছে। গুমলায় ফুটবলের কোনও পরিকাঠামোই ছিল না। মেয়েকে ফুটবলার তৈরি করবেন বলে তার বাবা–মা গ্রাম থেকে প্রায় চার ঘন্টার পথ দূরে হাজারিবাগের সেন্ট কলম্বাস কলেজিয়েটে পাঠায়, যাতে সে ফুটবল খেলার সুযোগ পায়। প্রথমে লেফট উইংয়ে খেলত অস্টম। পরে লেফট ব্যাকে খেলতে শুরু করে। ২০১৯ সালে কোলাপুরে অনূর্ধ্ব ১৭ জাতীয় ক্যাম্পে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করে জাতীয় দলে সুযোগ পায়। পূর্ণিমা কুমারীও কৃষক পরিবার থেকে উঠে এসেছে।

ঝাড়খণ্ডের সবচেয়ে উজ্জ্বল সম্ভাবনার ফুটবলার হল মিডফিল্ডার নিতু লিন্ডা। অন্যদের তুলনায় তাকে অনেক বেশি সংগ্রাম করে উঠে আসতে হয়েছে। ছোটবেলায় মা–কে হারায় নিতু। তার বাবা লিন্ডার একটি রুক্ষ শৈশব ছিল, যখন তিনি ছোট ছিলেন তখন তার মা মারা যান। তার বাবা ফার্মে কাজ করতেন। কঠিন সংগ্রাম করে সংসার চালালেও মেয়েকে সবসময় খেলার জন্য উৎসাহিত করতেন। দলের মধ্যে কনিষ্ঠ নিতু সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিবান। রাঁচির স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছে।
নিতু লিন্ডার মতো গোলকিপার গোলরক্ষক অঞ্জলি মুন্ডাও সাই থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছে৷ যদিও ডিফেন্ডার হিসেবে ফুটবলজীবন শুরু করেছিল অঞ্জলি। লম্বা হওয়ায় কোচ তাকে গোলকিপিংয়ের পরামর্শ দেন। সেই থেকেই দূর্গ আগলাচ্ছে অঞ্জলি।

ছোট প্যান্ট পরে ক্রিকেট খেলার জন্য অঞ্জলির সতীর্থ অনিতা কুমারীকে ও তার পরিবারকে একসময় গ্রামবাসীদের কটূক্তি শুনতে হত। কিন্তু তারা কেউই কর্ণপাত করেনি। অনিতা ও তার পরিবার বুঝতে পেরেছিল, ফুটবলই তাদের উপার্জনের পথ হতে পারে। রাইট ব্যাকে শুরু করলেও পরে স্ট্রাইকারে পরিনত হয়।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!