Advertisement
  • Uncategorized এই মুহূর্তে দে । শ
  • নভেম্বর ১৫, ২০২২

জো-শি শীর্ষ বৈঠকে উজ্জ্বল সম্ভাবনার সাক্ষী হয়ে রইল বালির জি ২০ সম্মেলন।

দুই নেতা একমত, ইউক্রেনে পরমাণু অস্ত্রের ব্যবহার রুখতে হবে। চিন-মার্কিন ঠান্ডাযুদ্ধের আশঙ্কার উষ্ণপাত

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জো-শি শীর্ষ বৈঠকে উজ্জ্বল সম্ভাবনার সাক্ষী হয়ে রইল বালির জি ২০ সম্মেলন।

সাম্প্রতিক ইতিহাসের এ এক উজ্জ্বল মুহূর্ত। চিন-মার্কিন সম্পর্ককে স্বাভাবিক করে তুলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন চিনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এড়িয়ে চলতে চেয়েছেন সঙ্ঘাত আর ঠান্ডা যুদ্ধের আশঙ্কা।

সোমবার জি-২০ সম্মেলনের অবকাশে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে, তিনঘন্টা কথা বলেছেন দুই বৃহৎশক্তির দুই সর্বোচ্চ নেতা। উভয়েই বুঝতে পেরেছেন, বিশ্ব কোথাও সঙ্ঘাত চায় না। এড়াতে চায় সভ্যতার সঙ্কট। শি-বাইডেন একমত হয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে। এ মারাত্মক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি ত্যাগ করতে হবে। দুই, দুদেশের প্রতিযোগিতা চলছে, চলুক। কিন্তু সরাসরি সঙ্ঘাত প্রত্যাশিত নয়। তিন, চিন আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঠান্ডাযুদ্ধের আশঙ্কা নেই। এরকম কোনও পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

বৈঠক শুরু করার আগে দুই রাষ্ট্রপ্রধান হাসিমুখে একে অন্যের সঙ্গে করমর্দন করে বুঝিয়ে দেন যে, সব পূর্বধারণা বর্জন করে তাঁরা আলোচনায় বসছেন এবং বৈঠকের প্রায় সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব অবাক হয়ে জানতে পারল যে ইউক্রেন যুদ্ধ, চিনের শিংজিং প্রদেশ আর তিব্বতে সংখ্যালঘুদের বিতর্কিত সমস্যা নিয়ে তাঁদের আলাপ হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, দুই অঞ্চল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি নাকি বলেছেন, দুই অঞ্চলেই আক্রমণাত্বক মনোভাব চিনকে বর্জন করতে হবে।মার্কিন মুলুকের বিবৃতি প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গে চিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চিনের প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে বলেছেন, সারা বিশ্ব তাঁর দেশের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক উন্নতির প্রত্যাশা করে। দ্বিতীয়ত, তাইওয়ানের ভৌগলিক অবস্থান চিনের সঙ্গে জড়িত। এক্ষেত্রে বেইজিং এর স্বার্থও বিযুক্ত নয়। চিন দ্বীপটিকে তার নিজের অংশ মনে করে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এটাই শির সঙ্গে বাইডেনের প্রথম  মুখোমুখি বৈঠক। বাইডেন যখন আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখন শির সঙ্গে তাঁর একাধিকবার দেখা হয়েছে। বালি শীর্ষ বৈঠকের আগে দুই রাষ্ট্রনেতা, ফোনে আর ভিডিও কন্ফারেন্সে পাঁচবার কথা বলেছেন। ফোনালাপ থেকেই পরিষ্কার হয়ে ওঠে যে, খোলা মনে দুজনের বৈঠক আসন্ন, দুই দেশই কূটনৈতিক সঙ্ঘাতের অবসান চাইছে। বিশ্ব তাঁদের মুখোমুখি সাক্ষাতের দিকে পরম আগ্রহ নিয়ে তাকিয়েছিল। তবে বহুদেশই ভাবেনি যে, দুজনের কথাবার্তা, সব নেতিকে অগ্রাহ্য করে সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। কোনও কোনও দেশ সংশয়াচ্ছন্ন যে, শি জোর বৈঠকের পরবর্তী অবস্থা খুব একটা ফলপ্রসূ হবে না। ভবিষ্যতের বাস্তব অবশ্য ভিন্নতর সঙ্কেত উঁচিয়ে ধরছে। প্রেসিডেন্ট বাইডেন আরও দুবছর ক্ষমতায় থাকবেন। তিনি মনে প্রাণে বিশ্বে শান্তিস্থাপনের অন্যতম স্থপতির ভূমিকায় অবতীর্ণঁ হতে চান।দেশের অভ্যন্তরীন পরিস্থিতি অনুকূল নয়। রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের পরোক্ষ প্ৰভাব পড়ছে। এ অবস্থায় রাশিয়াকে চাপে রাখতে চিনের সহযোগিতা দরকার। চিনও বুঝতে পেরেছে, তার অর্থনৈতিক অগ্রগতি বজায় রাখতে হবে। মধ্য এশিয়া, আফ্রিকা ও পশ্চিম এশিয়া তার পণ্যপ্রবেশ অব্যাহত রাখতে নমনীয় মনোভাব গ্রহন করবে। এক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গেও সম্পর্কের পুনর্বিন্যাসের চেষ্টা করবে। সঙ্ঘাত আর কূটনৈতিক সঙ্ঘর্ষ কখনও ফলপ্রসূ হয় না।ঠান্ডাযুদ্ধ দেশের সঙ্কট ডেকে আনে। অতএব এসব এড়িয়ে চলতে হবে। গড়তে হবে নতুন দিগন্ত। দিগন্তের ভিন্নরকম উন্মোচন আমেরিকা ও চিনকে ডাকছে। এডাকে দুদেশেরই সর্বোচ্চ নেতারা সাড়া দিতে প্রস্তুত।

সোভিয়েত রাশিয়ার পতনের পর বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক ক্ষমতা বিস্তারের সমীকরণ বদলে যায়। রাশিয়ার শূণ্যস্থান দখল করে নেয় চিন।ভারতও এগিয়ে অআসে।পশ্চিম এশিয়া, উপসাগরীয় অঞ্চল, মধ্য এশিয়া আর আফ্রিকায় চিনের ধীরপ্রবেশ তাঁকে সংযমের শিক্ষা দেয়। হোয়াইট হাউসও বিলম্বিত হলেও বুঝতে পারে, পরদেশে অস্ত্রপ্রয়োগ আর সেনা নিয়োগ তার ভাবমূর্তিতে কালোচিহ্ন একে দিয়েছে। ওবামার আমল থেকেই ওয়াশিংটন আগ্রাসী বিদেশনীতিতে রাশটানার চেষ্টা শুরু করে। এ প্রয়াস এখন আরও উজ্জীবিত।শি-জোর বালি বৈঠকে আলোচিত, প্রত্যাশিত বিষয়গুলির পরিপ্রেক্ষিতে বিচার করতে হবে। এসব দিক থেকেই জো-শির বৈঠকে তৈরি হল এমন এক সম্ভাবনা, যা বিশ্বকে আশ্বস্ত, স্বপ্নময় করে তুলবে। ইতিহাস এরকম বহুঘটনার সাক্ষী যে, কোনও কোনও শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকের পর থমকে গেছে, অশান্তি আর উত্তেজনার অনাকাঙ্খিত কালো ঘোড়া।ধ্বংস আর ভাঙন মাড়িয়ে নব গঠনে, নব প্রাণে ছোটেনি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধোত্তর পৃথিবী ?


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!