Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • মার্চ ৫, ২০২৫

যাদবপুরে আন্দোলনে অনড় ছাত্ররা, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন উপাচার্য

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
যাদবপুরে আন্দোলনে অনড় ছাত্ররা, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন উপাচার্য

যাদপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গত শনিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে কেন্দ্র করে যে ঘটনা ঘটেছিল, তার রেশ এতটুকুও কমেনি বুধবারও। রবিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত আন্দোলনরত ছাত্রদের তরফে নেওয়া হয়েছে একাধিক কর্মসূচি। বিশ্ববিদ্যালয়ে অবশ্য নির্বিঘ্নে সেমিস্টার ও বিভাগীয় পরীক্ষা দিয়েছেন ছাত্রছাত্রীরা, পাশাপাশি চলেছে ‘পেন ডাউন’-এর কর্মসূচী। পড়াশোনা ও আন্দোলনকে পাশাপাশি রেখে হাঁটতে চাইছেন ছাত্র সংগঠনগুলি।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায়, যাদবপুরের ছাত্ররা জেনারেল বডি মিটিং করে আন্দোলনের গতিমুখ নির্ধারণ করে। তাঁদের তরফে দাবি করা হয়, বুধবার বিকেল ৪টের মধ্যে উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে এসে শনিবারের ঘটনায় পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেবার বিতর্কিত মন্তব্য করবার জন্য ছাত্রদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। এছাড়াও শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তির পক্ষে সওয়াল করতে হবে কর্তৃপক্ষকে। গতকাল রাতভর ধর্না চালিয়ে গিয়েছেন পড়ুয়ারা। ভিসির কার্যালয় অরবিন্দ ভবনে ধর্নায় বসে ছাত্ররা দাবি করেন, যে সমস্ত ছাত্রদের বিরুদ্ধে তৃণমূল ও পুলিশের তরফে এফআইআর করা হয়েছে এবং প্রাক্তনী এক ছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে উপাচার্যকে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সে দিনের ঘটনায় আহত ছাত্রদের চিকিৎসার খরচাও ইউনিভার্সিটিকে বহন করতে হবে। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ে যাননি উপাচার্য ভাস্কর গুপ্ত। অসুস্থতার কারণে বাড়িতে বিশ্রামে রয়েছেন তিনি। তবে বাড়ি থেকেই খোঁজখবর রাখছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতির। শিক্ষাঙ্গনে শান্তি ফেরাতে শিক্ষক সংগঠনগুলির সাথে ভার্চুয়াল বৈঠকও করেন। সবার কাছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে যথাযথ ভূমিকা রাখবার অনুরোধ করেন। রাজ্য সরকারের কাছে নিরাপত্তা বাড়ানোর আর্জি পাঠানো হয়।

শনিবার রাতে আহতদের দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে পড়ুয়াদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। উপাচার্যের পরনে পাঞ্জাবি ছিঁড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছিল। বুধবার সকালে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। রক্তচাপ জনিট অসুস্থতার কারণে তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন । তাঁর পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছে, শনিবারের পর থেকেই ক্রমাগত অসুস্থ হয়ে পরছেন তিনি। এই মূহূর্তে তাঁর রক্তচাপ ১৭০-৯০ এর মধ্যে রয়েছে। রয়েছে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের আশঙ্কাও। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ‘ওঁর রক্তচাপ ওঠানামা করছে। ওষুধ দিয়েও তা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছিল না। যে হেতু বছর কয়েক আগে এক বার ওঁর সেরিব্রাল অ্যাটাক হয়ে গিয়েছে, তাই আমরা দ্রুত তাঁকে ভর্তি করে নিয়েছি।’ এরকম পরিস্থিতিতে ছাত্রদের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে উপাচার্যের ক্যাম্পাসে যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ, তাহলে কী এবার বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামবে প্রতিবাদের অপর নাম বলে পরিচিত যাদবপুর?

অন্যদিকে, ছাত্র আন্দোলনে জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশনা বিঘ্নিত হচ্ছে, নিরাপত্তার অভাবে ভুগছেন সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা, এই মর্মে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম এবং বিচারপতি চৈতালি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করা হয়। বুধবার আবেদনকারীর তরফে দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হয়। কিন্তু বিচারপতিরা এ মামলায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রাজ্য সরকারের সহজায়তায় নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। রাজ্য সরকারকে এক্ষেত্রে ভূমিকা নিক। আদালতের এক্ষেত্রে খুব বেশি কিছু করবার নেই। জনস্বার্থ মামলাকারী আইনজীবী অর্ক নাগ, কোর্টে সওয়াল করেন, ‘ছাত্র আন্দোলনের জেরে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা বন্ধ, উপাচার্য ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারছেন না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।’ উত্তরে বিচারপতি মন্তব্য করেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন রয়েছে। তা ছাড়া ওই বিষয়ে হস্তক্ষেপের জন্য রাজ্যের নিজস্ব ক্ষমতা রয়েছে। রাজ্যকে সেই ক্ষমতা মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা বসে নেই। আইনশৃঙ্খলা জনিত বিষয় হলে পুলিশ পদক্ষেপ করুক।’ এদিন রাজ্যের গোয়েন্দাদের ভূমিকা নিয়ে প্র‌শ্ন তুলে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন, নিজেদের কাজে রাজ্যের গোয়েন্দাদের ক্যাজুয়াল মনোভাবে রাজ্যে বড়ো কোনো বিপদ ঘটে যেতে পারে । পাশপাশি এদিন আহত ছাত্র ইন্দ্রানুজের ইমেলে অভিযোগকে মান্যতা দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশ দেন তিনি । এবং বুধবারই ইন্দ্রানুজের এফআইআর গ্রহনের আদেশ দিয়েছেন বিচারপতি । ১২ মার্চ এই মামলার পরবর্তী শুনানি ।

এত বিতর্কের মাঝে শনিবারের ঘটনা ঘটবার পিছনে প্রধান যে দাবি অর্থাৎ অবিলম্বে ছাত্র সংসদ নির্বাচন করাতে হবে, তা ফিকে হয়ে যাচ্ছে না তো ? ন্যায্য দাবি থেকে নজর ঘোরাতেই এত কাণ্ড ? প্রশ্ন করেছেন পড়ুয়াদের একাংশ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!