- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ২৭, ২০২৫
আরজিকর আন্দোলনের মুখ, চিকিৎসকদের বদলি ঘিরে বিতর্ক। প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে সরব জুনিয়র ডাক্তাররা
আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা তিন জুনিয়র চিকিৎসকের একযোগে বদলির ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে চিকিৎসক মহলে। এই বদলিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল বলে অভিযোগ তুলেছে ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্ট এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরাম। বদলি হওয়া চিকিৎসকদের মধ্যে রয়েছেন দেবাশিস হালদার, অনিকেত মাহাতো এবং আসফাকুল্লা নাইয়া। তাঁদের তিনজনকেই পূর্ব-নির্ধারিত পোস্টিংয়ের পরিবর্তে কলকাতা থেকে দূরে, রাজ্যের প্রান্তিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দেবাশিস হালদার, যিনি কাউন্সেলিংয়ের সময় হাওড়া জেলা হাসপাতাল বেছে নিয়েছিলেন, সেইমতো নিয়োগপত্রও পেয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত দেখতে পান তাঁর পোস্টিং হয়েছে মালদহ জেলার গাজোল মহকুমা হাসপাতালে। অভিযোগ, সেখানে না কি শূন্যপদের কোনো উল্লেখই ছিল না।
ঘটনায় হতবাক দেবাশিস অভিযোগ করেন, ‘আমার ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন ঘটেছে, তা পরিকল্পিত আর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কাউন্সেলিংয়ের প্রক্রিয়া অনুযায়ী সব নিয়ম মানা হলেও শুধু আমার পোস্টিং বদলে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি জানান, এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি আইনি পথে হাঁটার কথা ভাবছেন। অন্যদিকে, বাকি দুই চিকিৎসক—অনিকেত মাহাতো ও আসফাকুল্লা, যাঁরা আগে আরজি কর ও আরামবাগ হাসপাতালে পোস্টিং পাবেন বলে জানতেন, তাঁদের স্থানান্তর করা হয়েছে রায়গঞ্জ ও পুরুলিয়ায়। তাঁদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে—কাউন্সেলিংয়ে দেওয়া পছন্দ উপেক্ষা করে পোস্টিং বদলে দেওয়া হয়েছে। অনিকেত এবং আসফাকুল্লা এতদিন পিজিটি হিসবে কর্মরত ছিলেন। এবার তাঁরা সিনিয়র রেসিডেন্ট চিকিৎসক হিসেবে কাজ করবেন । সেই কারণেই পোস্টিংয়ের জন্য কাউন্সেলিং হয় তাঁদের।
জুনিয়র ডাক্তারদের দাবি, ৭৭৮ জন চিকিৎসকের কাউন্সেলিং প্রক্রিয়ার মধ্যে, কেবলমাত্র এই তিনজনের ক্ষেত্রেই অস্বাভাবিকভাবে পোস্টিং বদলানো হয়েছে, যা নজিরবিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে করছেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, আরজি কর আন্দোলনের সময় তাঁরা আন্দোলনের মুখ হয়ে উঠেছিলেন বলে তাঁদের টার্গেট করা হচ্ছে। ডব্লিউবিজেডিএফ-এর সদস্যদের বক্তব্য, এই বদলির পিছনে স্পষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। তাঁরা স্বাস্থ্য ভবনের সামনে বিক্ষোভে বসেছেন। তাঁদের হুঁশিয়ারি, যদি এই সিদ্ধান্ত ফিরিয়ে নেওয়া না হয়, তাহলে তাঁরা আইনি পদক্ষেপ নেবেন। আসফাকুল্লা বলেছেন, ‘আমাদের চুপ করিয়ে দিতে চায় প্রশাসন। আন্দোলনের সময় আমাদের ভয় দেখানো হয়েছিল, এখন বদলি করে চাপে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু আমরা মাথা নত করব না।’ তবে এ পর্যন্ত স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের কোনো সরকারি প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
স্বাস্থ্যভবনে এই বিষয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিবের সঙ্গে দেখা করতে যান জুনিয়র চিকিৎসকরা । তাদের অভিযোগ, মেধাতালিকার ভিত্তিতে নিয়োগ হয়নি । যদিও জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা করেননি রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব । এরপরই ধর্ণা শুরু করেন তারা ।
❤ Support Us







