- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ৫, ২০২৫
বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে পদদলিত হয়ে ১১ জনের মৃত্যু। কর্ণাটক হাই-কোর্টে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা, পরবর্তী শুনানি ১০ জুন
দীর্ঘ অপেক্ষার পর আরসিবির আইপিএল জয়ের আনন্দ উদযাপন যে মর্মান্তিক পরিণতির দিকে গড়াবে, তা বোধহয় স্বপ্নেও ভাবেননি কেউ। বুধবার বেঙ্গালুরুর এম চেন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের সামনে মৃত্যুমিছিল। পদদলিত হয়ে প্রাণ হারান ১১ জন। আহত হয়েছেন অন্তত ৩৩ জন। এ ঘটনায় রাজ্য তথা দেশজুড়ে ছড়িয়েছে প্রবল চাঞ্চল্য। এবার ওই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা গ্রহণ করেছে কর্ণাটক হাই-কোর্ট। এদিন শুনানিতে, রাজ্য সরকারকে নোটিশ পাঠিয়ে আদালত জানতে চেয়েছে, কী ভাবে এই ঘটনা ঘটল এবং ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় আটকাতে কী পদক্ষেপ করা হবে। মামলার পরবর্তী শুনানি ১০ জুন।
চেন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা যেখানে মাত্র ৩৩ থেকে ৩৫ হাজার, সেখানে ভিড় হয়েছিল প্রায় ৩ লক্ষাধিক মানুষের। ভিড়ের চাপে ভেঙে পড়ে স্টেডিয়ামের গেট। ব্যপক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি। শুরু হয় হুড়োহুড়ি। পদদলিত হয়ে মৃত্যু হয় ১১ জনের। আহতদের মধ্যে অনেকেই এখনো চিকিৎসাধীন। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল হাই কোর্টে জানান, ওই দিন প্রায় ১৪৮৩ জন পুলিশ কর্মী মোতায়েন ছিল। কিন্তু এত বড় জমায়েতের মোকাবিলা করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, ‘স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় ২.৫ লক্ষেরও বেশি মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী তৎক্ষণাৎ ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেছেন। আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে সরকার।’ পাল্টা সিনিয়র অ্যাডভোকেট অরুণ শ্যাম আদালতে সওয়াল করেন, ‘স্টেডিয়ামে ও বিধানসৌধে দুটি অনুষ্ঠান ছিল। আমাদের জানতে হবে কোথায় কোথায় অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন ছিল। এত মানুষের ভিড় কীভাবে অনুমোদন পেল? শুধুমাত্র ৩টি গেট খোলা হয়েছিল, তা-ও এমন স্টেডিয়ামে, যার সীমিত ধারণক্ষমতা।’ তিনি এই ঘটনাকে ‘ফৌজদারি গাফিলতি’ হিসেবে অভিহিত করেন।
দু-পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত জানায়, ‘ঘটনার কারণ নির্ধারণ আর ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি রুখতে রাজ্যকে পদক্ষেপ করতে হবে। আমরা স্বতঃপ্রবৃত্তভাবে মামলাটি গ্রহণ করছি। অ্যাডভোকেট জেনারেল ইতিমধ্যে একটি স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিয়েছেন, সেটিকে রেকর্ডে নেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ জুন ফের শুনানি হবে।’ জানা যাচ্ছে, এই ঘটনা নিয়ে কাব্বন পার্ক থানায় কয়েকটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। একটি মামলায় মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া, উপমুখ্যমন্ত্রী ডি.কে. শিবকুমার আর কর্ণাটক ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ আনা হয়েছে। সমাজকর্মী স্নেহময়ী কৃষ্ণ এই মামলাটি দায়ের করেছেন।
ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে, বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া সাফাই দিয়ে জানিয়েছেন, ‘আমরা ভাবতেই পারিনি এত মানুষ আসবেন। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা হয়েছিল। এর জন্য কোনও অজুহাত দিচ্ছি না। ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। রিপোর্ট পেতে ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ আর আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব রাজ্য সরকার নেবে।’
বিজেপি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারের উপরে চাপ বাড়িয়েছে। পাল্টা সিদ্দারামাইয়া কুম্ভমেলার প্রসঙ্গ টেনে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন। ক্রীড়াজগতেও শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনার প্রবল জোয়ার। বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ শইকীয়া বলেন, ‘বেঙ্গালুরুর ঘটনা চোখ খুলে দেওয়ার মতো ঘটনা। আইপিএল জয়ের উৎসব কেমন হবে, তার নিয়ম আনতে হবে। এখন যে কেউ যেমন খুশি অনুষ্ঠান করছে—তা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।’ গভর্নিং কাউন্সিল চেয়ারম্যান অরুণ ধুমল বলেন, ‘আমরা জানতামই না, কোথায় কীভাবে অনুষ্ঠান হচ্ছে। এখন থেকে বোর্ড এ সব দেখবে।’
❤ Support Us







