- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ২৩, ২০২৫
কসবার ল-কলেজে যৌন নির্যাতন মামলায় ৪ অভিযুক্তকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ
কসবার ল-কলেজে তরুণী পড়ুয়ার উপর যৌন নির্যাতন চালানোর ঘটনায়, মূল অভিযুক্ত সহ ৪ জনকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দিল আলিপুর আদালত। মঙ্গলবার কড়া নিরাপত্তার মধ্যে অভুযুক্তদের তোলা হয় আলিপুর এসিজেএম আদালতে। অভিযুক্তরা হলেন— মনোজিৎ মিশ্র, জইব আহমেদ, প্রমিত মুখোপাধ্যায় এবং কলেজ চত্বরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পিনাকী বন্দ্যোপাধ্যায়।
আদালতে অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্রের আইনজীবী রাজু গাঙ্গুলি একের পর এক অভিযোগ তোলেন জেল হেফাজতের পরিস্থিতি নিয়ে। তাঁর দাবি, জেলে মনোজিৎকে পর্যাপ্ত খাবার, পানীয় জল পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না নিয়মিত। আরো গুরুতর অভিযোগ তুলে আইনজীবী দাবি করেছেন, জেলে জোর করে তাঁকে ‘অপরাধ স্বীকার’ করানোর চেষ্টা চলছে। এদিন আদালতে আইনজীবী রাজু গাঙ্গুলি সওয়াল করে বলেন, ‘আমরা আজ ৩টি আবেদন জানিয়েছি, যার মধ্যে একটি জামিন সংক্রান্ত নয়। আদালতের কাছে আর্জি জানানো হয়েছে, জেলে মশার জাল, কম্বল, বই ও কাগজ কলম যেন দেওয়া হয়। এছাড়া, জেল সুপারের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে যে, আইনজীবীদের যাতে নিজেদের মক্কেলের সঙ্গে কথা বলার জন্য অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়।’ তিনি জানিয়েছেন, ‘মনোজিৎকে জেরা করার সময়ে তাঁর পক্ষের ২জন আইনজীবী যেন উপস্থিত থাকতে পারেন, এ আবেদন আদালতে মঞ্জুর হয়েছে। পাশাপাশি, ভারতীয় সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একাধিক মৌলিক অধিকার তাঁকে দিতে হবে। তা নিশ্চিত করার অনুরোধও জানানো হয়েছে।’
তবে এই দাবিকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন কলকাতা পুলিশের প্রধান সরকারি কৌঁসুলি সৌরীন ঘোষাল। তাঁর বক্তব্য, ‘তাঁদের পক্ষ থেকে যে ৩টি আবেদনপত্র দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে একটি ছিল জামিনের আবেদন, যেটি খারিজ হয়ে অভিযুক্তদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।’ প্রসঙ্গত, ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, তদন্ত চালাবে কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘শিট’। রাজ্য সরকার ১০ জুলাই এই মামলার তদন্তের সিলবন্দি রিপোর্ট জমা দেয় হাইকোর্টে। সেইসঙ্গে আদালতের নির্দেশে, কোর্টের অনুমতি ছাড়া ভুক্তভোগী ছাত্রীর বয়ান বা চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনও তথ্য প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিটের-এর তদন্তে তাঁরা আপাতত সন্তুষ্ট। তবে, হাজার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন আগেই স্থানীয় পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, সে প্রশ্ন উঠছে। তদন্তকারী অফিসারদের এ বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা করবার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
❤ Support Us







