- এই মুহূর্তে দে । শ
- ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬
গ্রিনহাউস গ্যাস নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ কলকাতা পুরসভার
বিশ্ব উষ্ণায়নের জেরে আজ সংকটে গোটা বিশ্ব। সেই প্রভাব থেকে বাদ পড়েনি শহর কলকাতাও। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা ও দূষণের কারণে গত কয়েক বছরে অসহনীয় গরমে নাভিশ্বাস ফেলছেন শহরবাসী। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন কমিয়ে তাপমাত্রা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে জোর দিয়েছে কলকাতা পুরনিগম (কেএমসি)।
এই লক্ষ্যেই শহরের নাগরিকদের জন্য দু’দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করেছে পুরনিগম। প্রশিক্ষণের পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে ‘নেট জিরো ইমিশন অ্যান্ড কার্বন ক্রেডিট’। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে শংসাপত্র।
এই প্রশিক্ষণ শিবিরের উদ্বোধন করেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত মেয়র পারিষদ স্বপন সমাদ্দার, ডিজি পার্থ সামন্ত এবং বিশিষ্ট বিজ্ঞানী অভিজিৎ মিত্র।
পুরনিগম সূত্রে জানা গেছে, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়েই এই প্রশিক্ষণে আলোচনা ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। কেএমসি-র ওয়েবসাইটে এই প্রশিক্ষণের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। সেখান থেকেই ইচ্ছুক নাগরিকরা আবেদন করেন। আবেদনের জন্য ন্যূনতম যোগ্যতা ছিল স্নাতক পাশ। শহর থেকে মোট ৫০ জনেরও বেশি নাগরিক আবেদন করেন। তাঁদের মধ্যে ২৫ জন করে দু’টি দলে ভাগ করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
বিজ্ঞানী অভিজিৎ মিত্র বলেন, “বর্তমান সময়ে কার্বন নিঃসরণ বেড়ে চলেছে, যা নিয়ন্ত্রণ করা বড় চ্যালেঞ্জ। এই কাজ একেবারে নিচুতলা থেকে শুরু করতে হবে। জনসচেতনতা অত্যন্ত প্রয়োজন। যাঁরা এই প্রশিক্ষণ নেবেন, তাঁরাই ভবিষ্যতে মানুষকে সচেতন করবেন। শহরে এখন গাছের প্রকৃত মূল্য নির্ধারিত হয় না। অথচ কোন গাছ কতটা কার্বন শোষণ করতে পারে, তার ভিত্তিতেই তার মূল্য নির্ধারণ হওয়া উচিত।”
মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, “রাজনীতিতে পরিবেশ বিষয়টি সবচেয়ে বেশি অবহেলিত, অথচ মানবজীবনের জন্য এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে অর্থের চেয়ে বেশি জরুরি তাদের জন্য সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করা। আজ যাঁরা এই প্রশিক্ষণ নেবেন, তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে মানুষকে সচেতন করবেন কীভাবে কার্বন নিঃসরণ কমানো যায়।”
উল্লেখ্য, এর আগে শহরের পরিবেশ রক্ষায় জনগণকে সচেতন করতে ‘পরিবেশ যোদ্ধা’ কর্মসূচির আওতায় ৫০-এর বেশি নাগরিককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই উদ্যোগকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন নিয়ন্ত্রণে সরাসরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে নাগরিকদের। জনসচেতনতার মাধ্যমেই বিশ্ব উষ্ণায়ন রোধ সম্ভব—এই বিশ্বাসেই কেএমসি’র এই বিশেষ পদক্ষেপ।
❤ Support Us







