Advertisement
  • Uncategorized ক | বি | তা রোব-e-বর্ণ
  • মে ৮, ২০২২

গুচ্ছ কবিতা

তৈমুর খান
গুচ্ছ কবিতা

চিত্র: মিল্টন ভট্টাচার্য

   সংকট

আমি সংকটের নিকটে রোজ যাই

চেয়ে থাকি তার গর্তের দিকে

দু’চোখ জুড়ে শুধু অন্ধকার

 

ওখানে কি বিশ্রাম থাকে তবে?

বিশ্রামের সঙ্গে কি বিবাহ আমার?

তবে তো আঁধারগামী, আমাদের পাতালে বাসর!

 

নক্ষত্রখচিত মেঘ কবরী সাজায়

তাদের আলোর ঘ্রাণে জেগে ওঠে কাদের সমাজ?

আমার সমাজ নেই ; সারারাত আগলাই মৃত বিশ্বাস।

 

নিশিহাঁস উড়ে গেলে বুঝি তারও প্রাগভাষা আছে

নিঃশব্দে স্মৃতির দাঁড় টেনে নিয়ে যায় এ-জীবন

বাতাস কুড়িয়ে নেয় ঝরা দীর্ঘশ্বাস…

 

আমি শুধু কলেবর দেখি

অহংকার মোচন হলে এই শীর্ষদেশ

ইন্দ্রিয় মুছে ফেলে দ্যাখে শুধু ধ্বংসাবশেষ।

 

নিশিবেলায়

পাখির মতো ক্লান্ত দিন

চলে যায়

যেতে যেতে ডাকে

ডাকার সংকেতে

নিভে যায় আলো

আঁধারের চুলগুলি জড়াই

প্রিয়ার মতোন চোখেমুখে

 

মিনতি

নত হতে পারি, বিপ্লবী হব না

গার্হস্থ্য নদীর তীরে তুমি

আমাকে সুরের কম্পন দাও

হৃদয় ভাসাব

 

সেরকম তীর্থ নেই কোথাও

শুধু কাক আছে, কাকের নির্জন নেই

পরন্তু আকাশ নীল; কল্পনারা যায়

মনে মনে অদৃশ্য রংধনু

 

বেলা যায়; নষ্ট সারল্যরা

ভাষা খুঁজে ফিরে এলে

তোমাকে কাঙ্ক্ষিত মনে হয়

বৈরাগ্য নিইনি কখনো

 

আঁচল পেতে দিলে

সুখের ইচ্ছেরা নির্বোধ সন্তান

তোমার মুখের দিকে চায়

বিশেষ্য-ক্রিয়ায় তুমি দেহ ধারণ করো।

 

এ শরীর বেঁচে থাকে

সব যাতনার ভাষা লুকিয়ে ফেলি

আজ আর খুঁজি নাকো মৃতবিশ্বাসের চাবিগুলি

এ শরীর বেঁচে থাকে জৈবপদ্ধতির ক্রিয়ায়

আর তার মহিমা প্রকাশ করে

 

ক্লান্ত বৈরাগ্যের ছায়ায় তার দীর্ঘশ্বাস পড়ে

 

এক একটি বন্ধ্যা যুগ

ধুলোঘর বারবার ভেঙে গেলে

তবুও নির্মাণ করি ঘর,

জ্যোৎস্না এসে সঙ্গম শেখায়

প্রতিরাতে আমি হই কল্পনার বর

 

তবুও সন্তান নেই, এক একটি বন্ধ্যা যুগ

কারুণ্য কেটে কেটে বিষাদ চুম্বন আঁকি

স্তব্ধতার গার্হস্থ্য যাপন চলতে থাকে

আমাদের অক্ষরগুলি প্রত্যাশিত ঐশ্বরিক হয়

 

ধারণার লাবণ্যলতায় কখনো কখনো ফুল ফোটে

সেসব ফুলের গন্ধ পেলে

বসন্ত সাজাই নির্বাসনে

শব্দের কোকিল ডেকে ওঠে নৈঃশব্দ্যের বিকেলে।

♦—♦


❤ Support Us
error: Content is protected !!