Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জানুয়ারি ২১, ২০২৬

রাত পেরোলেই শুরু আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা । উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী, ১৫ বছর পর ফিরছে চিন

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
রাত পেরোলেই শুরু আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা । উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী, ১৫ বছর পর ফিরছে চিন

রাত পেরোলেই শুরু বাঙালির সবচেয়ে বড়ো সাহিত্য উৎসব। আগামী ২২ জানুয়ারি সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে শুরু হচ্ছে ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা। উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেলা চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

এবছরের বইমেলায় আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের নিরিখে থাকছে একাধিক তাৎপর্যপূর্ণ সংযোজন। ১৫ বছর পর আবার কলকাতা বইমেলায় অংশ নিচ্ছে চিন। শেষবার ২০১১ সালে এই বইমেলায় দেখা গিয়েছিল চিনা প্যাভিলিয়ন। আয়োজক পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডের আমন্ত্রণে শেষ মুহূর্তে নিজেদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে তারা। পাশাপাশিএই প্রথমবার আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় অংশ নিতে চলেছে ইউক্রেন থাকছে রাশিয়াও। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের উপস্থিতি এবছরের বইমেলায় আন্তর্জাতিক আলোচনার এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করছেন আয়োজকরা।

মঙ্গলবার গিল্ডের তরফে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায় জানানএবছর মোট ২১টি দেশ সরাসরি এবং যৌথভাবে আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় অংশ নিচ্ছে। তবে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো এবছরও বইমেলায় থাকছে না বাংলাদেশ। গিল্ডের তরফে জানানো হয়েছেবর্তমান ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রেক্ষিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না পাওয়ায় বাংলাদেশের প্রকাশকদের অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। যদিও কোনো ভারতীয় স্টলে বাংলাদেশি বই রাখা হলে তাতে গিল্ডের কোনো আপত্তি নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন আয়োজকরা। এছাড়া বাজেট বরাদ্দ না পাওয়ায় এবছর বইমেলায় অংশ নিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্রও।

এবছরের বইমেলার ফোকাল থিম দেশ আর্জেন্টিনা। উদ্বোধনী মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন আর্জেন্টিনার বিশিষ্ট সাহিত্যিক গুস্তাবো কানসোব্রে এবং ভারতে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মারিয়ানো কাউসিনো। পাশাপাশি থাকবেন রাজ্যের বিশিষ্ট কবিসাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। উদ্বোধনের দিন গিল্ডের জীবনব্যাপী সাহিত্য সম্মান প্রদান করা হবে সাহিত্যিক স্বপ্নময় চক্রবর্তীকে। পুরস্কারের সাম্মানিক হিসাবে থাকছে ২ লক্ষ টাকা।  বইমেলার পরিকাঠামোতেও এবছর থাকছে বিশেষ চমক। মোট টি তোরণ তৈরি করা হচ্ছে। তার মধ্যে টি তোরণ গড়ে উঠছে আর্জেন্টিনার স্থাপত্যশৈলীর আদলে। প্রয়াত সাহিত্যিক প্রফুল্ল রায় ও প্রতুল মুখোপাধ্যায়এর নামে টি তোরণ থাকছে। সাহিত্যিক শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর নামেও একটি তোরণ নির্মিত হচ্ছে। এছাড়া এবছর বিশেষভাবে পালিত হবে ভূপেন হাজারিকা ও সলিল চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ। লিটল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়ন উৎসর্গ করা হয়েছে কবি রাহুল পুরকায়স্থর নামে। শিল্পী ময়ুখ চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে তাঁর নামেই থাকছে শিশু মণ্ডপ।

গত বছর আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় ছোটোবড়ো মিলিয়ে স্টলের সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে ন-শো, এবছর তা হাজার ছাপিয়ে যেতে পারে বলে দাবি গিল্ডের। ২০২৫ সালে বইমেলা প্রাঙ্গনে বইপ্রেমী মানুষের সর্বমোট সংখ্যা ছিল প্রায় ২৭ লক্ষ। এবছর সে সংখ্যা আরও বাড়বে বলেই আশাবাদী আয়োজকরা। বিশেষ করে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর পরিষেবা চালু হওয়ায় হাওড়া থেকে সল্টলেক যাতায়াত অনেক সহজ হয়েছে। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে বইমেলার ১ ও ২ নম্বর গেটের মাঝখানে থাকছে বিশেষ মেট্রো বুথযেখানে ইউপিআই-এর মাধ্যমে মেট্রোর টিকিট কাটা যাবে। পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করতে পরিবহণ দফতরের তরফে থাকছে বিশেষ বাস পরিষেবা। কলকাতা ও সংলগ্ন জেলার বিভিন্ন রুট থেকে করুণাময়ী বাস টার্মিনাস পর্যন্ত বাস পরিষেবা মিলবে প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। ব্যারাকপুরবারাসতবালি হল্টবারুইপুরগড়িয়াজোকাঠাকুরপুকুরসাঁতরাগাছি-সহ একাধিক এলাকায় পৌঁছবে এই বাসগুলি। পাশাপাশি অতিরিক্ত এসি বাস এবং সরকারি বাসের সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে। বইমেলার ১ নম্বর গেটের কাছে থাকছে অ্যাপ-ক্যাব ও বাইক বুকিংয়ের স্টল

প্রযুক্তির ব্যবহারে এবছরের বইমেলা আরও দর্শকবান্ধব। অ্যাপ ও গুগল লোকেশনের মাধ্যমে বইমেলার ভিতরে যে কোনও স্টল খুঁজে পাওয়া যাবে। প্রতিটি গেটে থাকবে কিউআর কোডস্ক্যান করলেই পাওয়া যাবে বইমেলার ডিজিটাল ম্যাপ। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের হাতে থাকবে গ্রাউন্ড ম্যাপও। নিরাপত্তা নিয়ে কোনোপ্রকার ঝুঁকি নিতে নারাজ বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট। বইমেলা প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন এলাকায় মোতায়েন থাকবেন প্রায় ২ হাজার পুলিশকর্মী। নজরদারিতে রাখা হচ্ছে প্রায় ২৫০টি সিসিটিভি ক্যামেরা। প্রতিটি গেটে থাকবে ওয়াচ টাওয়ার ও মে আই হেল্প ইউ ডেস্ক। মহিলাদের নিরাপত্তায় সাদা পোশাকের বিশেষ টিম সারাক্ষণ নজরদারি চালাবে। থাকবে আলাদা হেল্পলাইন নম্বরপাশাপাশি চালু থাকবে ১০০ ডায়াল পরিষেবাও। অগ্নি-নিরাপত্তার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি স্টলে থাকবে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র এবং কর্মীদের সেই যন্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। দমকলের একাধিক গাড়ি প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বইমেলা প্রাঙ্গনে এবছরও আয়োজন করা হবে কলকাতা লিটারেচার ফেস্টিভ্যাল। ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি বিদগ্ধ ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে চলবে যুক্তি-তর্কের আসর। ৩০ জানুয়ারি চিরতরুণ দিবস পালন করা হবে। ওইদিন কবি মৃদুল দাশগুপ্তপ্রকাশক রাজেন্দ্রকুমার মেহরা এবং পাঠক নির্মল ভট্টাচার্যকে বিশেষ সম্মান জানানো হবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!