Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • জুলাই ১২, ২০২৫

অস্ত্রসমর্পন কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির, অবসান চার দশক ধরে চলা তুরষ্ক–কুর্দিদের সংঘাত

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
অস্ত্রসমর্পন কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির, অবসান চার দশক ধরে চলা তুরষ্ক–কুর্দিদের সংঘাত

তুরস্কে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) কারাবন্দী নেতা আবদুল্লাহ ওজালানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে অস্ত্রসমর্পণ করলেন সংগঠনের সদস্যরা। শুক্রবার এক গোপনস্থানে ৩০ জন কুর্দ সদস্য অস্ত্র সমর্পন করেন। এই অস্ত্রসমর্পনের মাধ্যমে তুরস্কের সঙ্গে চার দশকের সংঘাতের অবসান হল। যে সংঘাতে ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
১৯৯৯ সাল থেকে ইস্তাম্বুলের কাছে ইমরালি নামে একটা দ্বীপের কারাগারে বন্দী রয়েচেন পিকেকে নেতা আবদুল্লাহ ওজালান। সেখান থেকেই সংগঠনের সদস্যদের উদ্দেশ্যে একটা বিবৃতি দেন। সেই বিবৃতিতে তিনি সংগঠনটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা এবং তুরস্ক সরকারের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসানের ইতি টানারও আহ্বান জানান। তাঁর সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে সংগঠনের সদস্যরা অস্ত্রসমর্পন করলেন।
অস্ত্রসমর্পণের প্রতীকী প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ইরাকের কুর্দ–অধ্যুষিত সুলেমানিয়া শহর থেকে ৫০ কিমি দুরে জাসানা গুহায় একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি। ইরাকি ও পিকেকে–র কর্তারা ছাড়াও সেখানে তুরস্কের কয়েকজন কর্তা হাজির ছিলেন। কুর্দপন্থী ডেম পার্টির সদস্যসহ সাংবাদিক এবং রাজনীতিবিদদের একটা কাফেলাকে অনুষ্ঠানটি দেখার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অনুষ্ঠান ঘিরে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। তবে কোনও ব্যক্তির হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়নি। ১৫ জন করে মহিলা ও পুরুষ অস্ত্রসমর্পনের প্রতীকী হিসেবে একটা লোহার কড়াইয়ে বন্দুক রেখে সেগুলি আ আগুনে পুড়িয়ে দেন। পুরো গ্রীষ্মকাল জুড়ে এই নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া চলবে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান কুর্দদের এই অস্ত্রসমর্পনকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিন বলেছেন, ‘‌এই অনুষ্ঠানটি সন্ত্রাসমুক্ত তুরস্কের লক্ষ্যের দিকে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’‌ চার দশক আগে তুরস্কের সঙ্গে কুর্দিদের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ৪০,০০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। তুরস্ক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ব্রিটেন কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টিকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। তাদের এই অস্ত্রসমর্পনে শুধু তুরস্কই নয়, ইরাক, সিরিয়া এবং ইরানও স্বস্তি পাবে।
কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) মূলত একটি মার্কসবাদী দল। তুরস্কের অভ্যন্তরে একটা স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবিতে ১৯৮৪ সালে হাতে অস্ত্র তুলে নেয়। এর আগেও তুরস্ক এবং পিকেকে-র মধ্যে শান্তির প্রচেষ্টা করা হয়। ১৯৯০-এর দশকে কুর্দিদের জন্য বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসনের আহ্বান জানিয়েছিল। ওকালান ২০১৩ সালে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন এবং পিকেকে বাহিনীকে তুরস্ক থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
২০১৫ সালের ডলমাবাহচে চুক্তিতে কুর্দিদের জন্য গণতান্ত্রিক ও ভাষার অধিকার আনার কথা ছিল। কিন্তু ভয়াবহ হিংসার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়, বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্বের কুর্দি-অধ্যুষিত শহরগুলিতে। তুরস্কের বিমান বাহিনী উত্তর ইরাকের পাহাড়ে অবস্থিত পিকেকে ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। সিরিয়ায় কুর্দি-নেতৃত্বাধীন বাহিনীকেও লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি সামরিক অভিযান চালানো হয়। আঙ্কারার সরকার পিকেকে অস্ত্র সমর্পণ না করা পর্যন্ত আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দেয়।
পিকেকে–র নিরস্ত্রীকরণ শুরু হওয়ার দু’‌দিন আগে আব্দুল্লাহ ওজালানকে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে নিয়ে আসা হয়। ৭ মিনিটের এক ভিডিও বক্তৃতায় তিনি সংগঠানের সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘‌আমি অস্ত্রের নয়, রাজনীতি এবং সামাজিক শান্তিতে বিশ্বাস করি। আমি আপনাদের এই নীতিটি বাস্তবে প্রয়োগ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’‌ ‌


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!