- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৩
উপনির্বাচন ২০২৩ : ৬ টি রাজ্যের ৭ টি আসনে মূল ভোটের জন্য ভোট চলছে, ইন্ডিয়া জোটের আজ “অ্যাসিড টেস্ট”!
ছয়টি রাজ্যের সাতটি বিধানসভা আসনে আজ উপনির্বাচনের জন্য ভোটগ্রহণ চলছে। যে আসনগুলিতে আজ উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে উত্তরপ্রদেশের ঘোসি, পশ্চিমবঙ্গের ধুপগুড়ি, কেরালার পুথুপ্পল্লী, উত্তরাখণ্ডের বাগেশ্বর, ঝাড়খণ্ডের ডুমরি এবং ত্রিপুরার বক্সানগর ও ধনপুর। সাতটি আসনেই ভোট গণনা হবে ৮ সেপ্টেম্বর। এটিকে বিরোধীদের ইন্ডিয়া জোটের জন্য এই উপনির্বাচনটি একটি অ্যাসিড টেস্ট হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে,যারা “যতদূর সম্ভব একসঙ্গে” নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
লোকসভা নির্বাচনের এখনও অনেকটা না হলেও বেশ কয়েক মাস বাকি আছে। এরই মধ্যে তেলঙ্গানা, রাজস্থান-সহ ৫ রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন, যদিও এখনও সেই ৫ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষিত হয়নি। তার আগেই মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গ-সহ ৬ রাজ্যের ৭ কেন্দ্রে বিধানসভা উপ-নির্বাচন হচ্ছে আজ। এই উপ-নির্বাচন আপাতদৃষ্টিতে খুবই সাধারণ হলেও ইন্ডিয়া জোটের কাছে এই ৬ রাজ্যের ৭টি বিধানসভা উপনির্বাচন প্রথম পরীক্ষা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। স্বাভাবিকভাবেই এই ৭ কেন্দ্র জিততে মরিয়া ‘ইন্ডিয়া’ জোট।
আগেই বলেছি, পশ্চিমবঙ্গের ধূপগুড়ি-সহ উত্তরপ্রদেশের ঘোসি, উত্তরাখণ্ডের বাগেশ্বর, কেরলের পুথুপল্লি, ঝাড়খণ্ডের দুমরি এবং ত্রিপুরার ধানপুর ও বক্সানগরে ভোট রয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ধূপগুড়ি, ঝাড়খণ্ডের দুমরি, কেরলের পুথুপল্লি, ত্রিপুরার ধানপুর ও উত্তরাখণ্ডের বাগেশ্বর কেন্দ্রের বিধায়কের মৃত্যু হয়েছে। বাকি ২ কেন্দ্রের বিধায়ক ইস্তফা দিয়েছেন। এর মধ্যে আবার দুমরি ও পুথুপল্লি এলাকার বিধায়ক ছিলেন অবিজেপি দলের নেতা। স্বাভাবিকভাবেই এই নির্বাচন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের কাছে শক্তি প্রদর্শনের লড়াই হতে চলেছে।
ঝাড়খণ্ডের দুমরি কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন রাজ্যের শাসকদলের নেতা জগরনাথ মাথো। বিধায়কের মৃত্যু হওয়ায় এবার ওই কেন্দ্রে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার তরফে দাঁড়িয়েছেন তাঁর স্ত্রী বেবী দেবী। অন্যদিকে, ওই কেন্দ্রের গতবারের পরাজিত প্রার্থী যশোদাদেবী এবারের এনডিএ প্রার্থী। আবার কেরলের পুথুপল্লির বিধায়ক ছিলেন কংগ্রেস নেতা তথা দু-বারের মুখ্যমন্ত্রী উম্মেন চণ্ডী। এবার তাঁর ছেলে কুনজুননু এই কেন্দ্রে কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন। ফলে এই দুটি কেন্দ্রে ইন্ডিয়া জোট এগিয়ে রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। এই কেন্দ্রে আবার জোটের বাইরে গিয়ে প্রার্থী দিয়েছে আম আদমি পার্টি। এবারেই প্রথমবার পথুপল্লি কেন্দ্রে প্রার্থী দিল আপ। এটা আপ-এর রাজনৈতিক ভ্রষ্টাচার, বিজেপিকে ভোট পাইয়ে দেওয়ার এবং কংগ্রেসের ভোট কেটে নরেন্দ্র মোদির প্রতি পরোক্ষে আস্থা প্রকাশের কেজরিওয়ালিও রাজনীতি বলে মন্তব্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
অন্যদিকে, রাজনেতিক সমীকরণ বলছে, ত্রিপুরার দুটি কেন্দ্রেই বিজেপি এগিয়ে রয়েছে । যদিও সিপিআইএম-এর দাবি, ত্রিপুরার অন্যতম দল, ত্রিপরা মোখা তাদের সমর্থন করছে। ফলে তাদের জয় নিশ্চিত। আবার উত্তরাখণ্ডে আবেগকে কাজে লাগিয়ে বিধায়ক চন্দন দাসের মৃত্যুর পর তাঁর জায়গায় বিজেপি দাঁড় করিয়েছে বিধায়কের স্ত্রীকে। যদিও বিপরীতে এসপি প্রার্থী ভগবতী দাসকে সমর্থন জানিয়েছে সমগ্র ইন্ডিয়া জোট। তাই এই কেন্দ্রে বিজেপির আবেগ ও ইন্ডিয়া-র ভারত ভাবনা, কে জয়ী হয় সেটা দেখার, তাই বলা যায় এখানে ইন্ডিয়া জোটের পরীক্ষা।
এদিকে উত্তরপ্রদেশের ঘোসি কেন্দ্রে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে বলেই আপাত ভাবে মনে করা হচ্ছে। কেননা এই কেন্দ্রের বিধায়ক দারা সিং চৌহান এসপি ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছেন। এবার তিনিই এনডিএ প্রার্থী। যদিও দলিত আবেগকে কাজে লাগিয়ে এসপি প্রার্থীতে সমর্থন জানিয়েছে ইন্ডিয়া জোট। ইন্ডিয়া জোটে এই সমর্থন এসপি প্রার্থীর জয়ের ক্ষেত্রে কতটা সহায়ক হয় সেটাও ইন্ডিয়া জোটের কাছে একটা সত্যিকারের বড় পরীক্ষা।
পশ্চিমবঙ্গের ধূপগুড়ি কেন্দ্রেও বিধায়ক ছিলেন বিজেপি নেতা বিষ্ণুপদ রায়। এবার কাশ্মীরে জঙ্গি হামলায় নিহত সিআরপিএফ জওয়ান জগন্নাথ রায়ের স্ত্রী তাপসী রায়কে প্রার্থী করেছে বিজেপি। অন্যদিকে, তৃণমূল ও সিপিআইএম এখানে আলাদা করে প্রার্থী দিয়েছেন। ফলে এই কেন্দ্রে ভোট কাটাকুটি হলেও বিজেপি এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা থাকছে। সবমিলিয়ে, ৫ রাজ্যের বিধানসভা ও লোকসভা ভোটের আগে শিক্ষক দিবসের দিন এই উপ-নির্বাচন বিরোধী জোটের কাছে বড় শিক্ষা হতে চলেছে। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর ৭টি কেন্দ্রেরই ফল প্রকাশিত হবে।
তবে এই ৭টি কেন্দ্রের “যেখানে যতটা সম্ভব”, জোট করে ইন্ডিয়া লড়ছে। ইন্ডিয়া জোট ভারতীয় রাজনীতিতে জোট রাজনীতির সর্বপ্রথম আত্মপ্রকাশ যে নয় সেটা সবার জানা কিন্তু এনডিএ তথা বিজেপির “সনাতন” ভাবনার রাজনীতি থেকে “ভারত” ভাবনা অর্থাৎ “নানা ভাষা,নানা মত, নানা পরিধান”- অর্থাৎ ভারতত্মার প্রকৃত রূপকে বার করে, তাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার যে ধারণা ” ইন্ডিয়া” জোট তুলে ধরে এগোচ্ছে, সেই ধারণা বিজেপির ধর্ম ও রাজনীতি মিলিয়ে ফেলে ভারতকে যে হিন্দু, হিন্দি, হিন্দুস্তান তৈরির দিকে এগিয়ে নেওয়ার রাজনীতি তার বিরুদ্ধে একটা বড় প্রতিবাদ। তাই ৮ সেপ্টেম্বর বোঝা যাবে ভারতবাসী বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য চান না এক দেশ, এক ভাষা, এক জাতি চান।
❤ Support Us







