- এই মুহূর্তে দে । শ
- ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৫
নতুন আয়কর বিল খতিয়ে দেখতে ৩১ সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিলেন স্পিকার
বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের লোকসভায় নতুন আয়কর বিল পেশ করেছিলেন। বিদ্যমান আয়কর আইন, ১৯৬১ সংশোধন করে বেশ কতকগুলি নিয়ম পরিবর্তন করবার কথা উল্লেখ ছিল তাতে। ব্যক্তিগত, ব্যবসা এবং অলাভজনক সংস্থা সহ বিভিন্ন শ্রেণীর করদাতাদের ট্যাক্স সংক্রান্ত জটিলতা থেকে মুক্তি দেবার জন্য এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। লোকসভা ও রাজ্যসভায় এই বিল অনুমোদনকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের চরম বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় অর্থমন্ত্রীকে। শুক্রবার সন্ধ্যায় বিল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। লোকসভার নিম্নকক্ষে উপস্থাপিত নতুন আয়কর বিল-২০২৫ পুনরাই অধ্যয়ন ও মতামতের জন্য ৩১ সদস্যের একটি নির্বাচিত কমিটি গঠন করেছেন তিনি। ভারতের কর ব্যবস্থার পুরনো ও নয়া ব্যবস্থার তুলনামূলক আলোচনা করবে এই কমিটি।পরীক্ষক দলের সভাপতিত্ব করবেন ভারতীয় জনতা পার্টির সহ-সভাপতি বৈজয়ন্ত পান্ডা। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিশিষ্ট সাংসদদের সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কমিটির উল্লেখযোগ্য নামগুলির মধ্যে রয়েছে ঝাড়খণ্ডের বিজেপি সাংসদ ডঃ নিশিকান্ত দুবে, কর্ণাটকের বিজেপি সাংসদ জগদীশ শেত্তর, বিজেপি রাজস্থানের সাংসদ পিপি চৌধুরী, কংগ্রেস হরিয়ানার সাংসদ দীপেন্দ্র সিং হুডা, তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র, এনসিপি সাংসদ সুপ্রিয়া সুলেমা প্রমুখ। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের আবেদনের ভিত্তিতেই স্পিকার ওম বিড়লাকে বিলটিকে আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য কমিটি গঠনের সীদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও ১৩ ফেব্রুয়ারি সংসদ ভবনে ধ্বনিভোটের মাধ্যমে বিলের প্রস্তাব অনুমোদন করেছিলেন তিনি। পরবর্তী অধিবেশনের প্রথম দিনের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদন জমা দেবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ৬২২ পৃষ্ঠার নতুন আয়কর বিলে রয়েছে ৫৩৬টি ধারা, ২৩টি অধ্যায় এবং ১৬টি তফসিল । ‘কর বছর’ শব্দটি চালু করা হয়েছে, যা ‘মূল্যায়ন বছর’ শব্দটির পরিবর্তে নিয়ে আসা হয়েছে। এর সময় সীমা অর্থবর্ষের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ধার্য করা হয়েছে। করদাতাদের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে এমন কোনো কিছুই রাখা হবে না। নতুন আয়কর বিল থেকে ‘৫৪ ই’ ধারার মতো অনেক অপ্রয়োজনীয় নিয়ম বাদ দেওয়া হয়েছে। এটি এমন একটি বিভাগ যা আবাসিক বাড়ির সম্পত্তি বিক্রি থেকে উদ্ভূত মূলধন লাভের উপর কর কীভাবে সাশ্রয় করা যায় তার নিয়ম ঠিক করে। এর সঙ্গে সঙ্গে, অনেক পুরনো নিয়ম এবং ছাড় সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা আর প্রাসঙ্গিক নয়। নতুন বিলে উল্লেখ করা করেছে, আয় অনুসন্ধানের সময় যদি ভার্চুয়াল বা ডিজিটাল সম্পদ পাওয়া যায় ‘অপ্রকাশিত আয়’ বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হচ্ছে যে ডিজিটাল সম্পদ, যেমন ক্রিপ্টোকারেন্সি ইত্যাদির জন্য সঠিক ট্যাক্স কাঠামোর তৈরি করা হচ্ছে। অর্থাৎ এখন থেকে এগুলিকেও মূলধনী সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তাদের উপর কর আরোপ করা হবে। সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ডাইরেক্ট ট্যাক্সেসকে কর সংক্রান্ত নিয়ম তৈরি করতে, বাস্তবায়ন করতে এবং ঘন ঘন আইনী পরিবর্তনের প্রয়োজন ছাড়াই ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেমের মাধ্যমে কাজ করবার কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও নয়া বিলে বলা হয়েছে, যদি কেউ নতুন ব্যবসা বা কাজ শুরু করা হয়, তাহলে তার কর বছর সেই দিন থেকে শুরু হবে এবং একই আর্থিক বছরের শেষে শেষ হবে। এছাড়াও, করদাতাদের শংসাপত্রও দেবার বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে, যাতে করদাতারা তাঁদের অধিকার রক্ষা করতে পারেন এবং একই সঙ্গে করব্যবস্থা স্বচ্ছ হয়।
❤ Support Us







