- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- আগস্ট ৪, ২০২৩
মণিপুরের হিংসায় বিপন্ন জনগোষ্ঠী ফিরতে চায় নিজের শিকড়ে। মানবে কি তেল আভিভ?
আশ্রয়ের সন্ধানে হোক বা পররাজ্য গ্রাসের বাসনা -যুগে যুগে বহু জাতি ভারতে এসেছে। কালক্রমে ভারতীয় জনসমাজেরই তাঁরা অংশ হয়ে গিয়েছে। ইহুদিরাও তাঁর ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু মণিপুরের সাম্প্রতিক গোষ্ঠী হিংসায় তাদের দেশের হারিয়ে যাওয়া এক জনজাতির অস্তিত্ব প্রায় বিপন্ন। তাঁদের ঘরবাড়ি সবই প্রায় ভেঙেচুরে তছনছ করে দিয়ে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পোড়ানোও হয়েছে একাধিক নিবাস। প্রাণ বাচাতে তাঁরা যে যেদিকে পেরেছেন পালিয়ে গিয়েছেন। একটি পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, মে মাসে অশান্তির শুরুতে মণিপুরে তাঁদের সদস্য সংখ্যা ৫০০০ থাকলেও এখন তা বেশ কম।
ইহুদিদের এই উপজাতিটির নাম হল মানাশি। যাদের অস্তিত্ব আজকে আর নেই, তবে তাঁদের উত্তরসূরী বিনেই মেনাশি ভারতের উত্তর-পূর্বে মণিপুরে বাস করছে। অতীত ঘাঁটলে দেখা যাবে, বহ যুগ আগে বাইবেলে উল্লিখিত এই জাতিটি ৭২০ খ্রিষ্টাব্দে আসিরিয় বিজেতাদের দ্বারা বিতাড়িত হয়ে ইরান আফগানিস্তান, তিব্বত ও চিন হয়ে ভারতে এসে পৌঁছায়। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা এখানে পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাস করে। পরে ঊনবিংশ শতকে ব্রিটিশ সরকারের আমলে মিশনারীদের প্রভাবে খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করে তাঁরা । ভিন্ন ধর্ম গ্রহণ করলেও নিজেদের পরিচয় তাঁরা সবসময় ইহুদি হিসেবেই দিয়ে থাকে। যদিও ইজরায়েল এদের নিজেদের দেশের কেউ মনে করে না। সেই কারণে কখনই সেখানে ফেরার সুযোগ তাঁদের আর নেই।
বিনেইদের এক নেতা জানিয়েছেন, তাদের চলতি হিংসা ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে, যেহেতু তাঁদের এরাজ্যে কুকিদের অংশ হিসেবে দেখা হয় তাই আজ তারা এ অশান্তির ভুক্তভোগী। অনেকেই তাঁদের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিচ্ছেন। সেকারনেই তাঁরা তাঁদের নিজেদের দেশ ইসরায়েল-এ ফিরতে চান কিন্তু হিংসার কারণে তাঁদের সমস্ত নথিপত্র আগুনে পুড়ে গিয়েছে। তাই সেখানে যাওয়ার আপাতত কোনো উপায় নেই। তেল আভিভ এখানকার সমস্যা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল এবং হিংসা বিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে খাবার ও ভোজ্য তেল পাঠিয়েছে তাঁরা। আদিবাসীদের আশা খুব শীঘ্রই সেখানে যেতে পারবেন ও সেখানে নির্বিঘ্নে থাকার সুযোগ পাবেন। তবে, বাস্তবে তা আদৌ সম্ভব কিনা তা নিয়ে সংশয় অব্যাহত রয়েছে।
❤ Support Us






