Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • মার্চ ১৩, ২০২৬

মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে চার্জশিট, দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ শীর্ষ আদালতের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে চার্জশিট, দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ শীর্ষ আদালতের

‘প্রশ্নের বিনিময়ে ঘুষ’ মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর চার্জশিট পেশের বিষয়টি নিয়ে দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে স্থগিতাদেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত  এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়।

শীর্ষ আদালত এই মামলায় অভিযোগকারী ঝাড়খণ্ডের বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবেকে নোটিস পাঠিয়ে জবাবদিহি চেয়েছে। একই সঙ্গে নোটিস পাঠানো হয়েছে মহুয়া মৈত্র এবং সিবিআই-কেও।

২০২৩ সালের ১২ নভেম্বর ‘প্রশ্নের বিনিময়ে ঘুষ’ মামলায় মহুয়ার বিরুদ্ধে সিবিআইকে চার্জশিট জমা দেওয়ার অনুমতি দেয় লোকপাল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মহুয়া মৈত্র দিল্লি হাই কোর্টে মামলা করেন।

২১ নভেম্বর দিল্লী হাই কোর্ট স্থগিতাদেশের আবেদন খারিজ করে দেয়। পরে ১৯ ডিসেম্বর আদালত জানায়, মহুয়ার বিরুদ্ধে সিবিআই চার্জশিট দাখিলের সিদ্ধান্ত ‘লোকপালের বিবেচনার’ উপরই নির্ভর করবে। একই সঙ্গে ‘আইনগত ত্রুটি’র কথা উল্লেখ করে লোকপালের আগের নির্দেশ খারিজ করে দিয়ে নতুন করে বিষয়টি বিবেচনার জন্য চার সপ্তাহ সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়।

পরে লোকপালের আবেদনে এই সময়সীমা দু’মাস বাড়ানো হলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিবিআই চার্জশিট পেশ করতে না পারায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে দিল্লি হাই কোর্ট আর সময় বাড়ায়নি। এরপরই লোকপাল সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়।

শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট লোকপাল আইনের ২০ নম্বর ধারার ভিত্তিতে দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশের ৮৯ নম্বর অনুচ্ছেদে থাকা ‘লোকপালের বিবেচনাধীন’ অংশে স্থগিতাদেশ দেয়।

মহুয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ, লোকসভার সদস্য থাকাকালীন তিনি দুবাইয়ের শিল্পপতি দর্শন হিরানন্দানির কাছ থেকে টাকা নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তুলেছিলেন এবং সেই প্রশ্নগুলির নিশানা ছিল শিল্পপতি গৌতম আদানিকে ঘিরে। অভিযোগ করা হয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে অস্বস্তিতে ফেলতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

এই অভিযোগ জানিয়ে লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়ে মহুয়াকে সাংসদপদ থেকে বরখাস্ত করার দাবি তোলেন নিশিকান্ত দুবে।

এছাড়াও, মহুয়ার প্রাক্তন বন্ধু জয় আনন্দ দেহাদরাইও তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অভিযোগ আনেন। পরে লোকসভার এথিক্স কমিটির সুপারিশ মেনে ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর মহুয়ার সাংসদপদ খারিজ করা হয়। যদিও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি আবার কৃষ্ণনগর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে সংসদে ফেরেন।

লোকপালের নির্দেশে তদন্ত করে সিবিআই তাদের রিপোর্টে জানিয়েছে, ঘুষ নিয়ে সংসদে মোট ৬১টি প্রশ্ন করেছিলেন মহুয়া। এর মধ্যে ৩টি প্রশ্ন সরাসরি অফলাইনে করা হয়েছিল এবং বাকি প্রশ্নগুলি অনলাইনে আপলোড করা হয়েছিল।

শিল্পপতি দর্শন হিরানন্দানি একটি হলফনামায় দাবি করেন, তিনি নিজেই মহুয়ার সংসদের লগইন আইডি ব্যবহার করে ওই প্রশ্নগুলি আপলোড করেছিলেন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!