- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- মার্চ ১৩, ২০২৬
ঋতুকালীন ছুটি প্রসঙ্গে কী পর্যবেক্ষণ দেশের শীর্ষ আদালতের ?
ঋতুকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়ে দায়ের হওয়া একটি মামলার শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত । শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানির সময় তিনি জানান, ঋতুকালীন ছুটি যদি আইন করে বাধ্যতামূলক করা হয়, তাহলে অনেক সংস্থাই ভবিষ্যতে মহিলা কর্মীদের নিয়োগ করতে অনীহা দেখাতে পারে । এই যুক্তি দেখিয়েই আদালত সংশ্লিষ্ট আবেদনটি খারিজ করে দেয় ।
শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী নামে এক আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন । তাঁর দাবি ছিল, ছাত্রী থেকে শুরু করে কর্মজীবী মহিলা—সকলের জন্যই ঋতুকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করা হোক । আবেদনকারী আদালতের কাছে অনুরোধ করেন, কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হোক যাতে সমস্ত রাজ্যে এই ছুটি কার্যকর করা হয় ।
আবেদনে উদাহরণ হিসেবে কেরল সরকারের একটি সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করা হয়। ২০১৩ সালে কেরল সরকার রাজ্যের অধীনস্থ সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের জন্য ঋতুকালীন ছুটির ব্যবস্থা চালু করেছিল । পাশাপাশি, দেশের কিছু বেসরকারি সংস্থাও তাদের মহিলা কর্মীদের জন্য ঋতুকালীন ছুটি চালু করেছে বলেও আবেদনে বলা হয় । সেই প্রেক্ষিতেই সারা দেশে এই ছুটি আইন করে বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয় ।
তবে শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বলেন, ঋতুকালীন সমস্যা নিয়ে সচেতনতা তৈরি করা অবশ্যই প্রয়োজন । কিন্তু এটিকে যদি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক করা হয়, তাহলে এর উল্টো প্রভাব পড়তে পারে । তাঁর মতে, অনেক সংস্থা তখন মহিলাদের নিয়োগ করতে চাইবে না, কারণ তারা ভাবতে পারে এতে কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত ছুটির চাপ তৈরি হবে ।
প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, এমন আইন হলে মহিলাদের মধ্যেও এক ধরনের মানসিক চাপ বা ভয় তৈরি হতে পারে যে তারা পুরুষদের তুলনায় পিছিয়ে পড়ছেন । তিনি মন্তব্য করেন, অনেক কর্তৃপক্ষের মানসিকতা এখনও বদলায়নি; আইন তৈরি হলে তারা হয়তো মহিলাদের নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে ।
এই সব যুক্তি তুলে ধরে সুপ্রিম কোর্ট ঋতুকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করার আবেদনটি খারিজ করে দেয় ।
❤ Support Us






