- এই মুহূর্তে দে । শ
- জানুয়ারি ২৭, ২০২৫
মণিপুরে নেভেনি হিংসার আগুন! সেনাবাহিনীর তল্লাশি অভিযানে উদ্ধার বিপুল অস্ত্রশস্ত্র
অশান্ত মণিপুরকে শান্ত করতে বিভিন্ন অঞ্চলে সেনেবাহিনী ও পুলিশের লাগাতার যৌথ অভিযান চলছে। গত ১৯ জানুয়ারি মণিপুরের বিষ্ণুপুর জেলার বুংতে গ্রামে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার প্রচুর গোলাবারুদ। এরপর ২০ জানুয়ারি ফের অভিযান চালানো হয় মণিপুরের একাধিক পার্বত্য অঞ্চলে। জিরিব্রাম, পশ্চিম ইম্ফল, ত্থৌবালের মতো একাধিক জেলায়। এতেই বড়ো সাফল্য আসে যৌথবাহিনীর।
ভারতীয় সেনা, আসাম রাইফেলস, মণিপুর পুলিশের যৌথ অভিযানে একাধিকবার মণিপুরের বিভিন্ন জেলা থেকে অস্ত্র উদ্ধার হইয়েছে। গত ১৯ জানুয়ারি আবার বড়ো সাফল্য যৌথবাহিনীর। মণিপুরের বিষ্ণুপুর জেলার বুংতে গ্রামে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার প্রচুর গোলাবারুদ। জাতিগত হিংসায় বিধ্বস্ত রাজ্যের পার্বত্য অঞ্চলের একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়েছিল সেনা। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই জেলায় অস্ত্রভাণ্ডারের খবর পেয়ে অভিযানে নামে যৌথ বাহিনী। তাতেই বড়ো সাফল্য। স্নাইপার রাইফেল, ৯ এমএম পিস্তল, ব্যারেল রাইফেল, গ্রেনেড সহ প্রচুর অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। এরপর ২০ জানুয়ারি ফের অভিযান চালানো হয় মণিপুরের একাধিক পার্বত্য অঞ্চলে। জিরিব্রাম, পশ্চিম ইম্ফল, ত্থৌবালের মতো একাধিক জেলা থেকে উদ্ধার হয় ৩৫ এর বেশি মেশিনগান, পয়েন্ট ৩০৩ রাইফেল, মর্টার, বন্দুক, কার্তুক, ও গ্রেনেন্ড।
সোমবার সরকারী বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শুধু এই ২ দিন নয়। যৌথ নিরাপত্তাবাহিনী গত ৬ জানুয়ারি থেকে লাগাতার বিশেষ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকায়। জিরিব্রাম,পশ্চিম ইম্ফল, থৌবাল, কাংপোকপি, চারচন্দপুর, কাকচিং এবং বিষ্ণুপুর জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতিবারই উদ্ধার হয়েছে প্রচুর অস্ত্র। যৌথ অভিযানগুলি ভারতীয় সেনা, আসাম রাইফেলস, মণিপুর পুলিশের বিশেষ দল পরিচালনা করেছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে কুকি-মেইতি জাতিগত হিংসায় উত্তাল মণিপুর। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের নানান পদক্ষেপ সম্পূর্নভাবে নেভাতে পারেনি হিংসার আগুন। মেইতেই সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে কুকি- জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির ধারাবাহিক লড়াই হয়ে চলেছে। দু’পক্ষের যোদ্ধারা ছাড়াও লড়াইয়ে ডিসেম্বরে বেশ কয়েক জন সাধারণ গ্রামবাসীরও মৃত্যু হয়েছে। গত কয়েকমাসে এধাকিবার আক্রমণ হয়েছে সেনাবাহিনী ও পুলিশের উপর। বাদ যায় নি জেলাশাসকেরা। সম্প্রতি বিক্ষোভকারীরা আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল জেলাশাসক ও পুলিশসুপারের অফিসে। তারপর থেকেই মরীয়া যৌথবাহীনির কর্মীরা। সংঘাতে হতাহতের সংখ্যা নিরন্তর বেড়েই চলেছে রাজ্যে। বিপুল পরিমাণে অস্ত্র উদ্ধারের পর রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কী আবার নতুন করে সংঘর্ষের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে উত্তর-পূর্ব ভারতের গুরুত্বপূর্ণ এই রাজ্যে। কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ করে আসছেন বিরোধী নেতারা। ইতিমধ্যে একাধিক নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠির নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষ্ফোরক ছাড়াও উদ্ধার হয়েছে নগদ টাকা ও বিপুল পরিমাণে মাদক। মায়ানমারে সেনার সঙ্গে বিদ্রোহীদের লড়াই চলছে। ফলে বহু মানুষ প্রাণে বাঁচার তাগিদে মণিপুর দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে চলেছে। এমনকি প্রতিবেশী দেশের সৈন্যরাও কখনো কখনো ঢুকে পড়ছে। পাশাপাশি জঙ্গলময় এলাকা দিয়ে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দুই দেশে আনাগোনা করছে জঙ্গীসংগঠনের যোদ্ধারা। যৌথবাহিনীর সাম্প্রতিক সাফল্যে এবার কী তবে শান্ত হবে উত্তপ্ত মণিপুর!
❤ Support Us







