- এই মুহূর্তে দে । শ
- এপ্রিল ৭, ২০২৬
ফের অশান্ত মণিপুর, পুলিশের গুলিতে নিহত ৩, গুরুতর জখম একাধিক
মণিপুরে ফের অশান্তির আগুন। দুই নাবালকের মর্মান্তিক মৃত্যুকে ঘিরে ক্ষোভের বিস্ফোরণ, আর সেই উত্তেজনার জেরে মঙ্গলবার সিআরপিএফ-এর গুলিতে নিহত ৩ বিক্ষোভকারী, জখম বহু। পরিস্থিতি সামাল দিতে ৫ জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। গুলিবিদ্ধদের মৃত্যু নিয়ে নিয়ে এখনো পর্যন্ত সরকারি ভাবে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ত্রোংলাওবি এলাকা। অভিযোগ, বিক্ষুব্ধ জনতারা আচমকাই চড়াও হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর একটি শিবিরে। ভাঙচুর চালানো হয়। একাধিক গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশ গুলি চালায় বলে জানা গিয়েছে। তাতেই অন্তত ৪ জন গুলিবিদ্ধ হন। তাঁদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে জানা যায় তাঁদের মধ্যে ৩ জন্যের মৃত্যু ঘটেছে।
এ হিংসার পেছনে রয়েছে আরও ভয়াবহ এক ঘটনা। মঙ্গলবার ভোররাতে একই জেলার মইরাং থানার অন্তর্গত ত্রোংলাওবি আওয়াং লেইকাই এলাকায় বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় দুই নাবালকের— ৫ বছরের এক শিশু ও মাত্র ৫ মাসের এক শিশুকন্যা। সন্দেহ, রকেট লঞ্চার থেকে ছোড়া বোমার একটি বাড়ির উপর আছড়ে পড়ে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দুই শিশুর। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁদের মা–কে ইম্ফলের রাজ মেডিসিটি হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে মহিলার অবস্থা সঙ্কটজনক।
এ ঘটনার জেরেই উত্তাল হয়ে ওঠে ইম্ফল উপত্যকা-সহ বিস্তীর্ণ এলাকা। পথে নামেন সাধারণ মানুষ। টায়ার জ্বালিয়ে, রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা। ইম্ফল পূর্ব-এর খুরাই, ওয়াংখেই, য়াইরিপোক এবং ইম্ফল পশ্চিম-এর কোয়াকেইথেল, থাংমেইবন্দ-সহ একাধিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে প্রতিবাদ। বিশেষ করে মইরাংয়ে বিক্ষোভ চরমে ওঠে। ক্ষুব্ধ জনতা পুলিশ স্টেশন ঘেরাও করে, দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি তোলে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন বিক্ষোভকারীরা ২টি তেলের ট্যাঙ্কার এবং একটি পণ্যবোঝাই ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এদিনের উত্তেজনার মাঝেই বড়োসড়ো বিপর্যয় এড়ানো গিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ একটি রিমোট নিয়ন্ত্রিত আইইডি উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করা হয়। সন্দেহ, আগের দিনই বিস্ফোরকটি পুঁতে রাখা হয়েছিল। এর নেপথ্যে কুকি জঙ্গিদের হাত থাকতে পারে বলে প্রাথমিক অনুমান। পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। ইম্ফল পশ্চিম, ইম্ফল পূর্ব, থৌবল, কাকচিং এবং বিষ্ণুপুর— এই ৫ জেলায় ৩ দিনের জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, ভুয়ো খবর ও উসকানিমূলক বার্তা ছড়ানো রুখতেই এমন সিদ্ধান্ত। পাশাপাশি, কিছু সময়ের জন্য কারফিউ জারির চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
পুরো ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং। তিনি একে ‘বর্বরোচিত’ বলে আখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন, ‘যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে আইনের সর্বোচ্চ কঠোরতায় শাস্তি দেওয়া হবে।’ একই সুরে নিন্দা জানিয়েছেন মইরাংয়ের বিধায়ক থোকচোম সান্তি সিং-ও। তিনি এ হামলাকে ‘নির্মম সন্ত্রাসবাদ’ বলে উল্লেখ করেছেন। বর্তমানে গোটা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায়। তবে পরিস্থিতি এখনও থমথমে। প্রশাসনের কড়া নজরদারির মধ্যেই প্রশ্ন ঘুরছে আবার নতুন করে অশান্ত হতে চলেছে মণিপুর!
❤ Support Us






