Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জানুয়ারি ১১, ২০২৫

নিষিদ্ধ স্যালাইনে প্রসূতির মৃত্যু। উত্তাল মেদিনীপুর মেডিক্যাল। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের ১৩ সদস্যের পৌঁছালো হাসপাতালে

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
নিষিদ্ধ স্যালাইনে প্রসূতির মৃত্যু। উত্তাল মেদিনীপুর মেডিক্যাল। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের ১৩ সদস্যের পৌঁছালো হাসপাতালে

নিষিদ্ধ স্যালাইনের ব্যবহারেই মৃত্যু হয়েছে প্রসূতির ? আরো ৪ জন প্রসূতির মধ্যে ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীমৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থার পরিকাঠামোর উপর। আজ রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর ১৩ সদস্যের একটি তদন্ত টিম সেখানে  পৌঁছে গেছেন ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে।

মৃতা ২১ বছর বয়সী মামনি রুই দাস। বুধবার তিনি এক সন্তানের জন্ম দেন। বৃহস্পতিবার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। শুক্রবার মারা যান তিনি। অন্যদিকে বাকি ২ জন প্রসূতিকে আইসিইউতে রাখা রয়েছে, তাঁদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। মৃতার আত্মীয়রা শুক্রবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁদের অভিযোগ,”সন্তানের জন্ম হওয়ার পর থেকেই রোগির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। প্রস্রাবের সঙ্গে রক্তপাত হয়। চিকিৎসার ত্রুটি অথবা মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন ব্যবহারের ফলেই মহিলার মৃত্যু হয়।”

এই ঘটনার জেরে কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। ঘটনার তদন্তের জন্য আজ মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে ১৩ সদস্যের বিশেষ টিম পৌঁছে গেছে।টিমের নেতৃত্বে রয়েছেন স্টেট ওয়েলফেয়ারের অফিসার অসীম দাস মালাকার।এছাড়াও তদন্তকারী দলে রয়েছেন স্বাস্থ্য দফতরের দুজন কর্তা, দুজন স্ত্রী বিশেষজ্ঞ সহ ৬ চিকিৎসক এবং চারজন ড্রাগ ইন্সপেক্টর । রোগীর চিকিৎসায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করা কোম্পানির সেলাইন কীভাবে হাসপাতালে গেল তা খতিয়ে দেখবেন তারা। পাশাপাশি চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি ছিল কিনা তারও তদন্ত হবে । এবিষয়ে স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম জানিয়েছেন , “যে স্যালাইন দেওয়া হয়েছে, তার ব্যাচ নিয়ে কিছু অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। শনিবার ওই টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে সব কিছু খতিয়ে দেখবেন।” কারোর গাফিলতি প্রমাণিত হলে যথাযত পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানিয়েছেন স্বাস্থ্যসচিব। নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পরও কীভাবে ওই কোম্পানির স্যালাইন ব্যবহার করা হল, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য দফতরে যে রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, ‘পশ্চিমবঙ্গ ফার্মাসিউটিক্যাল’ নামে যে কোম্পানির স্যালাইন ব্যবহার করা হয়েছিল, তার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় মৃত্যু হয়েছে রোগিনীর বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জানা যাচ্ছে, উত্তর দিনাজপুরে রমরমিয়ে তৈরি হচ্ছে রাজ্যের নিষিদ্ধ করা স্যালাইনটি। এই স্যালাইন ব্যবহারে গত বছর কর্ণাটকে ৫ জন মারা গেছিলেন। তারপরেই কর্নাটক ড্রাগ কন্ট্রোল ব্যুরো এটিকে ‘ব্ল্যাক লিস্টেড’ করে। নিম্নমানের এই স্যালাইনটি কীভাবে রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে থাকছে তাহলে? এতেও কি দুর্নীতিচক্র জড়িয়ে আছে? প্রশ্ন তুলছেন চিকিৎসকমহল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন ব্যবহার বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। জীবাণুর প্রভাবে সেপসিস হতে পারে। বিষক্রিয়া হয়ে কিডনি, হৃদপিণ্ড ও লিভারের ক্ষতিও হতে পারে। বাড়তে পারে রোগীর রক্তচাপ। এমনকি মৃত্যুর সম্ভাবনা থাকে, বিশেষ করে প্রসূতিদের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার মারাত্মক হতে পারে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!