- এই মুহূর্তে দে । শ
- জানুয়ারি ১৯, ২০২৬
দীর্ঘ টানাপড়েনের অবসান, রাজ্যে ফের শুরু হতে চলেছে ১০০ দিনের কাজ ! তৎপর রাজ্য পঞ্চায়েত দফতর
দীর্ঘ টানাপড়েন, কেন্দ্র–রাজ্য সংঘাত এবং একের পর এক আইনি জটের পর অবশেষে পশ্চিমবঙ্গে ফের চালু হতে চলেছে জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প বা ১০০ দিনের কাজ। নবান্ন সূত্রে ইঙ্গিত স্পষ্ট, আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই গ্রামবাংলার মাটিতে ফের শোনা যেতে পারে গ্রামীণ কাজের শব্দ। রাজ্য পঞ্চায়েত দফতর ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি পর্বে নেমে পড়েছে। সে প্রস্তুতির রাশ টেনে ধরা হচ্ছে কড়া সময়সীমা ও কঠোর নিয়মের বাঁধনে।
জানা গেছে, পঞ্চায়েত দফতরের তরফে সম্প্রতি সমস্ত জেলার জেলাশাসকদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাতে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের জন্য দ্রুত ‘লেবার বাজেট’ তৈরি করে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সে চিঠি জেলা প্রশাসনের হাত ঘুরে পৌঁছে গিয়েছে ব্লক স্তরে। বিডিওদের বলা হয়েছে, অবিলম্বে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে প্রকল্প পরিকল্পনার কাজ শুরু করতে। প্রশাসনের এক কর্তা জানিয়েছেন, ‘এবার আর ঢিলেমি রাখার সুযোগ নেই। সময়ের মধ্যেই সব ধাপ শেষ করতে হবে।’ নির্দেশিকায় প্রতিটি ধাপের জন্য আলাদা করে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। জানুয়ারির মধ্যেই পঞ্চায়েত স্তরে সম্ভাব্য প্রকল্পের তালিকা চূড়ান্ত করতে হবে এবং বিশেষ গ্রামসভা ডেকে সে তালিকায় সিলমোহর বসাতে হবে। তার পর ব্লক স্তরের অনুমোদন নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তালিকা জেলায় পাঠাতে হবে। জেলা প্রশাসনের কাজ শেষ হলেই ওই তালিকা রাজ্যে পাঠানো হবে এবং ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই রাজ্য স্তরে প্রকল্প নথিভুক্তির প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের ইঙ্গিত, নির্ধারিত সময়সীমা মানতে ব্যর্থ হলে প্রকল্প আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকছে।
এবার শুধু সময় নয়, নিয়মের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি চোখে পড়ার মতো। রাজ্য পঞ্চায়েত দফতর স্পষ্ট জানিয়েছে, বড়ো অঙ্কের ব্যয়ের প্রকল্পে আর ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে একটি গ্রাম পঞ্চায়েতে সীমিত সংখ্যক প্রকল্প চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে নজরদারি শিথিল না হয়। প্রতিটি প্রকল্পে জেলা স্তরের শীর্ষ আধিকারিকের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর পাশাপাশি কাজের ধরন নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে প্রশাসন। শুধু মাটি কাটা বা অস্থায়ী প্রকল্প নয়, এমন কাজই বেছে নিতে বলা হয়েছে যার ফলে দীর্ঘমেয়াদে গ্রামের পরিকাঠামো ও সম্পদ তৈরি হবে। পশ্চিম মেদিনীপুরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘এবার কাজ হবে দ্রুত, কিন্তু ছাঁকনির মধ্যে দিয়েই হবে।’
গ্রাম-বাংলার রুটি-রুজির প্রকল্প এতদিন বন্ধ থাকার নেপথ্যে ছিল তীব্র রাজনৈতিক ও আইনি দ্বন্দ্ব। কেন্দ্রের তরফে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বাংলায় ১০০ দিনের কাজের অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করা হয়। রাজ্য সরকারের দাবি ছিল, কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার দায়ে গোটা রাজ্যকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এই বিতর্ক গড়ায় আদালতে। কলকাতা হাই কোর্ট পর্যবেক্ষণে জানায়, কোনো কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে একটি রাজ্যের উপভোক্তাদের অনির্দিষ্টকালের জন্য বঞ্চিত করা যায় না। পরে সুপ্রিম কোর্টেও সে অবস্থানই বহাল থাকে, যদিও দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়। গত বুধবার সেই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ১০০ দিনের কাজের টাকা সরাসরি শ্রমিকদের হাতে পৌঁছনোই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য। তাঁর মন্তব্যে স্পষ্ট, আদালতের নজরেও এ প্রকল্পের সামাজিক গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। শুনানিতে রাজ্যের তরফে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, অভিযোগ যা-ই থাকুক, শ্রমিকদের প্রাপ্য অর্থ আটকে রাখা চলতে পারে না। পাল্টা কেন্দ্রের ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল বলেন, দুর্নীতির বিষয়টি আদালতের পর্যবেক্ষণেই উঠে এসেছে এবং দোষীদের শাস্তি না দিয়ে প্রকল্প চালু করা যুক্তিসঙ্গত নয়।
সব মিলিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতায় গ্রামবাংলায় নতুন করে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়া লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের চোখ এখন ফেব্রুয়ারির দিকে। তবে কড়া নিয়মের বেড়াজাল, প্রশাসনিক নজরদারি এবং আদালতের নজরের মধ্যে দিয়ে বাস্তবে কত দ্রুত কাজ শুরু হয় এবং সে কাজ কতটা নির্বিঘ্নে শ্রমিকদের কাছে পৌঁছয়, সেই দিকেই এখন তাকিয়ে রাজ্য।
❤ Support Us







