- ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র প্রচ্ছদ রচনা স | ফ | র | না | মা
- অক্টোবর ২৪, ২০২২
বই তীর্থ মহম্মদ বিন রাশিদ গ্রন্থাগার
একসময় পশ্চিম এশিয়াতেই গড়ে উঠেছিল বিশ্বের প্রথম আধুনিক লাইব্রেরি। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে মিশরের টলেমিক রাজবংশের পৃষ্ঠপোষকতায় আলেকজান্দ্রিয়া গ্রন্থাগার গড়ে উঠেছিল । শুধু বই নয়, সভাকক্ষ থেকে মিউজিয়াম সবই ছিল সেই বিশাল স্থাপত্যের অঙ্গ । যুদ্ধ আর রাজনীতির কুটিল অঙ্কে একসময় ধ্বংস হয়ে যায় বিশাল এই জ্ঞানের আধার । মধ্য এশিয়ার সেই হারানো গৌরবকেই নতুন করে ফিরিয়ে আনছে সংযুক্ত আরব । বৈভব আর রাজসিক বিনোদন আর বাণিজ্যের নগর, সোজা কথায় এটাই ছিল দুবাইয়ের ট্রেডমার্ক । এবার সেই চাকচিক্যের নগরেই গড়ে উঠল বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো, মহম্মদ বিন রাশিদ গ্রন্থাগার ।
২০১৬ সালে এই গ্রন্থাগার নির্মাণের কথা ঘোষণা করেছিল দুবাই প্রশাসন । সবমিলিয়ে ১ বিলিয়ন দিহরাম অর্থাৎ ২৭.২ কোটি ডলারের খরচে মাত্র ৬ বছরের মধ্যেই গড়ে তোলা হয় প্রকাণ্ড গ্রন্থাগার । অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সাহিত্য, বিজ্ঞান, চিকিৎসাশাস্ত্র, প্রযুক্তিবিদ্যা— ৫৪ হাজার বর্গমিটারের এই লাইব্রেরিজুড়ে রয়েছে বিভিন্ন বিষয়ের ১১ লক্ষেরও বেশি মুদ্রিত এবং ডিজিটাল গ্রন্থ । তাছাড়াও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পত্রিকা, মানচিত্র, গবেষণাপত্র পড়ারও সুযোগ পাবেন পাঠকরা । রয়েছে অজস্র অডিও বুক, বিশ্বের প্রায় ৭৩ হাজার সঙ্গীতের নোটেশন ও লোক-কবিতার সংকলন , পাঁচ হাজার দুর্লভ পান্ডুলিপি, এবং ৩৫ হাজার সংবাদপত্র । গত ৩২৫ বছরের গ্রন্থ এবং গ্রন্থ সংক্রান্ত সব ইতিহাসকে এক ছাতের তলায় নিয়ে আসার চেষ্টা করেছেন উদ্যোগতারা । লাইব্রেরির মধ্যে রয়েছে একটি মিউজিয়ামও । বিভিন্ন পাণ্ডুলিপি এবং মুদ্রিত গ্রন্থের প্রথম সংস্করণ সংরক্ষিত হয়েছে সেখানে । স্থানীয় পাঠক হোক কিংবা পর্যটক— সকলের জন্যই উন্মুক্ত এই জ্ঞানের আবাস । গত জুনে, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের দিনকয়েকের মধ্যেই প্রায় ৩৪ হাজার পাঠক ভিড় জমিয়েছেন এই প্রাঙ্গনে ।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, মানব লাইব্রেরিয়ানদের পাশাপাশি এই গ্রন্থাগার ‘পরিচালনা’ দায়িত্ব পালন করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় পরিচালিত রোবট । কাউন্টারে পাঠক পছন্দের বই-এর সন্ধান করলেই, গ্রন্থাগার থেকে সেই বই খুঁজে বার করে দেয় তারা । পাঠক বই ফিরত দেওয়ার পরও একইভাবে নির্দিষ্ট স্থানে বই রেখে আসে রোবট ।
উদ্বোধনের সময় ১০ লক্ষ বই-এর সংগ্রহ ছিল বিন রাশিদ লাইব্রেরিতে । বিগত চার মাসেই সংগ্রহের পরিমাণ বেড়েছে লক্ষাধিক । ভবিষ্যতে বিশ্বের বইপ্রেমীদের তীর্থস্থান হয়ে উঠবে এ আয়োজন বলেই মনে করছেন গ্রন্থাগারের পরিচালকরা
❤ Support Us








