- এই মুহূর্তে দে । শ
- জানুয়ারি ২, ২০২৬
পুর নিয়োগে দুর্নীতি মামলায় চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল সিবিআইয়ের। অভিযুক্তের তালিকায় কাদের নাম ?
রাজ্যের পুরসভা নিয়োগে দুর্নীতি মামলায় চূড়ান্ত চার্জশিট জমা দিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। শুক্রবার আলিপুরের সিবিআই বিশেষ আদালতে পেশ করা ওই চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে আইএএস অফিসার জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায়ের। সিবিআইয়ের দাবি, যে সময় এই দুর্নীতি হয়েছে, তখন তিনি রাজ্যের নগরোন্নয়ন দফতরের অধীন ডিরেক্টরেট অব লোকাল বডিজ-এর ডিরেক্টর পদে কর্মরত ছিলেন। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, উত্তর ও দক্ষিণ দমদম, কামারহাটি, বরানগর-সহ মোট আটটি পুরসভায় ৬০০-রও বেশি বেআইনি নিয়োগ হয়েছে। ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অয়ন শীলের সংস্থা ‘এবিএস ইনফোজোন প্রাইভেট লিমিটেড’-এর সক্রিয় ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেছে সিবিআই। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, পুরসভাগুলির নিয়োগ পরীক্ষায় ওএমআর শিট ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ছিল ওই সংস্থার উপরই।
সিবিআই সূত্রের খবর, বর্তমানে জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায় হুগলি রিভার ব্রিজ কমিশনের সেক্রেটারি পদে কর্মরত। তবে চার্জশিটে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, দুর্নীতির সময় তিনি ডিএলবি-র ডিরেক্টর ছিলেন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার উপর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ছিল তাঁর হাতেই। এ মামলায় এর আগে জেল হেফাজতে থাকা অয়ন শীল এবং দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান পাঁচু গোপাল রায়ের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করা হয়েছিল। শুক্রবার পেশ করা দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটকেই চূড়ান্ত বলে উল্লেখ করেছে সিবিআই। তদন্তকারীদের আরো দাবি, স্কুল নিয়োগ দুর্নীতি মামলার সূত্র ধরেই প্রথম অয়ন শীলকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তাঁর সল্টলেকের অফিসে তল্লাশি চালিয়ে একাধিক ওএমআর শিট ও উত্তরপত্র উদ্ধার হয়। সেখান থেকেই পুরসভা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের সূত্র পান তদন্তকারীরা। আর ওই সূত্র ধরেই একে একে গ্রেফতার করা হয় বিভিন্ন অভিযুক্তকে।
এর আগে, সিবিআইয়ের আগের চার্জশিটে বলা হয়েছিল, অয়ন শীলের ২ এজেন্টের মাধ্যমে বহু চাকরিপ্রার্থী পুরসভায় কাজ পেয়েছেন। প্রত্যেকের কাছ থেকে গড়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছিল। ওই এজেন্টদের মধ্যে শমীক চৌধুরী এবং দেবেশ চক্রবর্তী ওরফে কানুদার নাম উঠে আসে। তদন্ত অনুযায়ী, তাঁদের মাধ্যমেই অন্তত কয়েক ডজন চাকরিপ্রার্থী অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ পান। সিবিআই-এর দাবি ছিল, কলকাতা-সহ রাজ্যের ১৬টি পুরসভায় মোট ১৮২৯ জন বেআইনি ভাবে চাকরি পেয়েছেন। যদিও চূড়ান্ত চার্জশিটে, অভিযোগ কমে ৮টি পুরসভায় ৬০০-র বেশি নিয়োগের বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। উল্লেখ্য, পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে ইডি এবং সিবিআই একাধিক প্রভাবশালীর বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি অভিযান চালালেও, তাঁদের নাম এই চূড়ান্ত চার্জশিটে নেই। তদন্ত এখনও অন্য দিকেও এগোতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকেরা।
❤ Support Us







