Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ২৫, ২০২৫

জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যসভা নির্বাচনে একটি আসনে ফুটল কমল, কারচুপির ছায়া দেখছেন ওমর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যসভা নির্বাচনে একটি আসনে ফুটল কমল, কারচুপির ছায়া দেখছেন ওমর

জম্মু-কাশ্মীরে সংবিধানের ধারা ৩৭০ অবলুপ্তির পর শুক্রবার প্রথমবারের মতো রাজ্যসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। উপত্যকার ৪ টি আসনের মধ্যে ৩ টিতে জয়ী হয়েছে শাসক দল ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি)। একটি আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এদিন ৮৮টি আসনের মধ্যে ৮৬ জন বিধায়ক ভোটে অংশগ্রহণ করেন। নির্বাচনে এনসির প্রার্থীরা ছিলেন চৌধুরী মহম্মদ রমজান, সাজাদ কিচলু, ন্যাশনাল কনফারেন্স-এর কোষাধ্যক্ষ জিএস ওবেরয় বা শাম্মি ওবেরয়। বিজেপির প্রার্থী সৎ শর্মা ৩২টি ভোট পেয়ে জয়ী হন, বিপরীতে এনসির ইমরান নবি দার ২২টি ভোট পেয়েছেন।

ভোট গণনায় দেখা যায়, চৌধুরী মহম্মদ রমজান প্রথম আসনে ৫৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, বিরোধী প্রার্থী আলি মোহম্মদ মীর ২৮ ভোটে পরাজিত হন, এবং একটি ভোট বাতিল হয়। দ্বিতীয় আসনে সাজাদ কিচলু ৫৭ ভোটে জয়ী হন, হারান বিজেপির রাকেশ মহাজনকে, যেখানে দুটি ভোট বাতিল হযয়েছে। তৃতীয় আসনে এনসির জিএস ওবেরয় বা শাম্মি ওবেরয় বিজয়ী হন, কিন্তু দলের তরুণ মুখপাত্র ইমরান নবি দার বিজেপির সৎ শর্মার কাছে ২২ ভোটে পরাজিত হন। সৎ শর্মা ৩২ ভোট পেয়ে জয়ী হন, যা ওমর আবদুল্লাহ মেনে নিতে পারছেন না কিছুতেই। তাঁর দাবি এক্ষেত্রে কারিচুপি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, ৪টি আসনে ভোটার এজেন্টরা প্রতিটি ভোটার স্লিপ দেখেছেন এবং কোনো বিধায়ক অন্য দলের প্রার্থীকে ভোট দেননি। এ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ৪টি ভোট কিভাবে বিজেপির কাছে গেল তা সন্দেরহজনক। তিনি আরো লিখেছেন, সম্ভবত কিছু বিধায়ক তাদের ভোট অন্যদিকে ইচ্ছাকৃতভাবে দিয়েছেন বা চাপে পড়ে পছন্দ পরিবর্তন করেছেন, যা নজরদারির আওতায় আনা হবে। ওমর আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, হার সবসময় সহজ নয়, তবে ভবিষ্যতে সুযোগ থাকবেই।

যদিও, এনসির জয়ের পেছনে কেবল তাদের নিজস্ব সংখ্যার নয়, বরং কংগ্রেস, মেহবুবা মুফতির পিপিডি, সিপিআই(এম), এআইপি এবং কয়েকজন স্বাধীন বিধায়কের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তবে বিজেপি যে চতুর্থ আসনে অতিরিক্ত ভোট পেয়েছে, তা নিয়ে শাসক দলের নেতা ও মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা প্রকাশ্যে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। রাজ্যসভা নির্বাচনের এই ফলাফলে পিপলস কনফারেন্স-এর প্রধান সাজাদ লোনও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি নির্বাচনের ফলাফলকে ‘ফিক্সড ম্যাচ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে ভোট গণনার গাণিতিক ফল আগেই নির্ধারিত ছিল। হান্ডওয়ারা বিধানসভার বিধায়ক হিসেবে তিনি নিজে ভোট না দিয়ে সেই সিদ্ধান্তকে যাচাই করেছেন বলে জানিয়েছেন।

ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে এনসি সমর্থকদের মধ্যে প্রবল উদ্দীপনা দেখা যায়। বিধানসভার বাইরে তারা চিৎকার করে বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান, স্লোগান তোলেন। অন্যদিকে বিজেপি কর্মীরাও একমাত্র আসনের জয় উদযাপন করেছেন। ফলাফল যাই হোক, ২০১৯ সালের ধারা ৩৭০ বাতিলের পর দীর্ঘ ৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে শূন্য থাকা জম্মু-কাশ্মীরের প্রতিনিধিত্ব রাজ্যসভায় ফিরেছে এটাই জম্মু-কাশ্মীরের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পিডিপি বিধায়ক ওয়াহীদ পাড়া বলেছেন, ‘এবার ভোট দেওয়া হলো উপত্যকার বৃহত্তর স্বার্থে। এটি কেবল একটি দলের জয় নয়, এটি জনগণের প্রতিনিধি শক্তিকে সুসংহত করার প্রচেষ্টা।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!