Advertisement
  • বি। দে । শ
  • মার্চ ২৭, ২০২৬

নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন ‘র‍্যাপার’ বলেন্দ্র শাহ। শুভেচ্ছা বার্তা নরেন্দ্র মোদির

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন ‘র‍্যাপার’ বলেন্দ্র শাহ। শুভেচ্ছা বার্তা নরেন্দ্র মোদির

নেপালের রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব অধ্যায়। জেন-জি আন্দোলনের প্রভাবে অস্থিরতার সময় পেরিয়ে হিমালয়ের কোলে নতুন সূর্যদোয়। র‍্যাপার থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা বলেন্দ্র শাহ, যিনি দেশজুড়ে ‘বলেন’ নামেই পরিচিত, আনুষ্ঠানিকভাবে নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন। তরুণ প্রজন্মের অভূতপূর্ব সমর্থন, দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের ঢেউ এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি দীর্ঘদিনের অসন্তোষ, ভারতের প্রতিবেশী দেশে ক্ষমতার এই পালাবদল অভূতপুর্ব।

শুক্রবার সকালে রাজধানী কাঠমান্ডুর শীতল নিবাসে প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেলের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নেন ৩৫ বছর বয়সি বলেন্দ্র শাহ। শপথবাক্য পাঠ করান প্রেসিডেন্ট নিজেই। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তিনি। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে রাষ্ট্রীয় ভবনে কড়া নিরাপত্তা এবং উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। নির্বাচনের ফলাফলেই স্পষ্ট হয়েছিল জনমতের ঝোঁক। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের ২৭৫টি আসনের মধ্যে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) একাই ১৮২টি আসন দখল করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। রাজনৈতিক মহলের মতে, স্বাধীন নেপালের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো দল এত স্পষ্ট ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এল।

নেপালের নির্বাচনের পটভূমি ছিল গভীর রাজনৈতিক অস্থিরতা। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগে উত্তাল হয়ে ওঠে নেপাল। জেন-জি প্রজন্মের নেতৃত্বে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে গোটা দেশে। আন্দোলনের চাপে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেন নেপালের প্রথম মহিলা প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর অবশেষে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হিমালয়ের দেশে এই পরিবর্তন শুধুমাত্র ক্ষমতার বদল নয়, বরং সেখানকার রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও উল্লেখযোগ্য রূপান্তর।

বলেন্দ্র শাহের উত্থানও ব্যতিক্রমী। রাজনীতিতে প্রবেশের আগে তিনি ছিলেন জনপ্রিয় র‍্যাপ শিল্পী ও সামাজিক মন্তব্যকার। তাঁর গানে বারবার উঠে এসেছে দুর্নীতি, বেকারত্ব, বৈষম্য ও রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। তরুণ সমাজের মধ্যে সেই কণ্ঠস্বর তাঁকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেয়। ২০২২ সালে তিনি নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হন। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও কঠোর পদক্ষেপের জন্য প্রথম থেকেই আলোচনায় আসেন তিনি। শহরের অবৈধ দখলদারি উচ্ছেদ, লাইসেন্সবিহীন ব্যবসার বিরুদ্ধে অভিযান—সব মিলিয়ে যেমন প্রশংসা পেয়েছেন, তেমনই সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। মানবাধিকার সংগঠনগুলির অভিযোগ, তাঁর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনেক সময় অতিরিক্ত কঠোর ছিল, যার ফলে সাধারণ হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়েছেন। তবে সমর্থকদের বক্তব্য, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থার বিরুদ্ধে এমন কঠোর পদক্ষেপই প্রয়োজন ছিল।

নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বাভাবিকভাবেই তাঁর সামনে চ্যালেঞ্জের তালিকা দীর্ঘ। অর্থনৈতিক স্থবিরতা, কর্মসংস্থানের সংকট, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা—সব মিলিয়ে সরকারকে দ্রুত ফল দেখাতে হবে, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা এসেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা আরও দৃঢ় করার আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।

ইতিহাস বলছে, ১৯৯০ সালের পর থেকে নেপালে কোনও সরকারই পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারেনি। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বে নতুন সরকার কতটা স্থিতিশীলতা আনতে পারে, এখন সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তবে তরুণদের বিপুল প্রত্যাশা আর পরিবর্তনের দাবির ভার যে তাঁর কাঁধে, তা বলাই বাহুল্য।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!