- দে । শ
- মে ২৫, ২০২৩
সামাজিক সাম্য নিশ্চিত করতে, ধর্মান্তর বিরোধী আইনের পর্যালোচনা করবে কর্ণাটকের ক্ষমতাসীন কংগ্রেস
কর্ণাটকের কংগ্রেস সরকার রাজ্যে ‘সামাজিক সমতা’ নিশ্চিত করতে বিজেপির ধর্মান্তর বিরোধী, হিজাব নিষিদ্ধ আইনগুলি ‘পর্যালোচনা’ করবে।
কর্ণাটকের নবগঠিত কংগ্রেস সরকার বলেছে, ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপির পাস করা সমস্ত বিল এবং নির্বাহী আদেশ পর্যালোচনা করবে, যার মধ্যে ধর্মান্তর বিরোধী, গবাদি পশু জবাই বিরোধী এবং হিজাব নিষিদ্ধ আইন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কংগ্রেস এই বিলগুলির কোনওটি উল্লেখ না করার বিষয়ে প্রথম থেকে সতর্ক ছিল। বিধানসভা নির্বাচনের আগে সেগুলি পর্যালোচনা করার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেনি, তবে ২০ মে সিদ্দারামাইয়ার অধীনে সরকার গঠনের পরেই এই বিষয়টি সামনে নিয়ে এলো।
রাজ্যের বর্তমান কংগ্রেস সরকার পূর্ববর্তী বিজেপি সরকারের দ্বারা পাস করা যে কোনও বিল পর্যালোচনা করার বিষয়ে দৃঢ়ভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। কারণ কংগ্রেস মনে করে, বিজেপি সরকারের পাস করা এই বিলগুলি রাজ্যের ভাবমূর্তিকে প্রভাবিত করে, যার ফলে বিনিয়োগে বাধা কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্তরায় সৃষ্টি করে।এই বিলগুলি অসাংবিধানিক এবং ব্যক্তির অধিকারও লঙ্ঘন করে বলে কংগ্রেসের বক্তব্য। কর্ণাটকের কংগ্রেস সরকার বলছে, আমরা একটি অর্থনৈতিক এবং সামাজিকভাবে ভারসাম্যের কর্ণাটক গড়তে চাই। কর্ণাটকের নবনিযুক্ত ক্যাবিনেট মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গে টুইট করে এই বিষয়টি তাঁর পোস্টে তুলে ধরেছেন।
কংগ্রেস কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের ২২৪ টি আসনের মধ্যে ১৩৫ টি পেয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনে মুসলিম, দলিত এবং লিঙ্গায়তের মতো বেশ কয়েকটি সম্প্রদায়ের একত্রিত সমর্থনও কংগ্রেস পেয়েছে। এখন সম্প্রদায়গুলি তাদের প্রাপ্য দাবি আদায় করার পাশাপাশি তাদের নেতাদের জন্য মন্ত্রিসভায় জায়গা সুরক্ষিত করা এবং সেই সাথে গোষ্ঠীস্বার্থ বিচ্ছিন্ন ভাবে যাতে না দেখা হয় এমন নীতিগুলি বাতিল করার পক্ষেও দাবি তুলছে।
ধর্মান্তর বিরোধী এবং গবাদি পশু জবাই বিরোধী বিলগুলো ধর্মান্তরিত বা গোহত্যার জন্য সন্দেহভাজন যে কাউকে অভিযুক্ত এবং আক্রমণের দিকে মানুষকে পরিচালিত করেছিল। হিজাব নিষেধাজ্ঞাও বড় বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল। যদিও হিজাব ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায় এখনও সময়ের অপেক্ষা।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার অ্যাডভোকেসি গ্রুপ, অ্যামনেস্টি (ভারত) নবনির্বাচিত কর্ণাটক রাজ্য সরকারের কাছে এই তিনটি ‘অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপ’ চাওয়ার পরে কংগ্রেসের তরফে এই বিবৃতি সামনে আসে।
অ্যামনেস্টি তার পোস্টে বলেছে, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারীদের হিজাব পরার নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার করুন। এই নিষেধাজ্ঞা মুসলিম মেয়েদের তাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং ধর্মের অধিকার এবং তাদের শিক্ষার অধিকারের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে বাধ্য করে, যা তাদের সমাজে অর্থপূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করার ক্ষমতাকে বাধাপ্রাপ্ত করে।”
টুইটের পঁচন পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, “রাষ্ট্রের জন্য এটা হচ্ছে তাদের মানবাধিকারকে সম্মান, সুরক্ষা এবং পূরণ করার দায়িত্ব পালনের একটি বড় সুযোগ। অ্যামনেস্টি তার পোস্টে অধিকার নিশ্চিত করার জন্য এই কার্যকরী পদক্ষেপগুলি অবিলম্বে গ্রহণ করে কর্তৃপক্ষকে তাদের প্রতিশ্রুতি প্রদর্শনের জন্য আহ্বান জানিয়েছে।”
কংগ্রেসের এই পর্যালোচনা ও ঘোষণায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে, কর্ণাটকের প্রবীণ বিজেপি সাংসদ লাহার সিং সিরোয়া বৃহস্পতিবার তাঁর টুইটে লিখেছেন, : “প্রিয়াঙ্ক খার্গকে যেভাবে কথা বলেন সেভাবে কথা বলার আত্মবিশ্বাস বা অধিকার কি তাঁর আছে? তাঁর এখনও কোনো পোর্টফোলিও নেই। তিনি মুখ্যমন্ত্রী বা উপ-মুখ্যমন্ত্রী নন। তিনি কর্ণাটক প্রদেশ কংগ্রেস এর প্রেসিডেন্ট নন। তিনি কি কর্ণাটকের নতুন সুপার সিএম?”
❤ Support Us






