- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- আগস্ট ২১, ২০২৫
লিপুলেখ পাস ইস্যুতে নেপালের দাবি ‘ভিত্তিহীন’, প্রতিক্রিয়া নয়াদিল্লির
কালাপানি অঞ্চলের বিতর্কিত লিপুলেখ পাস ঘিরে উত্তপ্ত ভারত-নেপাল সম্পর্ক। ভারত সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু করার ঘোষণা দেওয়ার পরেই তীব্র আপত্তি জানায় কাঠমান্ডু। বুধবার গভীর রাতে কড়া ভাষায় তার জবাব দিয়েছে নয়াদিল্লি। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নেপালের দাবি অযৌক্তিক, ভিত্তিহীন এবং ঐতিহাসিক সত্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আবহে আলোচনা ও কূটনৈতিক সংলাপের রাস্তা যে এখনও খোলা, তাও বুঝিয়ে দিয়েছে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের সাফ কথা, ‘নেপাল যদি গঠনমূলক আলোচনায় আগ্রহী হয়, ভারতও আলোচনায় প্রস্তুত।’
চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সাম্প্রতিক ভারত সফরের সময় ঘোষণা হয়, লিপুলেখ পাস হয়ে ভারত-চিনের মধ্যে সীমান্ত বাণিজ্য ফের চালু হবে। কোভিড ও অনান্য কারণে বন্ধ থাকা বাণিজ্য নতুনভাবে শুরু হওয়ার আগেই প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেয় নেপাল। কেপি শর্মা ওলির নেতৃত্বাধীন নেপাল সরকার দাবি করে, সরকারি মানচিত্র অনুযায়ী লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ এবং কালাপানি—এই ৩ অঞ্চল মহাকালী নদীর পূর্বে পড়ায় তা নেপালের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই ভারতকে অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে সেখানে রাস্তা নির্মাণ, সম্প্রসারণ বা সীমান্ত বাণিজ্য কোনো কিছুই না করা হয়। এমনকি, বন্ধুত্বের বার্তা দিতেও ভুল করেনি নেপাল। তারা জানিয়েছে, এ বিষয়টি চিনকেও জানানো হয়েছে যে, বিতর্কিত ওই এলাকা নেপালের সীমানার মধ্যে পড়ে।
নেপালের ওই বিবৃতির পরেই বুধবার গভীর রাতে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক। মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, ‘লিপুলেখ পাস ধরে ভারত-চীন সীমান্ত বাণিজ্য ১৯৫৪ সাল থেকেই চলছে। কোভিড ও অন্য কিছু কারণে সাময়িকভাবে তা বন্ধ থাকলেও, বহু দশক ধরেই এটি একটি স্বীকৃত বাণিজ্যপথ।’ তাঁর কথায়, ‘নেপালের এই অভিযোগ কোনো ঐতিহাসিক দলিল বা তথ্য দিয়ে সমর্থিত নয়। বরং, একতরফাভাবে সীমান্ত বাড়ানোর দাবি অসাংগতিপূর্ণ ও কোনোভাবেই তা গ্রহণযোগ্য নয়।’
প্রসঙ্গত, লিপুলেখ-সহ গোটা কালাপানি অঞ্চল ঘিরে ভারত-নেপাল সীমান্ত বিরোধের ইতিহাস নতুন নয়। এর শিকড় রয়েছে ১৮১৬ সালের সুগৌলির সন্ধিতে, যেখানে বলা হয়েছিল, মহাকালী নদী (তৎকালীন কালী নদী) হবে দু-দেশের মধ্যে প্রাকৃতিক সীমারেখা। সমস্যা শুরু হয় নদীর উৎসস্থল নিয়ে মতানৈক্য ঘিরে। নেপালের দাবি, নদীর জন্মস্থল লিম্পিয়াধুরা, যা লিপুলেখের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। ফলে সেই হিসাবে কালাপানি, লিপুলেখ ও লিম্পিয়াধুরা, সবই নেপালের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে পড়ে। বিপরীতে ভারতের মত, নদীর উৎপত্তি কালাপানি গ্রামে অবস্থিত একটি প্রস্রবণ থেকে, যা ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের অন্তর্গত। ২০২০ সালে লিপুলেখ পাস ধরে ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি রাস্তা নির্মাণ করে ভারত, যা কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সে সময়ও নেপাল ওই প্রকল্পকে নিজেদের সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত বলে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছিল। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে, কাঠমান্ডু একটি নতুন রাজনৈতিক মানচিত্র প্রকাশ করে, যেখানে বিতর্কিত অঞ্চলগুলিকে তাদের ভূ-খণ্ড হিসাবে দেখিয়ে তা সংবিধানেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
কূটনৈতিক শিবিরের মতে, এই বিবাদ নিছক সীমান্ত বিরোধ নয়। বরং এতে রয়েছে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ ও চিনের সঙ্গে নেপালের ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত। মনে করা হচ্ছে, আগামী মাসে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির নয়াদিল্লি সফরের সময় এ ইস্যু ফের তুলে ফের সরব হতে পারে কাঠমান্ডু। ভারত যদিও স্পষ্ট করেছে, সীমান্ত বিতর্ক কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব, তবে অযৌক্তিক এবং একতরফা দাবি কোনো অবস্থাতেই মেনে নেওয়া হবে না।
❤ Support Us







