- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৫
ভারতে বসবাসকারী বিদেশিদের উপর নয়া বিধিনিষেধ, অসমের ধাঁচেই সব রাজ্যে ডিটেনশন ক্যাম্প!
বিদেশি নাগরিকদের ভারতে প্রবেশ ও বসবাসের ক্ষেত্রে নয়া কঠোর নিয়ম চালু করেছে কেন্দ্র। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক আদেশে বলা হয়েছে, কোনো বিদেশি ব্যক্তি যদি রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ, গুপ্তচরবৃত্তি, যৌন অত্যাচার ও খুন, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অর্থপাচার বা শিশু পাচারে যুক্ত থাকে, তাঁকে ভারতের মাটিতে প্রবেশ বা অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হবে না। নতুন ফরমান অনুযায়ী, অসমের মতোই প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিদেশিদের জন্য বিশেষ আটককেন্দ্র বা ডিটেনশন ক্যাম্প স্থাপন করতে হবে। বেআইনিভাবে থাকা বিদেশিদের সীমিত সময়ের জন্য এসব কেন্দ্রে রাখা হবে, যতদিন না তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আরো জানিয়েছে, কোনো বিদেশি নাগরিকের ভিসার জন্য আবেদন বা ওভারসিজ সিটিজেন অফ ইন্ডিয়া কার্ডের নিবন্ধনের জন্য আবেদন করলে, তাঁর বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ বাধ্যতামূলক। সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা কোস্টগার্ড বেআইনি অভিবাসীদের দেশে প্রবেশ রুখতে, তাঁদের বায়োমেট্রিক ও জনসংখ্যাগত তথ্য কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দিষ্ট পোর্টালে আপলোড করবে। পাশাপাশি, ভারতে কর্মসংস্থানের বৈধ ভিসা থাকা বিদেশিদের জন্যও বিশেষ নিয়ম চালু হয়েছে। তাঁরা কেন্দ্রের অনুমতি ছাড়া বিদ্যুৎ, জল বা পেট্রোলিয়াম সরবরাহকারী বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতে পারবেন না। এছাড়াও চলচ্চিত্র, প্রামাণ্যচিত্র, রিয়্যালিটি শো, ওয়েব সিরিজ বা টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণের ক্ষেত্রে লিখিত অনুমতি আবশ্যক।
তাছাড়াও, কোনো বিদেশি নাগরিককে ভারতের কোনো পর্বতচূড়া আরোহনের আগে কেন্দ্রীয় সরকারের লিখিত অনুমতি নিতে হবে। রুট নির্ধারণ, লিয়াজোঁ অফিসার সংযুক্তি, ফটোগ্রাফি ও ওয়্যারলেস সরঞ্জামের ব্যবহার—সমস্তটাই নিয়ন্ত্রণের আওতায় থাকবে। ভিনদেশী প্রতিটি ব্যক্তিকে সুরক্ষিত বা সীমাবদ্ধ এলাকায় প্রবেশ বা থাকার জন্য বিশেষ পারমিট নিতে হবে। তবে আফগানিস্তান, চিন ও পাকিস্তান থেকে আসা নাগরিকদের ওসব এলাকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। এই নিষেধাজ্ঞার আওয়ায় থাকা জায়গাগুলির মধ্যে অন্যত্ম সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলির, যেমন অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, সিকিম, জম্মু-কাশ্মীর, উত্তরাখণ্ড, লাদাখ, হিমাচল প্রদেশ এবং রাজস্থানের নির্দিষ্ট অংশ। ভিসা ছাড়া বিদেশি নাবিক বা বিমানকর্মীদের ভারতে প্রবেশের জন্য ল্যান্ডিং পারমিট বা শোর লিভ পাসও বাধ্যতামূলক।
এছাড়াও যদি আদালতের উপস্থিতি প্রয়োজন হয়, তাহলে সেই ব্যক্তি ভারত ত্যাগ করতে পারবেন না। যদি তিনি জনস্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক এমন রোগে আক্রান্ত হন, কংবা যদি তাঁর প্রস্থানে বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, বা যদি কেন্দ্রীয় সরকার বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বিশেষভাবে তাঁর যাত্রা নিষিদ্ধ করে, তাহলেও দেশছাড়ার অনুমতি মিলবে না। অভিবাসন দফতর নিয়মিত এ তালিকা হালনাগাদ রাখবে, যাতে বিদেশিদের ভারতে প্রবেশ ও প্রস্থানের নিয়ন্ত্রণ কার্যকরভাবে রাখা যায়। নির্দেশে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে যদি কোনো ব্যক্তি নিজেকে ভারতীয় প্রমাণে ব্যর্থ হন বা তাঁর নথিপত্র সন্দেহজন্য মনে হয়, তাঁকে ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা যাবে। সাধারণ আদালতের বিচারাধীন থাকছে না এমন মামলা; সন্দেহজন্য বিদেশিদের বিশেষ ট্রাইব্যুনালের কাছে পেশ করতে হবে। প্রশাসনের দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণভাবে পালন করবেন জেলাশাসকরা। প্রাথমিক তদন্তের তদারকিও তাঁদের ওপরই। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক দু-দিন আগে এই আইনটি দেশের সব রাজ্যে কার্যকর করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এই নতুন উদ্যোগ, বিশেষ করে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত বিদেশিদের নিয়ন্ত্রণ এবং সুরক্ষিত অঞ্চলে প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
❤ Support Us








