Advertisement
  • দে । শ
  • ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫

বিদায় সংবর্ধনা নয়, চিফ জাস্টিসকে চিঠি দিলেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বিদায় সংবর্ধনা নয়, চিফ জাস্টিসকে চিঠি দিলেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু

প্রথমে আইনজীবী, পরে বিচারপতি—টানা তিন দশকেরও বেশি সময় কলকাতা হাইকোর্টের সঙ্গে যুক্ত থাকার পর শুক্রবার অবসর নিচ্ছেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। প্রথা অনুযায়ী, অবসরের দিনে প্রধান বিচারপতির এজলাসে সব বিচারপতি ও আইনজীবীর উপস্থিতিতে তাঁর বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন হওয়ার কথা। কিন্তু সেই প্রথা মানতে নারাজ বিচারপতি বসু।

হাইকোর্ট সূত্রের খবর, প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লিখে বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু তাঁর বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন না–করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

হাইকোর্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, বিচারপতি বসুর এজলাসে ১৬০০টি সুপার নিউমেরারি পদের বৈধতা সংক্রান্ত একটি মামলা চলছিল। সেই মামলার সঙ্গে যুক্ত একদল চাকরিপ্রার্থী কয়েক মাস আগে হাইকোর্ট চত্বরে বিচারব্যবস্থা নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করেন। অভিযোগ, তাঁরা বিচারপতি বসুর ছবি রাস্তায় ফেলে পা দিয়ে মাড়ান এবং তাঁর সম্পর্কে অপমানজনক ও অসম্মানজনক মন্তব্য করেন।

এই ঘটনার পর হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে, যা বর্তমানে তিন বিচারপতির একটি স্পেশাল বেঞ্চে বিচারাধীন।

সূত্রের দাবি, ওই ঘটনায় বিচারপতি বসু নিজেকে চরম অপমানিত ও অসম্মানিত বোধ করেছেন। তবে তিনি শুধু ব্যক্তিগতভাবে নয়, বিচারব্যবস্থার সম্মানহানিতেও গভীরভাবে আঘাত পেয়েছেন।

বিচার বিভাগের এক আধিকারিকের বক্তব্য, “ওই ঘটনায় মামলা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু বিচারপতি বসু নিজে দীর্ঘদিন আইনজীবী হিসেবে বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ছিলেন। এমন একটি ঘটনায়, যেখানে শুধু একজন বিচারপতি নন, গোটা বিচারব্যবস্থার সম্মান নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছে, সেখানে বার অ্যাসোসিয়েশনের কোনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ না–দেখে তিনি মর্মাহত।”

ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে বার অ্যাসোসিয়েশন কোনও নিন্দা প্রস্তাব বা রেজোলিউশন গ্রহণ করেনি। বিচার বিভাগের একাংশের মতে, এই কারণেই বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সেই সংগঠনের তরফে প্রশংসাসূচক বক্তব্য বা শব্দবন্ধ শুনতে তিনি প্রস্তুত নন। তার জেরেই বিদায় সংবর্ধনা না–নেওয়ার সিদ্ধান্ত।

এ ছাড়াও, বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের জন্য প্রায় এক ঘণ্টা হাইকোর্টের বিচারকাজ বন্ধ থাকে—এই বিষয়টিতেও বিচারপতি বসুর আপত্তি রয়েছে বলে সূত্রের খবর।

তবে প্রথা পুরোপুরি ভাঙছেন না তিনি। বিচার বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার তাঁর কাজের শেষ দিনে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু সেরিমোনিয়াল বেঞ্চে বসবেন।

অভিজ্ঞ আইনজীবীদের মতে, এই সিদ্ধান্ত একেবারেই নজিরবিহীন নয়। ২০১৭ সালে বিচারপতি অসীম রায়ও বিদায় সংবর্ধনা না–নিয়েই অবসর গ্রহণ করেছিলেন।

সব মিলিয়ে, বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর এই সিদ্ধান্ত শুধু ব্যক্তিগত আবেগ নয়, বরং বিচারব্যবস্থার মর্যাদা ও মূল্যবোধ নিয়ে এক নীরব কিন্তু দৃঢ় বার্তা বলেই মনে করছেন আইনমহলের একাংশ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!