- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ১৮, ২০২৪
সরকারি হাসপাতালে সদ্যোজাতের জাল ওষুধ সরবারহ।ব্যবস্থাগ্রহণে পাননি নির্দেশ, স্বাস্থ্যদফতরের ওপর দায় ঠেললেন সুপার
আবার জাল ওষুধের খোঁজ মিলল রাজ্যের অন্যতম নামী সরকারি প্রতিষ্ঠান নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গত ২৪এপ্রিল এই সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট এলেও তাতে কর্ণপাত করেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এমনকি সরবরাহকারী অভিযুক্ত ডিস্ট্রিবিউটরের থেকেই এখনও ইনজেকশন নিচ্ছে তারা।
সদ্যোজাতরা অনেক সময় শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা থাকে।তাদের প্রাণ রক্ষায় ওই মূল্যবান ইনজেকশন ব্যবহৃত হয়, যা তৈরি করে একটি বহুজাতিক সংস্থা। এর প্রতি ভায়ালের দাম ২১০০ টাকা, যা ‘কোটেশন’ করে সরকারী ক্ষেত্রগুলি কেনে ৯৭০ টাকায়। এটি ব্যবহৃত হয় সিক নিওনেটাল কেয়ার ইউনিট অর্থাৎ এসএনসিইউ -তে। এবার ওই ইনজেকশনগুলিই জাল সরবরাহ করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত ওই সংস্থা শুধুমাত্র শহরের মেডিক্যাল কলেজে নয়, বেশ কিছু গ্রামীণ হাসপাতালেও ওষুধ সরবরাহ করে থাকে। যেখানে এনআরএসে ওই ব্যাচের ওষুধ জাল বলে চিহ্নিত হয়েছে, সেখানে অন্যান্য সরকারি হাসপাতালে হয়ত ইতিমধ্যে বেশ কিছু সদ্যোজাত শিশুর ওপর এটির প্রয়োগ হয়েও থাকতে পারে। তাছাড়া, সেই অভিযুক্ত ডিস্ট্রিবিউটর অন্য সংস্থার নামে জাল ওষুধ সরবরাহ করেনি তার নিশ্চয়তা কোথায়?
স্বাস্থ্য দফতর সুত্রে জানা গেছে, গত বছরের শেষের দিকে ওই সংস্থার থেকে ৫০ ভায়াল পালমোজ়িল ইনজেকশন (১২.৫ এমএল) কেনে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, যার মেয়াদ ছিল ৩০মে ২০২৫। এর মধ্যে ছটি ইনজেকশন প্রয়োগ করাও হয়েছে বলে জানা গেছে।কিন্তু গত মাসে কর্মরত কয়েকজন নার্সের ওই ইনজেকশনের ভয়েলে ছত্রাক দেখে সন্দেহ হলে তাঁরা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। ওই বহুজাতিক সংস্থাটি তখন ওগুলির নমুনা পরীক্ষার জন্য নিয়ে যান। ওইদিন তাঁরা রিপোর্ট দেন যে ইনজেকশনগুলি জাল। তাঁদের সংস্থার ব্যাচ নম্বর নকল করার পাশাপাশি প্যাকেজিংও নকল করা হয়েছে।
তারপর স্বাস্থ্য দফতরের ডেপুটি ডিরেক্টর প্রশান্ত বিশ্বাস ওই সরবরাহকারী সংস্থার বিরুদ্ধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে থানায় এফআইআর করার নির্দেশ দেন। তাদের থেকে ওষুধ নেওয়া বন্ধ করার পাশাপাশি ড্রাগ কন্ট্রোলকেও বিষয়টি অবহিত করতে বলেন। অভিযোগ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব কিছুই করেনি। উল্টে ১৬ এপ্রিল তাদের থেকেই আবার ৪৪ ভয়েল ওই ইনজেকশন কিনেছে তারা, যদিও নির্মাতা সংস্থা আলাদা ছিল।
স্বাস্থ্য দফতরের ডেপুটি ডিরেক্টর সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, হাসপাতালে যাতে ওই ওষুধ ব্যবহার না করা হয়, তার জন্য কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে । কিন্তু হাসপাতাল সুপার ইন্দিরা দে পালের দাবি, এসব কিছুই করতে বলেননি ডেপুটি ডিরেক্টর। এমনকি ওই ইনজেকশন যে জাল, সেই রিপোর্ট তাঁরা পাননি।
এদিকে অভিযুক্ত সংস্থার তরফে রাজদীপ সাহা বলেছেন,’ আমরা বড় ডিস্ট্রিবিউটরদের থেকে জিনিস কিনে অনেক সরকারি হাসপাতালে সরবরাহ করি। তাদের মধ্যে থেকে কেউ জাল ওষুধ দিলে আমরা কি করতে পারি? ‘
❤ Support Us







