Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুলাই ১৫, ২০২৫

ওড়িশায় ছাত্রীর মৃত্যু একটি সংগঠিত হত্যা, মোহন সরকারের বিরুদ্ধে তোপ রাহুলের

ওড়িশায় ছাত্রীর মৃত্যু একটি সংগঠিত হত্যা, মোহন সরকারের বিরুদ্ধে তোপ রাহুলের

বালাসোরের বি-এড কলেজের বিভাগীয় প্রধানের দ্বারা লাঞ্ছিতা হয়ে অপমানে গায়ে আগুন দিয়ে ওড়িশায় বি-এড কলেজের ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় মঙ্গলবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি সেই রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, “এটি একটি “সংগঠিত হত্যা ব্যবস্থার দ্বারা পরিচালিত কাজ ছাড়া কিছু নয় “।

রাহুল গান্ধি অভিযোগ করেন যে যাঁদের তাঁকে রক্ষা করার কথা ছিল, তাঁরা “তারই তাঁর ক্ষতি করেছে”।

“ওড়িশায় একটি মেয়ে যে ন্যায় বিচারের জন্য লড়াই করছিল, তাঁর মৃত্যু বিজেপির সিস্টেমের দ্বারা একটি হত্যার মতো ঘটনা ছাড়া অন্য কিছু নয়। সেই সাহসী ছাত্রী যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে তাঁর কণ্ঠ তুলে ধরেছিল – কিন্তু ন্যায় বিচারের বদলে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছে, অত্যাচার করা হয়েছে এবং বার বার অপমানিত করা হয়েছে”। রাহুল গান্ধি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলের একটি পেস্টে এই অভিযোগ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, “যাঁরা তাঁকে রক্ষা করার কথা ছিল, তাঁরা তাঁকে নির্যাতিত, অপমানিত করেছে, যাঁর ফলে ছাত্রীর মানসিক অবসাদ শুরু হয়। সবসময়ই বিজেপি যেমন তাদের সিস্টেমে অভিযুক্তদের রক্ষা করে চলে এখানেও তাই হয়েছে। ফলে একটি নির্দোষ মেয়েকে বাধ্য হয়ে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করতে হল।”

রাহুল গান্ধি দাবি করেন যে মেয়েটির মৃত্যু আত্মহত্যা নয়, এটি সিস্টেম দ্বারা একটি সংগঠিত হত্যা।

তিনি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন “মোদি জি, ওড়িশা অথবা মণিপুরে – জাতির কন্যারা পুড়ে যাচ্ছে, ভেঙে যাচ্ছে, মারা যাচ্ছে। আর আপনি? আপনি নীরব থাকেন”।

রাহুল গান্ধি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে আরও লেখেন , “দেশ আপনার নীরবতা চায় না; উত্তর চায়। ভারতের নারীদের প্রয়োজন নিরাপত্তা এবং ন্যায়।”

এদিকে ওই কলেজ ছাত্রী মেয়েটির মৃত্যু নিয়ে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেন ওড়িশার বিরোধী দলনেতা এবং বিএইচডি সভাপতি নবীন পট্টনায়ক। তিনি বলেন, “এই ঘটনাটি অন্য কিছুই নয়, বরং বলা যায় একটি একটি প্রতিষ্ঠানিক বিশ্বাসঘাতকতা এবং পরিকল্পিত অন্যায়।”

এই ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে নবীন পট্টনায়ক তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “এটি গভীরভাবে উদ্বেগজনক ঘটনা, একটি ব্যর্থ প্রশাসনিক পদ্ধতি কীভাবে কাউকে হত্যা করতে পারে তার উদাহরণ”।

তিনি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে আরও লেখেন, “সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হল যে এটি একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি একটি ব্যবস্থা ফল যা সাহায্য না করে চুপ করে ছিল, থাকে”।

নবীন জানান, মেয়েটি ন্যায় বিচারের জন্য লড়াই করছিল এবং সাহসিকতার সঙ্গে সে কলেজের অধ্যক্ষকে জানিয়েছিল যে সে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে।

কলেজ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উপেক্ষিত হওয়ার পরও, সে হাল ছেড়ে দেয়নি এবং উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীর, রাজ্য সরকারের, এমনকি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর অফিসেও অভিযোগ জানিয়েছিল, তিনি জানান এবং বলেন যে সে বালাসোরের সাংসদকেও তার সমস্যার কথা মেয়েটি জানিয়েছিল।

এর পর নবীন উল্লেখ করেন, “যদি এক জনও দায়িত্ব নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করত, তবে হয়তো মেয়েটির জীবন বাঁচানো যেত। সে শুধু শারীরিক আঘাতের কারণে মারা যায়নি, বরং রাজ্য সরকারের অবহেলার কারণে, যারা তাঁকে একা তাঁর লড়াই করতে বাধ্য করেছিল”।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী গভর্নর হরি বাবু কম্ভমপতির কাছে আবেদন করেছেন যে কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি, যাঁরা মেয়েটির কাতর আবেদন সত্ত্বেও কোনও পদক্ষেপ নেননি, তাঁদেরও দায়ী করা উচিত।

মেয়েটির দেহ তাঁর গ্রামে পৌঁছানোর পর, মেয়েটির সৎকার করা হয়।

বালাসোর সাংসদ প্রকাশ সারঙ্গী, জেলা কর্মকর্তারা এবং অন্যান্যরা সৎকার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

২০ বছর বয়সী দ্বিতীয় বর্ষের বিএড ছাত্রীর মৃত্যু ঘটেছে, যিনি ফকির মোহন (স্বায়ত্তশাসিত) কলেজ, বালাসোরের বি-এড বিভাগের প্রধান সামিরা কুমার সাহুর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছিলেন।

সে শনিবার কলেজ ক্যাম্পাসে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল, যে কারণে তাঁর শরীর ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।

তারপর মেয়েটিকে বালাসোর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য আইএমএস ভুবনেশ্বরে স্থানান্তরিত করা হয়।

মেয়েটির মৃত্যু ঘটনা ওড়িশায় রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দল বিএইচডি এবং কংগ্রেস এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাকে “প্রতিষ্ঠানগত বিশ্বাসঘাতকতা” বলে অভিহিত করেছে।

এদিকে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মজির মৃত ছাত্রীর পরিবারের জন্য ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন, কংগ্রেস ১৭ জুলাই উড়িষ্যা বনধের ডাক দিয়েছে রাজ্যে ন্যায় বিচার ব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রতিবাদে।

রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি ভক্তচরণ দাস বলেছেন, বনধে আটটি দল, যার মধ্যে বামপন্থী দলগুলি সমর্থন করছে।

তিনি দাবি করেছেন যে, ফকির মোহন (স্বায়ত্তশাসিত) কলেজে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা দেখিয়েছে যে রাজ্য সরকার মহিলাদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

“সে পেট্রল নিয়ে আসছিল এবং সবাই চুপ করে দেখছিল। কেউ কিছু করল না,” বলে তিনি অভিযোগ করেছেন, শাসক বিজেপির বিরুদ্ধে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!