- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- ডিসেম্বর ১৭, ২০২৪
বিরোধীদের তুমুল প্রতিবাদের মাঝে লোকসভায় পেশ ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ বিল
গোটা দেশে একই সঙ্গে নির্বাচন করার লক্ষ্যে ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ সংস্কান্ত বিলটি আজ সংসদে পেশ করা হল। এদিন সংসদে বিলটি পেশ করেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওআল। এটি সংসদরে ১২৯তম সংশোধনী বিল। বিলটি লোকসভায় পেশ হওয়া মাত্রই তীব্র প্রতিবাদ জানান বিরোধী সাংসদরা।
কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওআল বিলটি লোকসভায় পেশ করা মাত্রই তীব্র প্রতিবাদ জানাতে থাকেন কংগ্রেসের মণীশ তেওয়ারি, সমাজবাদী পার্টির ধর্মেন্দ্র যাদব, তৃণমূল কংগ্রেস কল্যাণ ব্যানার্জি, ডিএমকে–র টিআর বালু এবং এনসিপি–এর (শারদ পাওয়ারের দল) সুপ্রিয়া সুলে। তাঁরা বিলটি প্রত্যাহারের দাবি জানাতে থাকেন। বিজেপি–র দুই জোট অন্ধ্রপ্রদেশের ক্ষমতাসীন টিডিপি এবং মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের শিবসেনা বিলটিকে সমর্থন করেছে।
কংগ্রেসের তেওয়ারি প্রস্তাবটিকে ‘লোকসভার আইন প্রণয়নের ক্ষমতার বাইরে’ বলে নিন্দা করেন এবং এই বিল অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান। সমাজবাদী পার্টির ধর্মেন্দ্র যাদব বিলটি সম্পর্কে সতর্ক করে বলেন, ‘এটি একনায়কত্বের পথ সুগম করবে।’ তৃণমূল সাংসদ কল্যান ব্যানার্জি বলেন, ‘এই বিল সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে আঘাত করবে।’ বিরোধীদের প্রবল বিরোধিতার মুখে বিলটি নিয়ে আলোচনার জন্য যৌথ কমিটির কাছে পাঠানো হতে পারে।
এদিন, লোকসভায় ‘এক জাতি, এক নির্বাচন’ বিল উত্থাপন করে সকালের কার্যক্রম শুরু করেছিল। বিলটি উত্থাপন করে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওআল বলেন, ‘ভারতের গণতন্ত্র নির্বাচনের প্রাণবন্ততায় বিকশিত হয়। খণ্ডিত এবং ঘন ঘন নির্বাচন আরও কার্যকর ব্যবস্থার জন্য আলোচনার জন্ম দিয়েছে।’ বিরোধীরা প্রস্তাবটি ‘গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করার প্রয়াস’ বলে উল্লেখ করে।
গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সংবিধান সংশোধন করার জন্য দুটি বিল নিয়ে এসেছে। ক্ষমতাসীন বিজেপিকে তার ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ প্রস্তাব বাস্তবায়নের অনুমতি দিয়েছে। বিলগুলি তার সংশোধনীগুলি প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দের নেতৃত্বে এক কমিটি, যে কমিটিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও রয়েছেন, সেই কমিটি সেপ্টেম্বরে এক রিপোর্টে সুপারিশ করেছিল। প্রথম বিলটিতে রাজ্য বিধানসভার মেয়াদ লোকসভার সাথে যুক্ত করার সংশোধনী রয়েছে। এর অর্থ হল ২০২৯ সালের পরে নির্বাচিত রাজ্য সরকারের মেয়াদ সেই লোকসভার মেয়াদের সাথে শেষ হবে। সুতরাং, ২০৩১ সালে নির্বাচিত একটি বিধানসভা ২০৩৪ সালে বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং তার পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করবে না। দ্বিতীয়টি পুদুচেরি, দিল্লি এবং জম্মু ও কাশ্মীরের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির বিধানসভাগুলিতে লোকসভার সঙ্গে নির্বাচন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
২০৩৪ সালের নির্বাচনের আগে এই নিয়ম কার্যকর হবে বলে মনে হয় না। বিল অনুসারে, এটি একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর কার্যকর করা হবে, নবনির্বাচিত লোকসভার প্রথম অধিবেশনের পরে অবহিত করা হবে। তারপরে যদি নির্ধারিত সময়ের আগে একটি বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হয়, তবে পূর্ববর্তী মেয়াদ শেষ করার জন্য একটি নতুন আইনসভার জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রাম নাথ কোবিন্দ কমিটি বিশ্বাস করে যে এই বিলগুলির জন্য রাজ্যের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না।
❤ Support Us






